কচ্ছপ গতির উন্নয়ন ও গ্রামীণ মানুষের ভোগান্তি

66687017_615461782309325_8758694431269322752_n.jpg

———–
বাংলাদেশ বর্তমান বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। শহর থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়নের হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস থেকে শুরু করে ইন্টারনেট পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে প্রতিটি ঘরে ঘরে। গ্রাম আর শহরের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই বললে চলে। এক সময় গ্রামের মানুষগুলো জীবিকার সন্ধানে শহরে পাড়ি জমাতো। যার কারণে শহর আজ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে গ্রামের মানুষগুলোকে শহরে আর জীবিকার তাগিদে যেতে হয় না। বিশ্বায়নের যুগে এমনটাই হওয়া স্বাভাবিক। এতক্ষণ যা বলেছি তা ছিল আমার কল্পনা। এবার আসুন কেন বলেছি এটা আমার কল্পনা তার একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরছি। শহরে দীর্ঘ কয়েক বছর থাকার কারণে গ্রামের প্রতি একধরনের টান অনুভব করি। যার কারণে এই বছর ঈদের ছুটিতে গ্রামে গিয়েছিলাম। জেলা শহর থেকে গ্রামের বাড়ি দূরে হওয়ায় বাস থেকে নেমে সিএনজি চালিত গাড়িতে করে যেতে হয়।

বাস থেকে ঐ গাড়িতে উঠার পর আমার কল্পনা গুলো এক এক করে ধূলাবালিতে মিশে গিয়েছে। রাস্তা গুলোর বেহাল দশা যা দেখে মনে হয় এ যেন একটি মৃত্যুর ফাঁদ। এই রাস্তা গুলো এতটাই অকেজো হয়ে গেছে যে একজন সুস্থ মানুষও একবার যাতায়াত করলে অসুস্থ হয়ে যাবে।তখন আমার মনে প্রশ্ন জাগলো এই রাস্তাগুলো দিয়ে অসুস্থ মানুষকে হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে কি? গাড়ি চালককে জিজ্ঞেস করেছিলাম এই অবস্থা কতদিন ধরে আর আপনারা গাড়ি চালান কিভাবে? সে উত্তরে গাড়ি চালক বললেন,’এক দিন ছালাইলে গা ব্যথা হই যায় হরের দিন আর ছালাইতাম হারি না'(এক দিন গাড়ি চালালে শরীর ব্যথা হয়ে যায় পরের দিন গাড়ি চালাতে পারে না)।কিছু দূর গিয়ে দেখি কাজ ঠিকই হচ্ছে কিন্তু তা কচ্ছপ গতিতে।আবার কিছু কিছু রাস্তার কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না যার ফলে মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বলছি আমার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার সদর উপজেলার কথা। মাইজদি শহর থেকে পশ্চিমে যে রাস্তাগুলো আছে সেগুলোর এই বেহাল দশা থেকে মুক্ত করে জনজীবনের ভোগান্তি দূর করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। শুধু নোয়াখালী সদর উপজেলা নয় বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া উচিত বলে মনে করি। এই বিশ্বায়নের যুগে গ্রাম গুলো যেন পিছিয়ে না পড়ে তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন করুন।

———
লেখক: মোঃ মেহেদী হাসান
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ

Top