ভারত হারলে জিতে যায় কেন দুঃখিনী মায়ের বাংলাদেশ।

IMG_20190711_160357.jpg

এম.আর.বাবু।।
৭১ পটভূমির কারণে বাংলাদেশের জাত শত্রু পাকিস্তান। কিন্তু আজো পাকিস্তান আমাদের কাছে চিরশত্রু। কারণ তারা আমাদের নির্যাতন আর শোষণের স্টীম রোলার চালিয়ে দিয়েছিল। আজ কিন্তু আমাদের সাথে পাকিস্তানের যোগাযোগ নেই। নেই পূর্ব পাকিস্তান আর পশ্চিম পাকিস্তান নামে আলাদা কোন কিছু আজ আমরা দুই দেশ দুই মেরুতে রয়েছি।
প্রসঙ্গ ভারতের যে কোন পরাজয়ে আমরা এত খুশি হই কেন। উত্তর খুঁজলে অনেক দুঃখ কষ্ট চলে আসবে।বন্ধু রাষ্ট্রের আড়ালে আমাদের দীর্ঘদিন দিন ধরে নানা নির্যাতনের কারণে আজ ভারত আমাদের অপছন্দের একটি দেশের নাম।

পাকিস্তান আমাদের জাতশত্রু ছিলা। তারা নিজেদের ক্ষমতা রক্ষায় আমাদের নির্যাতন করত। তাই আমদের পূর্ব পুরুষরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ব করে সেই ইতিহাসের অধ্যায় সমাপ্ত করে দিয়েছেন। কিন্তু ভারত আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র হয়ে প্রতিনিয়ত আমাদের খবরদারি করে নিচে রাখতে চায়। সুযোগ পেলেই প্রতিবেশি বন্ধু রাষ্ট্রকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে।
যেমনঃ আমাদের বর্ডারে পাখির মত বাংলাদেশীদের গুলি করে মারে। একটু কিছু হলেই গুলি আর গুলি। যেন সীমানাটা শুধু ভারতের। যার বিচার পর্যন্ত করে না ভারত সরকার। ফেলানিকে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখে। কিন্তু বিচার চেয়েও আমরা পরাজিত হই।

আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে সীমান্তে জিরো রেখায় ভারতের কাটাতারের বেড়া নির্মাণ তা শুধু তাদের ক্ষমতা আর দাদাগিরির মাধ্যমে করেছিল। আমাদের বাধা প্রধানের শক্তিও তখন ছিলো না। কারণ জ্বলে বাস করে কুমিরের সাথে যুদ্ব করার মত শক্তি আমাদের নেই।
ভুলে গেছেন তিস্তা চুক্তি। আন্তর্জাতিক পানি বন্টন আইন অমান্য করে ভারত তিস্তার উপর ব্যারেজ নির্মাণ করে আমাদের ন্যায্য হিস্যার পানি তারা সারা বছর ব্যাবহার করে। তখন আমাদের তিস্তা নদী পানির অভাবে শুকিয়ে যায়। ঠিক তেমনি ভারতে গঙ্গা নদীতে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করে আমাদের নদীগুলো মৃতপ্রায় করে ফেলেছে। সাথে সাথে পানির অভাবে আমাদের কৃষকেরা ফসল ফলাতে পারেনা। সারাবছর পানি না দিলেও যখন ভারত বন্যা হয় কিংবা সম্ভাবনা থাকে ঠিক তখনি তারা সব বাঁধ খুলে দেয়। আর তখন আমরা নিমিষেই ভারতের উজান থেকে আসা পানিতে তলানিতে ডুবে রই। এ যেন তাদের দাদাগিরীতে আমারা তলানিতে ডুবে জল খাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও ভারতের হাত সবচেয়ে লম্বা। এমনি লম্বা যে চাইলেই একটু বিবরণ দেবো তার উপায় নেই। তবে আমাদের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের পাশাপাশিতে তাদের গুপ্তচরে ভরপুর আমাদের দেশ। বিশেষ করে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা “রো” এর লোক কোথায় নেই তা বলা মুশকিল।

আমাদের দেশে যখন কৃষকরা ন্যায্য মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারছেনা। সস্থায় ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। ঠিক তখনি চড়া মূল্যে ভারত থেকে চাল আমদানি করতে হয়। অথচ দেশে তখন ধানের মৌসুম। আমাদের বাজার আজ সর্বক্ষেত্রে ভারতীয় পণ্যের দখলে।

শুধু এখানেই নয় পোষাক শিল্পে দ্বিতীয় অবস্থানকারী আমাদের বাংলাদেশের কাপড়ের বাজার দখলে ভারতের। অথচ দেশ থেকেই নামী দামী ব্রান্ড কাপড় তৈরি করে নিয়ে যায়। আর নিজ দেশে ভারতের সাথে টেক্কা দিতে পারেনা বাংলাদেশের পোশাকশিল্প। একসময়ত প্রতিনিয়ত আমাদের পোশকশিল্পে আগুন লেগে যেত। অনেকেই সন্দেহের চোখে তাকাতেন ভারতের দিকে। কারণ পোশাকশিল্পে ভারতের একমাত্র প্রতিযোগি বাংলাদেশ। কিন্তু সন্দেহের তীর যার দিকেই লাগুক। কয়েকদিন পর পর আমাদের গার্মেন্টসগুলোতে আগুন লেগে আমাদের বাজার নষ্ট। তারপর আমাদের পোশাকশিল্প আবার ঘুরে দাঁড়ায়।
আমাদের সীমান্ত দখলে কারো নাম থাকলে সেটাও প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের নাম। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফয়ের হাতে প্রায়ই সীমান্ত দখল হয়ে যাওয়ায় কারণে আমাদের তৎকালীন চৌকস সীমান্তের অতন্দ্র পাহারী বিডিআরের সাথে গুলি বিনিময়ের সাথে লড়াই হত রক্তক্ষয়ী । দখল পূর্ণদখলের মধ্যে চলত। আর শেষ হত লাশের মিছিলের মধ্যে।

এরকম হাজারো উপমা হাজারো ক্ষতির তালিকা শেষ করা যাবেনা। আমাদের উন্নয়নে পাশের দেশ ভারত খুবি ক্ষুব্ধও। এর রেষ খেলা পর্যান্ত গড়ায়। ভারতের প্লেয়ার স্লেজিং পর্যন্ত ক্রিকেট খেলায় বাংলাদেশীদের করত। আজ কিন্তু সারা বাংলাদেশ ভারতের দীর্ঘ অত্যাচারের কারণে ক্রিকেট মাঠে কিংবা যে কোন যায়গায় এই উগ্র জাতিদের পরাজয় দেখলে আনন্দে মেতে উঠে। আজ ভারতের পরাজয় মানে আমাদের ঈদের খুশি।

আমাদের একটু একটু জমানো ক্ষোভ আজ ভারতের প্রতি আমাদের ঘৃণার জন্ম দিয়েছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের উন্নয়নে যতটুকু সাহায্য করার কথা ছিল তারা তা না করে আমাদের কীভাবে নিচে রাখা যায় সেই কাজে ব্যাস্ত। যা হউক এবারের বিশ্বকাপে ভারত হেরে যাওয়ায় জিতে গেছে বাংলাদেশ। জিতে গেছে পৃথিবীর বুকে নির্যাতিত হওয়া ফেলানিরা। জিতে গেছে সীমান্তের সন্তানহারা মায়েদের দুঃখ। মুছে গেছে আমাদের পানি না পাওয়ার দুঃখ।

Top