জামালপুরে বন্যার পানি বিপদ সীমার ৫৪ সেন্টিমিটার উপরে

Jamalpur-Flood-pic-13..07.19-01.jpg

রোকনুজ্জামান সবুজ জামালপুর ঃ

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে জামালপুরের যমুনা তীরবর্তী এলাকায় দ্রুত গতিতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। যমুনা নদীতে শনিবার দুপুরে বন্যার পানি বিপদ সীমার ৫৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ পাঠক আব্দুল মান্নান জানান, জামালপুর জেলার ইসলামপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনা নদীতে বন্যার পানি বিপদ সীমার ৫৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় ৬২ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যমুনায় দ্রুত গতিতে বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে জামালপুর জেলার ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ ও মাদারগঞ্জ উপজেলার যমুনা তীরবর্তী এলাকায় ক্রমেই বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, যমুনা থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও গত তিনদিনের টানা বর্ষণে জামালপুরের যমুনা তীরবর্তী এলাকায় দ্রুত গতিতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। বন্যার পানিতে ইতিমধ্যেই ইসলামপুরের চিনাডুলি ইউনিয়নের দক্ষিণ চিনাডুলি, দেওয়ানপাড়া, ডেবরাইপেচ, বলিয়াদহ, সিংভাঙ্গা, পশ্চিম বামনা, পূর্ববামনা ও গিলাবাড়ী অ ল সমূহের বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানির তীব্র ¯্রােতে চিনাডুলি ইউনিয়নের দেওয়ানপাড়া গ্রামের অন্তত: ৩০টি বসতভিটা ভেঙ্গে পড়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা আশপাশের উঁচু রাস্তায় আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ইসলামপুরের প্রজাপতি চরের শহিদুর রহমান বেপারী জানান, যমুনার মধ্যবর্তী দুর্গম হরিণধরা, জিগাতলা, বরুল, মন্নিয়া, প্রজাপতি, শিশুয়া, কাশাড়ীডোবা ও চেঙ্গানিয়া চরা লে বন্যার পানি হুহু করে বাড়ছে। রবিবার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যেই এসব চরা লের অন্তত: ৪ হাজার বাড়ি ঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এছাাড়াও যমুনার চরা লে ক্রমেই বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। জামালপুর জেলা পরিষদের সদস্য ওয়ারেছ আলী জানান, ইসলামপুরে যমুনার মধ্যবর্তী দুর্গম চরা ল ছাড়াও যমুনা তীরবর্তী পূর্ববেলগাছা, কুলকান্দি, মাইজবাড়ী, কাজলা ও কাঠমা গ্রামের অসংখ্য বাড়িঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে এবং ক্রমেই বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এছাড়াও স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, জেলার মাদারগঞ্জের গোপিন্দি, কয়লাকান্দি এবং দেওয়ানগঞ্জের চুকাইবাড়ি ও চিকাজানি এলাকার নি¤œা লে বন্যার পানি হুহু করে প্রবেশ করছে।
জামালপুর জেলা ত্রান ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নায়েব আলী জানান, জেলার ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জের বন্যার্তদের সাহায্যে ২০ মেট্রিক টন হিসাবে মোট ৪০ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও জেলার অপর ৫টি উপজেলার জন্য মোট ৫০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১ লক্ষ টাকা সমহারে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাাড়াও দুই হাজার পেকেট শুকনো খাবার জেলার ৭টি উপজেলায় সমহারে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে জেলার ৭টি উপজেলার বন্যার্তদের সাহায্যে ৩৬০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৫ লাখ ৫০ টাকা প্রস্তুুত রাখা হয়েছে।

Top