বন্ধুদের সাথে একদিন —তাসনীম তামান্না

received_739894143106642.jpeg

———-
বাঙালি ভ্রমণপ্রিয় জাতি।ঘুরতেই যেন বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আর সেটা যদি হই বন্ধু-বান্ধুবদের নিয়ে তাহলে তো কথায় নেই যেন আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়া।একদিন হঠাৎ করেই প্লান করা হল যে আমরা আগামীকাল সকালেই ঘুরতে যাব!শুনেই মনটা আনন্দে মেতে উঠল।ঠিক করা হল মিরপুর চিড়িয়াখানা এবং জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে যাওয়া হবে। কিন্তু আমার ইচ্ছে ছিল পানাম নগর যাওয়ার বা দূরে কোথাও । বন্ধুদের কথা ও ফেলা যায় না। তাই প্লানমাফিক ১৯ জুন সকাল ৭ টার দিকে রওনা দিলাম শাহবাগ থেকে।গন্তব্যস্থান মিরপুর ১। রওনা দেওয়ার ১ ঘণ্টা মধ্যে পোঁছে গেলাম মিরপুর চিড়িয়াখানা গেইটের সামনে নাঈম, আরিফ,জহির রায়হান, মাসুদ এবং আমি। জহির বলল আগে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে যাব। ওর কথায় আমরাও সম্মতি দিলাম।তারপর যথারীতিতে টিকিট কেটে ভিতরে ঢুকলাম। এই উদ্যানে যে এতো প্রজাতির উদ্ভিদ আছে না আসলে জানতামই না।অজানা কত শত প্রজাতির উদ্ভিদ যে আছে! এইসব অজানা উদ্ভিদের নাম জানতে হলেও সবাই একবার ঘুরে আসতে পারেন!আমরা ৫জন উদ্ভিদগুলোর বিচিত্র নাম দেখে শুধু মুগ্ধই হয়নি রীতিমত ভীষণ অবাক হয়েছিলাম। জানা হল অনেক অজানা উদ্ভিদের নামও।আছে হরেক রকমের ভেষজ,ঔষধী , বাঁশের নানান জাতীয় বৃক্ষ ,ফলফলাদি উদ্ভিদ! আছে একই উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রজাতি। গরমে,পিপাসায় হাঁটতে হাঁটতে যখন খুব ক্লান্ত হয়ে গেলাম,তখনি চোখে পড়ল, পানির ট্যাপ! পানি খেয়ে তৃষ্ণা মিটিয়ে আবারো হাটা শুরু করলাম।সাথে হালকা খাবার ও খেলাম। এরিয়ার আয়তন একটু বেশি হওয়ায় তিন ভাগের এক ভাগ ঘুরেই আমরা বেরিয়ে এলাম কারণ আমাদের আবার চিড়িয়াখানাতে যেতে হবে। তাই তড়িঘড়ি করে বেরুলাম।সবাই ক্ষুধার্ত থাকায় বেরুতেই বললাম আগে ভারী জাতীয় কিছু খাবার খেয়ে নিতে ।আশেপাশে ভারী জাতীয় কিছুই পাওয়া না যাওয়ায় আমরা ফুসকা, চটপটি খেতে রাজি হলাম।জহির রায়হান আমাদের ট্রীটস্বরূপ আমাদের চটপটি খাওয়ায়। চিড়িয়াখানার টিকিট কেটে ডুকতেই চোখে পড়লো দুটি হরিণ ঝগড়া লেগে গেছে, ওদের ঝগড়া মিটমাট করতে দুইদলের হরিণ গুলো আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এইরকম দৃশ্য দেখতে পেয়ে তাতে যেন খুব মজা পাচ্ছে দর্শনার্থীবৃন্দ। ব্যাগ থেকে ফোন বের করে ভিডিও করার আগেই ঝগড়া থেমে গেল। এতে আমার একটু মন খারাপ হয়েছিল বটে। কিন্তু পরক্ষণেই আবার মন ভাল হয়ে যায় বিচিত্র প্রাণীদের কর্মকান্ড দেখে। এবারও আমরা এক এক করে সব প্রাণীর সাইন্টিফিক নাম দেখতে লাগলাম।সবাই পরিবার- পরিজন এবং প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে আগ্রহভরে দেখছে।আমরা একে একে বানর,বহুপ্রজাতির পাখি,হরিণ, ওয়াটার বাক,গাধা,রয়েল বেঙ্গল টাইগার,সিংহ,অজগর,জলহস্তী,গন্ডার সহ নানা অচেনা প্রাণী দেখি।যদিওবা আমি আগে আরেকবার এখানে আসছিলাম স্কুলে থাকতে।কোথায় যেন পড়েছিলাম গন্ডারের ১টি শিং।সেটা মনে পরতেই আমি স্বচক্ষে দেখতে যাওয়ার জন্য অস্থির হলাম।অনেক খোঁজার পর যখন গন্ডার দেখতে পেলাম না , মনে হল আমি বুঝি আমার ইচ্ছে পুরণ করতে পারবা না। অবশেষে তার দর্শন পেলাম। লোকমুখে একটি কথা প্রচলিত আছে ,”গণ্ডারের চামড়া নাকি এতই পুরু যে কিছু দিয়ে আঘাত করলে বা বললে সাত দিন পর নাকি রেসপন্স করে”।আবার অনেকে একজন আরেকজনকে পরিহাস করে বলে ওই তোর তো গন্ডারের চামড়া! আমি আর নাঈম দেখি গন্ডারটি আধো পানি আধো কাদায় চিৎপটাং হয়ে শুয়ে আছে! আমি উঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করলাম সত্যিই কি একটি শিং কিনা?আহা,সত্যিই তাই!
তারপর নাঈম বলল ,”বানর নাকি বাদামের খোসা নিজেই ছাড়িয়ে খুব সুন্দর করে খেতে “! ভাগ্যক্রমে,আমার ব্যাগে বাদাম ছিল,তাই ব্যাগ থেকে বাদাম বের করে ছুড়ে মারলাম বানরের খাঁচার দিকে। হুম,খুব অবাক হয়েই দেখলাম ঠিক তাই! সবকিছু দেখে একদিকে অনেক আনন্দিত ছিলাম,অন্যদিকে খুব ক্লান্ত এবং ঘুরে দেখতে দেখতে ক্ষুধার্ত থাকায় বের হয়ে আসলাম।আবার মাথায় ছিল ফেরার পথে জ্যামে পড়ে না সবার অবস্থা দফারফা হয়ে যায়! কিন্তু অবাক করা বিষয় হলেও সত্য আমরা একবারের জন্যেও জ্যামে পড়িনি!কি আশ্চর্য ব্যাপার! ঢাকার শহরে রাস্তায় জ্যাম পড়বেনা এতো তো ভাবাই যায়না।আর সেটা যদি হয় মিরপুরের দিকে তাহলে তা কল্পনাতীত! ১ঘণ্টার মধ্যেই আবার শাহবাগ এসে পৌছালাম ।তারপর আমার ভার্সিটিতে( ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) আসতেই আরিফ বলল,” তোমাদের ভার্সিটির মিক্সার ভর্তা নাকি খুব বিখ্যাত! আমি বললাম, সকলে তো তাই বলে।সবাই ভর্তা নিয়ে সামাজিক বিজ্ঞানের ফোয়ারার কাছে বসে খেতে খেতে গল্প করলাম। মাসুদ বলল, যেহেতু এখানে (ঢাবি)তে আসছি স্মৃতিস্বরুপ ছবি তো তুলতেই হয়।ছবি তুলে আমি ওদের বিদায় জানিয়ে আমার হলে চলে এলাম। ওরা চলে গেল সদরঘাট তথা নিজেদের বাসার দিকে ।বন্ধুদের সাথে ঘুরাঘুরি আসলেই অনেক উপভোগ্য এবং আনন্দদায়ক ও বটে।এভাবেই আমাদের সেদিনের মতো ঘুরাঘুরি শেষ হয়েছিল।আশাকরি আবারো এভাবেই হুট করে কোথাও ঘুরতে যাওয়া হবে কোন এক সময় ভিন্ন কোন স্থানে…….

Top