পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ মোকাবিলায় ইরান এবং আমাদের অবস্থান

images-2.jpeg

ইরান আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে মুহূর্তেই সিদ্ধান্তের পরিবর্তন। কিন্তু ইরানতো ঠিকই আমেরিকার দুইখান ড্রোন মাটির সাথে ধসিয়ে দিয়েছি!! বুঝলাম না, আমেরিকা ওরফে ইহুদীরা ইরানের উপর এতো ক্ষেপেছে কেন। ওরাতো শিয়া।ওরা কি জান্নাতে যাবে? বলি, ওদের মুসলমানিত্ব নিয়াইতো মতভেদের অন্ত নাই। যাইহোক ওদিকে না যাই। আসমানী বানীতে নাকি বলা হয়েছে, ইহুদীরা মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু কিন্তু বর্তমানে আমরাই (সুন্নি) যে হয়ে গেলাম ওদের বড় বন্ধু । তার মানে আমরা কি মুসলিম নয়?

অবশ্যই আমরা মুসলিম। শুধু মুসলিম বল্লে ভুল হবে। বলতে হবে একদম খাটি মুসলিম। আমাদের বাবা-মা সহ বংশ পরম্পরায় চৌদ্দ গোষ্ঠীর মাঝে ‘রহিম’ ‘করিম’ ‘শেফালী’ ‘জরিনা’ নামের বাহিরে কোন নাম-ই খুজে পাওয়া যাবে না (নামের মুসলিম) ।মাথায় টুপি, হাতে তাসবীহ, পরনে পায়জামা-পাঞ্জাবি, আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। বাবা মসজিদের সভাপতি। চাচা মাদ্রাসার কেশিয়ার। কয়েকদিন আগের কথা, বাবা মসজিদে দশ হাজার টাকা দান করেছে।

ভাই, এইবার বলঃ- আমরা যে খাটি মুসলিম, এর থেকে ভালো আর কি প্রমান থাকতে পারে?এগুলা কি রাসুলের আদর্শ নয়? হুম ভাই। যদি তাই হয় তবে তুমি নিশ্চিত থাক যে, আমরা সুন্নি কেবল আমরাই মুসলিম।

আচ্ছা ভাই,
ইতিহাস থেকে জানা যায়, ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, খেলাফত ব্যাবস্থার মাধ্যমে সেই রাষ্ট্র পরিচালনা, ইহুদী তথা ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে অবিরাম সংগ্রাম আবার শত্রু কর্তৃক দন্ত আক্রান্তও নাকি রাসুলের (সঃ) আদর্শ।
হুম আদর্শ, অবশ্যই রাসুলের আদর্শ। তবে আমরা কেন সেগুলো মানি না? মানি না কে বলল আবার, আমরা সেগুলো অবশ্যই মানি কিন্ত পালনে শুধু ঘাটতি! তাতে কি হয়েছে! ঈমানটাতো একদম টাটকা আছে!
কিন্তু কেন?
আমরা না মুসলিম?
আমরা না নবী প্রেমিক?
অর্ধেক মানি অর্ধেক মানি না..
এটাই কি আমাদের খাটি সুন্নিয়াতের পরিচয়?

সুন্নাতে নববীর নাই শেষ নাই কোন অন্ত। সব কিছুর উপর আমাদের বিশ্বাস নিয়ে থাকতে হবে শান্ত। পালনের ক্ষেত্রে হয়তো কিছুটা কম বেশী হয়। আর ওই যে খেলাফতের কথা বললা। বর্তমানে এসব বড্ড কঠিন কাজ। এইসব করতে গেলে সমাজে বিশৃঙ্খলা হতে পারে আর ‍তুমি তো জানো, বিশৃঙ্খলা হত্যা অপেক্ষা জঘন্য।

হুম,আমি এও জানি!!
খেলাফত কায়েম মহান রবের আদেশ। এই আদেশ পালন করতে গেলে বিশৃঙ্খলা হবে, এটা কিভাবে ভাবতে পারলেন? ভাই….
আপনি খেলাফত প্রতিষ্ঠা থেকে বিশৃঙ্খলার নাম করে দূরে থাকছেন আর সেটাই নাকি শিয়ারা বুকের তাজা রক্ত দিয় আগলে রেখেছেন আজো। বাইতুল মোকাদ্দাসের জন্য আমরা তো করেছি
কেবল আন্দোলন, পেরেছি কতটুকু করতে তার সরঞ্জামের বিতরন? পারিনি, একদম পারিনি!!
পশ্চিমাদের মুকাবেলায় কয়টা সামরিক দল তৈরী করতে পেরেছি? তারাতো সেই হামাস হিজবুল্লাহ, হুতী থেকে শুরু করে বিপ্লবী বাহিনী….কি করেনি তারা?

পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীরা মুখে মানবতা ও গনতন্ত্রের কথা আর হাতে অদৃশ্য বিশাল লাঠি নিয়ে পিটিয়ে মুসলিম সরকারদের সৈরাচারী উপাদী দিয়ে উচ্ছেদে যখন চরম ব্যাস্ত, আমরা (সুন্নিরা) তখন পরম আনন্দে টাকার বস্তা হাতে দিয়ে করছি তাদের চরম আশ্বস্ত, হচ্চি ওদের পরম বিশ্বস্ত।

পশ্চিমারা যখন সেই তিউনিসিয়া, মিশর থেকে শুরু করে সিরিয়া, ইরাক, আফগানসহ অসংখ্য দেশের মুসলিম শাসকদের সারিয়ে, মুসলিম নামক অমুসলিমদের দিয়ে পুতুল সরকার বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমরা তখন কি করতে পেরেছি? পেরেছি কি আদো কিছু করতে?

অথচ,
একটু দৃষ্টিপাত করুন ওদের দিকে!
যাদেরকে আমরা শিয়া বলি, তুমুল যুদ্ধের মাঝেও ওরা ইরাকে তাদের লোক বসিয়েছে। হাসান নাসরুল্লার নেতৃত্বে হিজবুল্লাহ এখন লেবানন সরকারের অংশ। পশ্চিমারা সৌদির পুতুলদের দিয়ে কাতারের উপর চাপিয়ে দেয়া অবরোধে সাহা্য্যের হাত বাড়িযে ‍দিয়েছিল তারাই। হুতিদের মাধ্যমে ইয়ামেনেও তারা প্রতিষ্ঠা করেছে তাদের রাজত্ব। সিরিয়ায় পশ্চিমাদের জয়কে ঠেকিয়ে দিয়েছে কারা? এই শিয়ারাই।

জেরুজালেমকে রাজধাণী স্বীকৃতি দিয়েও পশ্চিমাদের পেটের ভাত হজম হয় না। বলি এতো ভয় কিসের? উত্তর হলো ইরানের কুদস বাহিনীর। এখানে বলে রাখা দরকার, ইরানের দুটি প্রধান বাহিনী রয়েছে.

১. কুদস বাহিনী যার কাজ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস মোকাবিলা করা ।
২. বিপ্লবী গার্ড যার কাজ দেশীয় সন্ত্রাস মোকাবিলা করা ।

মুসলিম সাম্রাজ্য বিস্তার, আমার জানা মতে হযরত ওমরের শ্রেষ্ঠ কর্ম ছিল যার দায়িত্ব নিয়েছে আজকের শিয়ারা। শিয়ারা নাকি ওমরকে খলিফা-ই মানেন না অথচ তার রাজ্য বিজয়ের সুন্নাত পালন করছেন অবিরাম অবিচল। কি অজব!! তাই না? হুম, আমরা এক আজব দুনিয়াই বাস কারছি।

তারা যখন এস-৩০০, শত্রুভেদী মিসাইল এবং নাম না জানা অসংখ্য অস্র বানিয়ে হচ্ছে বিশ্বে মহা শক্ত, জালিমের হৃদয়কে করেছে চির বিষাক্ত তখন আমরা কি করেছি? হানাফি-মালিকি এবং মাজহাবি-লা.মাজহাবির চরম তিক্ততা নিয়ে হয়েছি হাজারো দলে, উপ দলে ভিবক্ত।

যখন মুসলমানদের চির শত্রু ইহুদীরা আমাদের (সুন্নি) হয় পরম বন্ধু আর শিয়াদের হয় চরম শত্রু তখন হৃদয়ের গহীনে ক্ষুদ্র ভাবনার অসীম একটি প্রশ্নই কেবল বার বার উদিত হয়…….

খাটি মুসলমান আসলে কারা????

আমরা কোরআন-হাদীস মানি, ওরাও মানে, আল্লাহ-রাসূল মানি, ওরাও মানে। তাহলে কেন এতো দ্বন্দ্ব? কেন হয়ে আছে চক্ষুগুলো মোদের বন্ধ, যড়যন্ত্রের মুখে চরম অজ্ঞতা করেছে কেন মম চক্ষুকে চির অন্ধ?
যাইহোক; বন্ধ আর অন্ধ চক্ষুকে খোলবার দায়িত্ব কাঁদে নিতে আমি একদম অপারগ ।এটার প্রয়োজনীয়তাও যে খুব আছে তা আমার মনে হয় না।
তবে হৃদয়ের অনুভুতি আর অন্তরের উপলব্ধির চক্ষুটা যদি একবার খুলা যায়, আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি আগামীর দুনিয়া হবে আমার তোমার(মুসলিম) নেতৃত্বে সবার (মুসলিম-অমুসলিম) জন্য হবে এক —

এক স্বর্গের উদ্যান। আমি সে দিনেরই অপেক্ষায় অপেক্ষমান।

#লেখক- মাহমুদুল হাসান
শিক্ষার্থী- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Top