কক্সবাজারে কয়েকটি উপজেলায় পানি বন্দি লাখো মানুষ!

66426011_351268858877974_4979243714686746624_n.jpg

রকিয়ত উল্লাহ, কক্সবাজার :

কক্সবাজারের চকরিয়ায় টানা এক সপ্তাহ ধরে থেমে থেমে ভারী বর্ষণ ও মাতামুহুরীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের বেশিরভাগ ইউনিয়নই বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া পৌর এলাকার বেশিরভাগ নিন্মাঞ্চল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এখনো থেমে থেমে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় মাতামুহুরী নদীতে ঢলের পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি নিন্মাঞ্চল ডিঙ্গিয়ে এখন বাড়িঘরে প্রবেশ করায় উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে বেশিরভাগ ইউনিয়নের আমন বীজতলাসহ শতশত একর ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঢলের পানি প্রবেশ করায় বন্যাকবলিত বেশিরভাগ ইউনিয়নের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অঘোষিত বন্ধ রয়েছে। বন্যার পানিতে বিভিন্ন ইউনিয়নের সড়কগুলো ডুবে যাওয়ায় উপজেলা সদরের ওইসব ইউনিয়নের সকল ধরনের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। গত শুক্রবার থেকে ভারী বর্ষণ শুরু হওয়ার কারনে পাহাড় ধ্বসসহ যে কোন মানবিক বিপর্যয় ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির আশংকা থাকায় পাহাড়ের চূড়ায়, পাহাড়ের পাদদেশ ও পাহাড়ের আশেপাশে বসবাসকারীদের অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। ফলে এসব লোকজন প্রশাসনের নির্দেশনা মতো দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ায় পাহাড় ধ্বসসহ যে কোন মানবিক বিপর্যয় ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি থেকে লোকজন রক্ষা পেয়েছে।

এদিকে ভারী বর্ষনের দিন থেকে বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। যে কোন দূর্যোগ মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরুদ্দীন মোহাম্মদ শিবলী নোমান।
অপরদিকে আরেক দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় বেডি বাঁধ না থাকায় স্বাভাবিক জোয়ারে পানিতে প্লাবিত হয় কয়েকটি গ্রাম,সেখানে ভারী বর্ষণের ফলে পানির নিচে তলিয়ে গেছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ,আশ্রয় হীন হয়ে পড়ছে গবাদিপশু সহ জনমানব! কুতুবদিয়া বাসির প্রাণের দাবী হয়ে পড়েছে অরক্ষিত বেড়ি বাঁধ নির্মাণ করে জননিরাপত্তার ব্যবস্থা করা! অপরদিকে আরেক উপজেলা মহেশখালীর মাতারবাড়ী, ধলঘাটায় পানি বন্দি হয়ে পড়েছে হাজারো মানুষ! অন্যদিকে কক্সবাজার সদর, রামু ও টেকনাফ উপজেলায় ও কিছু কিছু গ্রাম প্লাবিত হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে!

Top