জগন্নাথপুরে ইমুর শোকে আজও কাঁদছেন মানুষ

1562446671472_poto-1.jpg

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি–
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে তরুণ নাট্যকার ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রিয়মুখ ইমুর শোকে আজও কাঁদছেন ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ। তাঁর স্মৃতি কেউ ভুলতে পারছেন না। বারবার ঘুরেফিরে অল্প জীবনের কর্ম তৎপরতা এবং অসাধারণ আচরণের জন্য তাঁকে স্বরণ করতে হচ্ছে।
তার পুরো নাম তানভীর আহমদ ইমু। সে জগন্নাথপুর বাজারের ঘড়ি ব্যবসায়ী আবদাল মিয়ার ছেলে। তাদের গ্রামের বাড়ি দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার সিচনী গ্রামে। তারা দীর্ঘদিন ধরে জগন্নাথপুরে বসবাস করছেন। সাগর ও ইমু তারা দুই ভাই। সাগর ইমুর বড়। সাগর সব সময় লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তবে ইমু লেখাপড়ার পাশাপাশি নাটকে অভিনয় করতো। নাটকে প্রশংসনীয় অভিনয়ের মাধ্যমে অল্প দিনে সে জগন্নাথপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রিয়মুখ হয়ে উঠে। লাভ করতে থাকে ব্যাপক পরিচিতি। সাগর-ইমুর ভাল ব্যবহারে মানুষ মুগ্ধ ছিলেন। চারদিকে তাঁরা দুই ভাই প্রশংসা কুড়াতে থাকে। মাত্র ১৭ বছর ৯ মাস বয়সে সিলেট সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় ভাল ফলাফল নিয়ে উত্তীর্ণ হলেও ইমু তা দেখে যেতে পারেনি। ২০১৮ সালের ১১ জুলাই সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেল ইমু। রেখে গেল তাঁর যতো স্মৃতি। তাঁর অকাল মৃত্যু আজও মেনে নিতে পারছেন না জগন্নাথপুরবাসী। তাঁর অকাল মৃত্যুতে নারী-পুরুষ সবাই মর্মাহত। আকাশ থেকে যেন ঝরে পড়লো একটি উজ্জ্বল তারকা। তাঁর সাথে হারিয়ে গেল তাঁর পরিবারের সকল স্বপ্ন। সেই সাথে সমাজ ও দেশ হারালো একটি মেধাবী মুখ। বর্তমানে ইমুকে হারিয়ে তার বড় ভাই সাগর যেন অসহায়-নিশ্চুপ। তার পিতা-মাতা ও পরিবারের লোকজন নির্বাক। নিয়তির কাছে আমরা সবাই অসহায়।
এদিকে-৫ জুলাই শুক্রবার ইমুর প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর রূহের মাগফেরাত কামনায় ইমুর গ্রামের বাড়ি দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার সিচনী গ্রামে ও ইমুর নানা বাড়ি জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও শিরণি বিতরণ করা হয়। এতে স্থানীয় এলাকাবাসী অংশ গ্রহন করেন।

Top