কালারমারছড়ার চালিয়াতলীতে এক তরুণীকে ১৪ জন যুবক মিলে গনধর্ষণ

64886568_876898889329612_7070229181031776256_n.jpg

আবু বকর ছিদ্দিক, মহেশখালী :

মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নে চালিয়াতলী পাহাড়ে নিয়ে এক তরুণী (১৬) কে ১৪ জন যুবক মিলে পালাক্রমে গনধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে ।ধর্ষণকারী সবাই স্থানীয় সিএনজি চালক বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে ।

ভিকটিম তরুণীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, তিনি গত ৭ জুলাই সন্ধা ৬ টার সময় চকরিয়া থেকে মাতারবাড়ী তার আত্নীয়ের বাড়ীতে যাচ্ছিলেন । বদরখালী স্টেশনে নেমে মাতারবাড়ী যাওয়ার জন্য গাড়ী খুজতে থাকেন তিনি । এ সময় একজন সিএনজি চালক মাতারবাড়ী যাওয়ার কথা বলে মেয়েটিকে তার সিএনজিতে তুলে বদরখালী-মহেশখালী ব্রীজ পার হয়ে সিএনজি চালক সু-কৌশলে আরো ৭/৮ জন সিএনজি চালককে ফোন করে চালিয়াতলী স্টেশনে থাকতে বলেন । সন্ধার সময় সিএনজিটি চালিয়াতলী স্টেশনে পৌছে উক্ত গাড়ীতে আরো তিন জন যুবক যাত্রী সেজে উঠেন । কিন্তু সিএনজিটি মাতারবাড়ী না গিয়ে শাপলাপুরের দিকে চলে যায় । এ সময় মেয়েটি চিৎকার দিলে গাড়ীতে যাত্রী সেজে উঠা যুবক তিন জন মেয়েটির মুখ চেপে ধরেন বলে জানান ভিকটিম তরুণী । গাড়ীটি চালিয়াতলী স্টেশন থেকে কিছু দুর দক্ষিণে গিয়ে পাহাড়ের ঢালোতে দাড় করায় । সিএনজিটির সাথে চালিয়াতলী থেকে আরো তিনটি সিএনজি গিয়ে দাড়ায় সেখানে । সেখান থেকে ১৪/১৫ জন যুবক মিলে মেয়েটিকে জোর-পুর্বক পাহাড়ে নিয়ে যায় । ভিকটিম তরুণীকে পাহাড়ে তুলে তারা সবাই পালাক্রমে জোর-পুর্বক ধর্ষণ করে বলে জানান ভুক্তভোগী তরুণী । এ সময় ভিকটিম তরুণীকে ধর্ষণ ছাড়াও শারীরিক ভাবে নির্যাতন করেছে বলেও জানান তিনি । নরপশু যুবকরা রাতভর ধর্ষণ করে মেয়েটিকে অচেতন অবস্থায় পাহাড়ে ফেলে আসে । পরে ভোর ৪ টার সময় মেয়েটির জ্ঞান ফিরলে সেখান থেকে আস্তে আস্তে কোন রকম চালিয়াতলীস্থ মাতারবাড়ী রাস্তার মাথা আসেন । ভিকটিম তরুণী আরো জানান,মাতারবাড়ী রাস্তার মাথায় এসে গাড়ীর জন্য অপেক্ষা করতে থাকে মাতারবাড়ী যেতে । সেখান থেকে ভিকটিম তরুণী একটি সিএনজি যোগে ভোরে মাতারবাড়ী মহিলা ইউপি মেম্বার শারমিন আক্তারের বাড়ীতে চলে যায় ।
এদিকে মাতারবাড়ীর ইউপি মহিলা মেম্বার শারমিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভিকটিম তরুণীর ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন , মেয়েটি আামকে দত্তক মা ডেকেছেন সে সূত্রে তিনি আমার মেয়ে । মেয়েটি তার বাড়ী চকরিয়া থেকে আমার বাড়ীতে আসছিল , আসার সময় পথিমধ্যে মহেশখালী চালিয়াতলী স্টেশন থেকে গত ৭ জুলাই সন্ধার সময় ১৪/১৫ জন লম্পট সিএনজি চালক তাকে অপহরণ করে পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে গনধর্ষণ করে ।

এদিকে কয়েক দিন ধরে ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে একটি প্রভাবশালী মহল জোর তদবির চালাচ্ছে বলে জানা গেছে । অপর দিকে ১২ জুলাই শুক্রবার মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জামিরুল ইসলাম ঘটনার খবর পেয়ে তাতক্ষণিক মাতারবাড়ী পুলিশ ক্যাম্পের আইসি আনিস উদ্দিন কে ভিকটিম মেয়েটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন । মাতারবাড়ীর আইসি আনিস ধর্ষিতা তরুণীকে তার দত্তক মা ও মাতারবাড়ীর মহিলা ইউপি মেম্বার শারমিনের বাড়ী থেকে উদ্ধার করে উক্ত মহিলা মেম্বার সহ শুক্রবার সন্ধা ৬টার সময় তাদের কে পুলিশ হেফাজতে মহেশখালী থানায় নিয়ে যায় । এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভিকটিম তরুণী ও মাতারবাড়ীর মহিলা ইউপি মেম্বার শারমিন মহেশখালী থানা হেফাজতে রয়েছেন । জানা যায় ধর্ষিতা তরুণীর বাড়ী চকরিয়া উপজেলার ডুলহাজারা ইউনিয়নের রংমহল এলাকার সৌদি প্রবাসী নুরুল আবছারের মেয়ে আসমাউল হোসনা , তার নানার বাড়ী মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে বলেও জানা গেছে । এদিকে ধর্ষকদের গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চলছে বলে জানান মহেশখালী থানা পুলিশ ।

Top