সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সহিংসতা ভাইরালের প্রভাব

IMG_20190708_025325.jpg

————
বাংলাদেশের বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে সহিংসতা হয়ে উঠেছে যেন নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। পারষ্পরিক দ্বন্দ্ব রুপ নিচ্ছে সংঘাতে, ব্যক্তি জীবনের ক্ষুদ্র কোন ঘটনা সহিংসতায় রুপ নিয়ে প্রাণ যাচ্ছে অনেকের। আবার সহিংস মূলক কর্মকান্ড খু্ব দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ছে, অনলাইন সংবাদ মাধ্যম সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। জনমানুষের ভেতরকে খুব ভালো ভাবেই আলোড়িত করে এসব সহিংসতা। গবেষণায় দেখা গেছে সহিংস সংঘাত, মনন মানসিকতার উপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে, অর্থাৎ এসব সহিংস ঘটনা যত বেশি আমাদের সামনে আসে,আমরা ততোই এর প্রতি একধরনের আসক্তি কিংবা ভীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ি। সহিংসতা দেখা মানুষগুলো তাদের স্বাভাবিক কাজ কর্মে এর উপস্থিতি অনুভব করে, অর্থাৎ সে মনে করতে থাকে গোটা সমাজ কিংবা দেশই সহিংসতার আওতায়, কোথাও কোন কিছু বলা যাবেনা, প্রতিবাদ করা যাবে না, এমনকি রাতের অন্ধকারে পরিচিত রাস্তায় হাটাও সে বিপজ্জনক মনে করে। এতে সমাজ জীবনের যে গতিশীলতা, তার প্রেক্ষাপট হয়ে যায় ভিন্ন, রুপ নিতে থাকে ব্যধিগ্রস্ত সমাজে।

এসব সহিংস সংঘাতের ভিডিও বার্তা, সমাজের এক শ্রেণীর মানুষকে সাহস যোগায়, চিন্তায় আনে নেতিবাচক পরিবর্তন, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার সহজ উপায় ও পেয়ে যায়, ভেতরের ক্ষোভকে, আবেগের নি:সরন করতে বাস্তব জীবনে সহিংসতা ঘটাতে এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করে। মনে করতে থাকে, আমি ও তো এমন করতে পারি, আর করলে কি এমন হবে! এই বোধ জন্মানোর ফলে সমাজে বেড়ে যায় আরো সহিংস সংঘাত।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব সংঘাতের ভিডিও চিত্র ভাইরাল হলে, আমরা ভালোই মনে করি তা দেখতে পেরে, কিন্তু সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে তা নেতিবাচক এবং সামাজিকতা -সামাজিকীকরণ এর ক্ষেত্রে তো ভয়ংকরই।

শিশুরা এসব সংঘাতের চিত্র দেখে বড় হতে থাকে,যা শিশুর সামাজিকীকরণে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। শিশু মনে এসব ভয়ংকর সহিংসতা বিরাজ করে নেয়, সমাজ প্রেক্ষাপট সম্পর্কে শিশুরা ভাবতে শুরু করে, নিজেদের খেলায় সহপাঠীদের সাথে আচরন হয় সহিংস, পিতা-মাতার সাথে ও করতে থাকে বিরুপ আচরন। সমাজের প্রত্যক জায়গাকে সহিংস মনে করতে থাকে শিশু, এবং ভাবতে থাকে টিকে থাকতে হলে তাকে বিপজ্জনক হতে হবে,না হয় অন্য কারো সহিংসতার কবলে সে হবে ভুক্তভোগী!
সমাজের আরো অন্যান্য প্রেক্ষাপটে,সহিংসা প্রচার নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এসব সহিংসতা যাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল না হয়, সে ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখা সামাজিক স্বার্থে এখনই প্রয়োজন, না হয় আমাদের মনন আর মানসিকতায় তা বদ্ধমূল হয়ে আমাদেরই দু:শ্চিতার কারণ হবে। সামাজিক প্রেক্ষাপট হবে সহিংসতার।
———–
সোহাগ মনি
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

Top