কিশোরদের ধূমপান বন্ধে চাই অভিভাবকের সতর্কতা

PicsArt_06-22-09.46.56.jpg

—————————-
ধূমপান নামক বিষপান যদিও আগে বয়স্কদের করতে দেখা যেতো,কিন্তু সম্প্রতি সারা বিশ্বে কিশোর ধূমপায়ীর সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলছে । শুধুই ধূমপান নয়,পাশাপাশি জড়িয়ে পড়ছে এ্যালকোহল কিংবা মদ্যপানেও।
২০০৭ সালের হিসাব অনুযায়ী,বাংলাদেশে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ শিশু (১৩ থেকে ১৫ বছরের মাঝে) তামাকজাত পদার্থ সেবন করে।
সম্প্রতি ‘এভন লংগিটিউনাল স্টাডি অব প্যারেন্টস এন্ড চিলড্রেন’ শিরোনামের এক গবেষণায় দেখা গেছে, কিশোর বয়সে ধূমপান কিংবা এ্যালকোহোল পানের সাথে জড়িয়ে পড়লে ১৭ বছর বয়স পেরোনোর আগেই তাদের ধমনী মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয় এবং স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। গবেষণাপত্রটি ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে প্রকাশিত হয়।
যার ফলে তাদের হৃদপিণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং রক্ত প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। পরবর্তী জীবনে তাদের স্ট্রোক কিংবা হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
অপরদিকে গবেষণা থেকে আরো উঠে এসেছে যে, কিশোর বয়সে পার হওয়ার আগেই যারা ধূমপান এবং মদ্যপান ছেড়ে দেয় তাদের ধমনী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
গবেষকরা ব্রিস্টল শহরে ২০০৮ সাল থেকে শুরু করে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১২৬৬ জন তরুণের উপর এ গবেষণা চালায়। এবং প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ পরিবারের স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য সংগ্রহ করে।
অংশগ্রহণকারীরা ১৩,১৫ ও ১৭ বছর বয়স এই তিন সময়কালে তাদের ধূমপানের বিস্তারিত বিবরণ গবেষকদের কাছে পেশ করে। এবং পরীক্ষা করা হয় ,তাদের ধমনীতে কি ধরনের সমস্যা হচ্ছে!
এতে মূলত দুটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়,
১- তারা জীবনে কি পরিমাণ সিগারেট খেয়েছে।
২- তারা কত বছর বয়স থেকে এলকোহল পান শুরু করেছে।
এতে দেখা যায়, যারা ১০০ টির অধিক সিগারেট খেয়েছে এবং এলকোহল পানে অধিক আসক্ত তাদের তুলনায় ২০ টির কম সিগারেট খাওয়া কিশোরদের ধমনী অধিক নিরাপদ।
গবেষক দলের অন্যতম একজন প্রফেসর জন ডিনফিল্ড বলেন, ‘ তরুণ বয়সেই ধূমপান এবং এলকোহল পান ছেড়ে দিলে ধমনীকে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় আনা সম্ভব’।(তথ্যসূত্র : দৈনিক যায়যায় দিন)।

ধূমপান ও যাবতীয় নেশার কারনে শারিরীক সমস্যার সাথে সাথে প্রচুর অর্থব্যয়ও হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
তাই আসুন সব অভিভাবক এবং বন্ধুরা সময় থাকতে ধূমপায়ী সন্তান এবং বন্ধুদের এসব থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করি।
——————
ছামির আলী,
সুফিয়া নূরীয়া ফাযিল মাদ্রাসা,
মিরসরাই, চট্টগ্রাম।

Top