‘ঢাকাইয়া গলিবয়’ খ্যাত রানাকে স্কুলে পড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন মাহমুদ

15578945_581380005394938_5304322487595424596_n.jpg

সম্প্রতি ‘আমি ঢাকাইয়া গলিবয়’ নামের একটি হিপহপ বা র‌্যাপ গান বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। পুরান ঢাকার কামরাঙ্গীচরে ৮নাম্বার গলিতে থাকে ১০ বছর বয়সী রানা মৃধা। ‘ঢাকাইয়া গলিবয়’ গানটি গেয়েছে সে। রানা অভাবের তাড়নায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফুল বিক্রি করে। আর ওর ‘মা’ অন্যের বাসায় কাজ করে এভাবেই চলে ওদের সংসার। রানা ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হলেও বেতন দিতে না পারায় পড়াশুনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। রানার এই কষ্টের জীবন নিয়েই লেখা হয়েছে গানটি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই গানটি ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছে। আর এ গানটি লেখা, লিরিক্স, কম্পোজ, ভিডিও এডিটিং থেকে সুরে করে সবকিছুর মূলে যিনি ছিলেন তিনি হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের আরবী বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ হাসান তবীব। ৯ জুন, ২০১৯ তার সাথে কথা হয় মুহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনের সাথে।

ইলিয়াস: আপনার লেখা এবং গাওয়া ‘১২০ দেশের মুদ্রার নাম’ ‘সাধারণ জ্ঞানের গল্প’, ‘ডাকসু এলো ফিরে’, ‘আমরা ঢাবির গর্বিত ঢাবিয়ান’ গানের পরে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ানো ‘ঢাকাইয়া গলিবয়’ নিয়ে আপনার অনুভূতি কি?
মাহমুদ: আসলে আমার অনুভূতি বলতে তেমন কিছুই নেই। আমি কবিতা আবৃত্তি করি। ‘র‌্যাপ গান’ ও একপ্রকার ‘রিদম অফ পোয়েট্রি’। আমি আসলে গায়ক নই। তবে এই গানটির মাধ্যমে রানার কিছু সুযোগ সৃষ্টি হবে এটুকুই প্রাপ্তি।

ইলিয়াস: রানাকে নিয়ে আপনার কোনো স্বপ্ন আছে কি?
মাহমুদ: আমি চিন্তা করেছি রানাকে আগামী বছর একটি আবাসিক স্কুলে ভর্তি করাবো। যাতে ওর পড়াশুনা করার স্বপ্ন পূরণ হয়। রানা যেহেতু একজন আর্টিস্ট সেহেতু ওর পড়াশুনার খরচ মেটাতে চেষ্টা করবো প্রতিবছর ওর জন্য কিছু কাজ খুঁজে দিতে যার মাধ্যমে ওর পড়াশুনা এবং পরিবারের খরচ মেটাতে পারে।

ইলিয়াস: ‘র‌্যাপ গান’ নিয়ে আপনার কোনো ভাবনা আছে কি?
মাহমুদ: আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন, বর্তমানে যে র‌্যাপ গান গুলো গাওয়া হয় তা বকাবাজি এবং গালাগালিতে ভরপুর। খুবই কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীল শব্দের সংমিশ্রন থাকে গানগুলোতে। আমি চাচ্ছি র‌্যাপ গান এর আসল রূপ ফিরিয়ে দিতে যার মধ্যে কিছু বার্তা থাকবে, গালাগালি আর অশ্লীলতা নয়। এছাড়া আমি আর একটি কাজ করতেছি সেটি হল পড়াশুনা ভিত্তিক র‌্যাপ গান। যার মাধ্যমে কবিতার মতো কঠিন বিষয়গুলো শিক্ষার্থীরা সহজে মনে রাখতে পারবে। এটিই আমার সবচেয়ে বড় প্রজেক্ট। ভকাবুলারি, সাধারণ জ্ঞান, মুদ্রার উপর ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি কাজ ও করেছি।

ইলিয়াস: আপনার বর্তমানে বেশি জোঁক কিসের প্রতি?
মাহমুদ: আমি বর্তমানে দুটি বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রথমত হলিউড সিনেমায় যে ভিডিওগ্রাফি ব্যবহৃত হয় তার কাজ শিখছি। দ্বিতীয়ত আরবী সাহিত্যের বিশাল ভান্ডার থেকে বাংলা ভাষার ভান্ডারকে যাতে আরো সমৃদ্ধ করতে পারি, উভয়ের সংমিশ্রন ঘটাতে পারি তার জন্য পড়াশুনা করছি। আমাদের দেশের অনেক লেখক ইংরেজি সাহিত্য থেকে সংগ্রহ করে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। তবে আরবী সাহিত্য থেকে বাংলায় কাজ খুব কম রয়েছে।

ইলিয়াস: আপনি তো কবিতা লিখেন ইংরেজি এবং আরবী কবিতাগুলো আবৃত্তিও করেন। এখন পর্যন্ত আপনার প্রকাশিত কোনো বই আছে কি এবং আপনার এই লেখালেখির হাতে খড়ি কখন থেকে শুরু হয়?
মাহমুদ: আমার লেখালেখি এবং মিউজিক তৈরির কাজ শুরু হয় ক্লাস নাইনে থাকতে। আর আলিমে (এইচএসসিতে) থাকতে আমার প্রথম কবিতার বই ‘আমি মানুষ বলি’ প্রকাশিত হয়। ব্যাপক সাড়াও ফেলেছিল বইটি। দ্বিতীয় আর একটি সংকলন বই লিখেছি।

ইলিয়াস: আপনি একটি ভিডিও তৈরি করেছিলেন ‘আমি আরবী বিভাগে পড়ে গর্বিত’। কিন্তু অনেকেই আছেন যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পালি, সংস্কৃত, আরবী, ফারসি বিভাগে ভর্তি হন তারা খুবই হতাশায় ভুগেন এই ভেবে যে এই সাবেজেক্টে পড়ে কি হবে! এর ভবিষ্যৎ কি! কেউ কেউ আবার পড়াশুনা ছেড়ে দেন। অনেকে আবার মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়েন তাদের উদ্দেশে আপনার কি কিছু বলার আছে?
মাহমুদ: আসলে দেখুন পৃথিবীতে কোনো পজিশন থেকে কোনো পজিশন গড়া সম্ভব নয়। কেউ চা বিক্রি করা থেকে প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। রাষ্ট্রপতির সন্তান হয়েও অনেকে কিছু করতে পারেন না। সব পজিশন থেকে সব পজিশনে যাওয়া সম্ভব। সাবজেক্ট কোনো ম্যাটার না। আসল হল পরিশ্রম এবং নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলা। এখানে হতাশ হওয়ার কিছু নেই।

ইলিয়াস: আমাদেরকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
মাহমুদ: আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।

Top