সুনামগঞ্জ এলজিইডি এক কর্মস্থলেই ১৭ বছর!

SAVE_20190627_011250.jpg

সিলেট:সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে টানা প্রায় ১৭ বছর ধরে চাকরি করে যাচ্ছেন হারান চন্দ্র বিশ্বাস নামের এক হিসাব রক্ষক।
বারবার বদলি আদেশ হলেও অদৃশ্য কারণে ফের বদলি স্থগিত করিয়ে একই কর্মস্থলে (তাহিরপুর এলজিইডিতে) বহাল থাকছেন তিনি।
এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, তাহিরপুর এলজিইডিতে হিসাব রক্ষক পদে যোগদান করার পর থেকে আর্থিকভাবে ফুলে ফেঁপে উঠেছেন হারান চন্দ্র বিশ্বাস।
সুনামগঞ্জ এলজিইডি সুত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের ৬ জুলাই তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসাবে চলতি দায়িত্ব হিসাব রক্ষক পদে যোগদান করেন হারান চন্দ্র বিশ্বাস। এ পদে যোগদানের পুর্বে তিনি আগের কর্মস্থলে কমিউনিটি অর্গানাইজার (সিও) হিসাবে কর্মরত ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হারান চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘এলজিইডিতে বদলির কোনো নীতিমালা নেই। কেউ ইচ্ছা করলে তিন মাস, তিন বছর এমনকি আজীবন এক কার্যালয়েই চাকরি করে অবসরে যেতে পারেন।’
দুইবার বদলির অর্ডার হলেও কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়েনি বলেও দাবি জানান তিনি।
এই হিসাব রক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিভিন্ন ঠিকাদার ও উপজেলার সাত ইউনিয়নের যেকোন ধরণের প্রকল্পের কাজ শেষে বিল দাখিলের পর সেই বিল তার টেবিলে দিনের পর দিন আটকে রেখে হয়রানি, সময়ক্ষেপন করে নিজের উৎকোচ বাণিজ্য করেন হারান বিশ্বাস।
বিল দাখিলের পর প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যায়ের ওপর ১% থেকে ১.৫০% হারে কমিশন নিয়ে থাকেন তিনি। এ কমিশনের নগদ অর্থের মুখ না দেখা অবধি প্রকল্পের ফাইল একচুল নড়েও না তার টেবিল থেকে।
এভাবেই তাহিরপুরের ঠিকাদার, ইউপি চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন প্রকল্প চেয়ারম্যানগণদের বিভিন্ন প্রকল্পের বিল দাখিলের পর নগদ দক্ষিণা নিচ্ছেন হারান বিশ্বাস।
জানা গেছে,শুধু পার্সেন্টিসই নয় সংশ্লিষ্ট কাজের বিল দ্রত তুলে দেয়ার নামে পরিবারের জন্য নানা দামি উপঢৌকনও গ্রহণ করে যাচ্ছেন তিনি অনায়ানে।
এ বিষয়ে ভুক্তোভোগী বিভিন্ন ঠিকাদার ও প্রকল্প চেয়ারম্যানসহ বর্তমান এবং সাবেক একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান অভিযোগ করে জানান, এলজিইডির বদলি নীতিমালা অনুযায়ী ৩ বছরের অধিক কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী একই কর্মস্থলে থাকার নিয়ম না থাকলেও হারান বিশ্বাসের বেলায় এ নীতিমালা যেন অদৃশ্য। আর একই পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ গ্রহণ করে যাচ্ছেন তিনি।
তবে সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি জানিয়ে অভিযুক্ত হিসাব রক্ষক হারান চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘এসব একদমই মিথ্যা কথা। আমি এসব গ্রহণ করিনা। এর প্রমাণ দিতে পারবে না কেউ।’
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল আহমদের নিকট এলজিইডিতে কর্মরত হারান চন্দ্র বিশ্বাসের দেয়া বক্তব্যের সত্যতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হারান চন্দ্রকে দুই বার তাহিরপুর থেকে বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি চতুরতার সঙ্গে বারবার নানা অজুহাতে ওপরে তদবীর করে তার বদলি স্থগিত করিয়েছেন।’
মুলত‘এলজিইডিতে বদলির কোনো নীতিমালা নেই’ হারান চন্দ্রের দেয়া এ বক্তব্য সঠিক নয় বলে দাবি করেন নির্বাহী প্রকৌশলী।

Top