দ্বিতীয় দফা পরীক্ষায় দুধের নতুন ১০টি নমুনার ১০টিতেই মিললো এন্টিবায়োটিক

Milk_L-750x563.jpg

প্রথম দফায় পাওয়া গিয়েছিল ৩টি এন্টিবায়োটিক, এবার ৪টি

সিনজাত রহমান সানি,ঢাবিঃ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের দ্বিতীয় দফা পরীক্ষায় বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত (পাস্তুরিত) দুধের নতুন ১০টি নমুনার ১০টিতেই এন্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে।

শনিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানান ঢাবির বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের সদ্য সাবেক পরিচালক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক।

তিনি জানিয়েছেন, প্রথম দফায় পাওয়া গিয়েছিল ৩টি এন্টিবায়ােটিক কিন্তু এবার পাওয়া গেছে ৪টি এন্টিবায়ােটিক। এইগুলো হলো- অক্সিটেট্রাসাইক্লিন, এনরোসিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন এবং লেভােক্সাসিন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৫ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ফার্মেসি লেকচার থিয়েটারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুধ ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য পরীক্ষার রিপাের্ট পেশকালে উপস্থিত গণমাধ্যমের মাধ্যমে সৰ সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলাম যে, পাস্তুরিত ও ‘অপাস্তুরিত দুধে মানবদেহের চিকিৎসায় ব্যবহৃত এন্টিবায়োটিক উপস্থিতি সনাক্ত প্রেক্ষিতে জনস্বাস্থ্য রক্ষার জরুরি প্রয়োজনে জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থাসমূহ যেমন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই), বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান (আইপিএইচ) ইত্যাদি ল্যাবরেটরি গুলো যেন এখন থেকে নিয়মিতভাবে দুধে এন্টিবায়োটিক আছে কিনা তা পরীক্ষা করা হয়। বিএসটিআইয়ের দেড় যুগের পুরনাে দুধের স্ট্যান্ডার্ডে (Bangladesh Standard, BDS 1702. 2002) বর্তমানের নয়টি পরীক্ষার সাথে কমপক্ষে এন্টিবায়োটিক ও ডিটারজেন্টের উপস্থিতি পরীক্ষার মতো দুটি পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত করে দুধের এই স্ট্যান্ডার্ডকে। যুগোপযোগী করার জন্য আমরা আহ্বান জানিয়েছেন । এতে আমরা আরাে জানিয়েছিলাম যে, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার অনুভব থেকেই আমাদের সীমিত সামর্থ্যে আমরা এই পরীক্ষাটি মাঝে মাঝে করার চেষ্টা করবাে।

বিজ্ঞপ্তিতে অারও বলা হয়,গত সপ্তাহে আমরা এই পরীক্ষাটি পুনরায় সম্পন্ন করেছি। প্রথমবারের মতো এবারও পূর্বোক্ত ৫টি কোম্পানির ৭টি পাস্তুরিত প্যাকেটজাত দুধের একই জায়গা থেকে সংগৃহীত নমুনা এবং একই জায়গা থেকে খোলা দুধের সংগৃহীত ৩টি নমুনা, অর্থাৎ সর্বমোট ১০টি নতুন নমুনায় এন্টিবায়োটিকের উপস্থিতি একই নিয়মে একই উন্নত ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। এর ফলাফল আগের মতোই উদ্বেগজনক। এবারও সবগুলো নমুনাতেই এন্টিবায়োটিক সনাক্ত করা গেছে। এন্টিবায়োটিকের মোট সংখ্যা ছিল ৪টি (অক্সিটেট্রাসাইক্লিন, এনরোফ্লক্সাসিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন এবং লেভোফ্লক্সাসিন)। এর মধ্যে আগের বারে ছিল না এমন এন্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে ২টি (অক্সিটেট্রাসাইক্লিন ও এনরোফ্লক্সাসিন)।

১০টি নমুনার মধ্যে ৩টিতে এন্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে ৪টি, ৬টিতে এন্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে ৩টি এবং ১টিতে এন্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে ২টি।

অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থাগুলো দুধে এন্টিবায়োটিকের উপস্থিতির বিষয়টি হালকাভাবে না নিয়ে তা নিয়মিতভাবে পরীক্ষার ব্যবস্থা নেবে এবং এভাবে দেশের দুধের মানের উন্নতি ঘটবে বলে অাশা করি। উপরন্তু, জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগজনক এই সমস্যাটি সমাধানে উদ্যোগী হওয়ার পরিবর্তে বিশেষ কোন সরকারি কর্মকর্তাকে আর বিদেশি চক্রান্ত খু্ঁজতে হবে না।

এর অাগে গত ২৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদ ও ফার্মেসি বিভাগের বরাতে তেল, দুধ ও মসলাসহ ৭১টি খাদ্যপণ্যের মান সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এরপর দিন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের গবেষণার ফল মিথ্যা বলে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন।

গত ১০ জুলাই দুধ নিয়ে করা গবেষণায় গবেষণা প্রটোকল না মানায় অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের বিরুদ্ধে লিগ্যাল অ্যাকশন নেওয়া হবে বলে জানায় মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াসি উদ্দিন।

Top