ধর্ষণ নিয়ে দর্শন!!–মাহমুদুল হাসান

unnamed-9.jpg

—————————-
চলুন একটু দেখে আসি…….
দর্শক হয়ে মাহমুদ কি দর্শন করে চলল…..

আমি এসেছি তা বন্ধ করতে, শেষ করতে এবং একদম চিরতরে ধ্বংশ করে দিতে! কারন তা অতি জঘন্য ও চরম নিকৃষ্ট। কিন্তু প্রতিবাদের জন্য আমি যে ভাষা আর পদ্ধতী ব্যাবহার করছি..তাতে দেখা যাচ্ছে হিতের বিপরীত হচ্ছে।

যা ছিল শহরে সীমাবদ্ধ, তা এখন বিদ্যুৎ গতিতে ছড়িয়ে গেছে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে।

যার জ্ঞান ছিল কতিপয় যুবক-যুবতী এবং বয়স্ক নারী-পুরুষের মাঝেই সীমাবদ্ধ । তাতো দেখছি এখন ছড়িয়ে পড়েছে কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে বাচ্চা ছেলে-মেয়ে পর্যন্ত। এমনকি বাদ যাচ্ছে না ‍সদ্যভূমিষ্ট নবজাতক শিশুটাও।

আজ ‍সবাই দেখছি এর ‍সাথে বেশ পরিচিত।
যে শিশুটা প্রতিবাদের ’প’ ও জানে না, তার হাতে এমন অশ্লীল শব্দের প্লেকার্ড দিয়ে শব্দটির সাথে তাকে পরিচয় করিয়ে পরক্ষভাবে তাকে অনুপ্রানিত করা হচ্ছে নাতো?
এমন অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ কাজে?

মা ও শিশু এক সাথে বসে দুপুরের খবর দেখছে। অধিক সচেতনতার জন্য যখন বার বার এমন খবর প্রচার করা হচ্ছিল, ঠিক তখন বাচ্চা মেয়েটি মাকে জিজ্ঞেস করল..মা ’ধর্ষণ’ মানে কি?
এটা কোন ধরনের সচেতনতা তা আমার বোধগাম্য নয়!!

বি.দ্র:{ কোন কিছু কারার পূর্বে তার সাথে পরিচিত হওয়াটা মুখ্য ব্যাপার। পরিচিত হওয়াটা অপরাধ না তবে নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে তা বড্ড পাপ বলে আমার অভিমত}

পেপার -পত্রিকা খুলে যেসব জরিফ দেখছি…তাতে মনে হচ্ছে এতো দিন তাদের কলমে কালি ছিল না অথবা পৃষ্ঠায় জায়গা ছিল না।হঠাৎ যেন বৃষ্টির বর্ষণের মত এ দেশে শুরু হয়ে গেল হিংস্রদের নির্মম ধর্ষণ। আমরাও সেগুলো নিয়ে আরম্ভ করলাম তীব্র তর্জন, চরম গর্জন। প্রতিবাদের জোয়ারে নিজের জীবন পর্যন্ত দিয়ে দিচ্ছি বিসর্জন।

মনে রাখা দরকার,
”দশে মিলে করি কাজ-হারি জিতি নাহি লাজ”
যার অর্থ…বেশী মানুষ খারাফ করলে আমিও যদি সে খারাফের অংশিদার হই তবে তাতে লজ্জ-শরমের কিছু নাই। খবরের কাগুজগুলো আমাদের সমাজটাকে এতো বেশী অশ্লীল বলে প্রচার করছে যা ইতোপূর্বে আমার দৃষ্টিগোচর হয়নি।
এর অর্থ কি দাড়াল? এমন অশ্লীল সমাজে বাস করে আমি যদি খারাফ হয়ে যাই এতে এতো লাজ-লজ্জার কিছু নাই।
এমন নয় কি?
আজ অসংখ্য অশ্লীল শব্দ আমাদের মুখে শুভা পায়। বলার সময় একবারো চিন্তা করিনা কি বের হচেছ আমার মুখ দিয়ে। কিসের চিন্তা মিন্তা আবার! আমিতো প্রতিবাদ করছি।
আমি প্রতিবাদের বিরোধী নই কিন্তু যখন এমন শব্দ মা-বাবা, ভাই-বোন ও বন্ধু-বান্ধুবীর সামনে অভিরাম প্রতিধ্বনিত হতে থাকে ঠিক তখনি আমার আপত্তি। দিনান্তে রাতের নির্জন বিছানায় বালিশের পাশে পড়ে থাকা ‍স্মার্টফোনের কোন এক এপসের সার্চবারে যখন জায়গা করে নেয় ওই প্রতিবাদী শব্দগুলি তখন আমার প্রশ্ন হয়…
এটা কি সেই অশ্লীলতা দুর করার প্রতিবাদ?
নাকি এটাকে প্রচার প্রসারের নতুন হাতিয়ার?

জানি এতো কিছুর পরেও পেট ভরেনি। যেন সব মাথার উপর দিয়ে গেল। ‍যদি তাই হয় তবে চলুন একটু ধর্ম নিয়ে ভাবি……….

চোখ রাখুন দ্বিতীয় পর্বে———–

————–
মাহমুদুল হাসান,শিক্ষার্থী-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Top