আইন বিষয়ক প্রশ্ন ও উত্তর। –এডভোকেট মো: সাইফুদ্দীন খালেদ।

IMG_20190706_162129.jpg

———–
ফৌজদারি আইন এবং দেওয়ানি আইনের মূল পার্থক্য কি? বাংলাদেশে আইন বিষয়ক আলোচনায় প্রথমেই আসে ফৌজদারি এবং দেওয়ানি আইন৷ ফৌজদারি আইনের মামলায় অভিযোগকারী/সংবাদদাতা আসামির শাস্তি দাবি করেন৷ অন্যদিকে দেওয়ানি আইনের মাধ্যমে অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়৷ সাধারণভাবে হত্যা, সন্ত্রাস, হত্যাচেষ্টা, ধর্ষণ এই ধরনের অপরাধের মামলা হয় ফৌজদারি আইনে৷ আর প্রধানত জমি জমা, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের মামলা হয় দেওয়ানি আইনে৷ এই দু’ধরনের আইনের মামলা তদন্ত, পরিচালনা আর বিচারের জন্য আছে আরো আইন৷ সিভিল প্রসিডিউর কোড এবং ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোড ছাড়াও সাক্ষ্য আইন এখানে মূল ভূমিকা পালন করে৷

‘বেনিফিট অফ ডাউট’ এর সুযোগ কে পেয়ে থাকেন?
ফৌজদারি আইনের অধীনে কোনো মামলা হলে তা সাক্ষ্যপ্রমাণ দিয়ে শতভাগ প্রমাণ করতে হয়৷ কোনো সন্দেহ রেখে কাউকে শাস্তি দেয়া যায় না৷ আসামিরা সব সময়ই ‘বেনিফিট অফ ডাউট’-এর সুযোগ পেয়ে থাকেন৷ কারণ এই আইনের বিচারে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে৷ তাই ন্যূনতম সন্দেহ রেখেও কাউকে মুত্যুদণ্ড দেয়া যায় না৷ এখানে অপরাধ প্রমাণ মানে শতভাগ প্রমাণ৷ অন্যদিকে দেওয়ানি মামলায় যেহেতু শাস্তি নয় অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়, তাই কোনো পক্ষ তার দাবি শতকরা ৫০ ভাগের বেশি প্রমাণ করতে পারলেই তাঁর পক্ষে রায় পাবেন৷

সাধারণ ডায়েরী/ জেনারেল ডায়েরী (জি.ডি) কি?
জিডি হচ্ছে জেনারেল ডায়েরী বা সাধারণ ডায়েরী। এই ডায়েরী হলো অপরাধ বা ক্ষতি সংঘটনের আশঙ্কাজনিত বিবরণ। আপনি যদি আশংকা করেন যে,কেউ আপনার ক্ষতি করতে পারে বা আপনার ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন ক্ষেত্রে আপনি আইনের সহায়তা চান,তাহলে উক্ত আশংকার বিবরন দিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবার জন্য থানায় দরখাস্ত দেয়াকেই জেনারেল ডায়েরী বা সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করা বলে।

কোন কোন ক্ষেত্রে জি.ডি করা যায়?
অপরাধ সংসংঘটনের পূর্বে জিডি দায়ের হয়। কোন ব্যক্তি তার নিজের বা পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে যেকোন ব্যক্তি কর্তৃক অপরাধ সংঘটনের আশংকা থাকলে বা কেউ হুমকি দিলে, কিছু হারিয়ে গেলে বা হারানোর আশংকা থাকলে, বাড়ীর কাজে অপরিচিত লোক নিয়োগ দিলে বা না বলে চলে গেলে সেক্ষেত্রে জিডি করতে হয়।

এজাহার কি?
অপরাধ সংঘটনের পরে এজাহার দায়ের হয়। অপরাধ সম্পর্ক থানায় প্রথম যে সংবাদ দেয়া হয় সেটাই এজাহার বা এফআইআর (ফার্ষ্ট ইনফরমেশন রির্পোট)। এজাহার বা এফআইআর হচ্ছে ঘটনার লিখিত প্রথম বিবরণ। এর ওপর ভিত্তি করেই তদন্ত কাজ শুরু হয়। এজাহার বা এফআইআর মৌখিকভাবেই দেয়া যেতে পারে আবার লিখিতভাবেও দেয়া যেতে পারে। ঘটনার তারিখ, সময়, স্থান, বিবরন ও যে কারনে মামলা করতে চান সে বিষয়ে সুষ্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকতে হবে। মূলত এজাহার করার মাধ্যমে মামলা করা হয়।

কে এফআইআর বা এজাহার করতে পারে?
যার বিরুদ্ধে বা যার পরিবারের বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, এমন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তার পক্ষে যে কোন ব্যক্তি যিনি অপরাধটি সংঘটিত হতে দেখেছেন, তিনি এজাহার বা এফআইআর করতে পারেন, এছাড়া যে কেউ যিনি সংঘটিত ঘটনা জানেন বা প্রত্যক্ষ করেছেন তিনিও এজাহার বা এফআইআর করতে পারেন।

জিডি বা এজাহার করতে থানায় কোন টাকা লাগে কি?
জিডি এবং এফআইআর বা এজাহার কোনটা করার জন্যই থানায় টাকার প্রয়োজন হয় না। সংশি­ষ্ট থানায় গেলেই দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা জিডি এবং এফআইআর লিপিবদ্ধ করবেন।

এজাহার কিভাবে করবেন?
কোনো অপরাধ সম্পর্কে নিকটস্থ থানায় এজাহার করতে হবে। এজাহারের আবেদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখতে হবে। লিখিত আকারে দেওয়া হলে সাদা কাগজের এক পিঠে লিখতে হবে। ঘটনার পূর্ণ বিবরণ, ঘটনার স্থান, সময় ও কীভাবে ঘটনা ঘটল, আসামির নাম ঠিকানা জানা থাকলে তার বিবরণ স্পষ্টভাবে লিখতে হবে। এজাহারকারীর পূর্ণ ঠিকানা ও সই থাকতে হবে। যদি মৌখিকভাবে থানায় এজাহার দেওয়া হয়, তাহলে থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তা লিখবেন। তারপর এজাহারকারীকে পড়ে শোনাতে হবে এবং তাঁর স্বাক্ষর নিতে হবে। যে কর্মকর্তা এজাহার লিখবেন, তিনিই সিল ও সই দেবেন। এজাহার গ্রহণকালে পুলিশের কর্মকর্তাকে যথেষ্ট আন্তরিক ও সতর্ক থাকা উচিত।

থানায় মামলা নিতে না চাইলে কি করবেন?
থানায় কোন কারনে মামলা গ্রহণ করতে না চাইলে এবং মামলা করার উপযুক্ত ভিত্তি থাকলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট থানার আমলী আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে।

Top