১১ হাজারে এবার মুশফিকের নাম

received_384237602205859.jpeg

ইকবাল আজাদ :

অস্ট্রেলিয়ার সহ-কাপ্তান এলেক্স ক্যারি সংবাদ সম্মেলনে এসে বলেছিলেন, ‘ওদের মুশফিক খুব ভালো বল করছে।’ আফগানদের সাথে গত ম্যাচে ধারাভাষ্যকার রোজ বেলও ভুলক্রমে বলে উঠলেন, ‘মাঠে নামছেন মুশফিকার রহমান।’ মুশফিক, মুস্তাফিজ, মিরাজদের নিয়ে বিদেশীদের নাম উচ্চারণ, নাম গুলিয়ে ফেলার বিভ্রান্তি নেহায়েত কম নয়। ডেভিড ওয়ার্নারের ‘দ্যা ফিজ’ খ্যাত মুস্তাফিজ বিশ্বকাপে নৈপুণ্য ছড়াচ্ছেন তার বাম হাতের ক্যারিশমায়। গাঁয়ের স্কুলের কড়া হেড মাস্টারের মতো বিশ্বের বাঘা-বাঘা বোলারদের বাইশ গজে শাসন করে বেড়াচ্ছেন ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিকের ‘দ্যা ডিপেন্ডেবল’ খ্যাত মুশফিকুর রহিম। অজি বোলারদের চোখ রাঙিয়ে তুলে নিয়েছেন বিশ্বকাপের অধরা মেইডেন সেঞ্চুরি। সাথে রয়েছে ম্যাচ জেতানো দুইটি গুরুত্বপূর্ণ হাফ সেঞ্চুরিও। বর্তমান বিশ্বকাপের সেরা দশ ব্যাটসম্যানদের তালিকায় মুশির স্থান লক্ষণীয়। উইকেটের পিছনের অবদান কম কিসে! ৬ ইনিংসে ৯টি ডিসমিসাল নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে। সব বিশ্বকাপের আসর মিলিয়ে ৮০০ রান এবং ২৫ ডিসমিসালের তালিকায় এই উইকেট কিপার ব্যাটসম্যানের স্থান তৃতীয়। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ আসর একেবারে মন্দ যাচ্ছে না মুশফিকের।

এত রেকর্ড ছাড়িয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে গত ম্যাচে আরেকটি নতুন রেকর্ডের জন্ম দিয়েছেন বগুড়ার ছেলে। তামিম-সাকিবের পর মুশফিকও যোগ দিয়েছেন ১১০০০ আন্তর্জাতিক রানের এলিট ক্লাবে। তিন সংস্করণের ক্রিকেট ম্যাচের রান মিলিয়েই এগারো হাজার রানের কীর্তি গড়েন বাংলাদেশের উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান। আফগানিস্তানের বিপক্ষের ম্যাচে এই অর্জনের জন্য দরকার ছিল মাত্র ৪৪ রান। ৩৮তম ওভারে মুজিবের করা বলে সিঙ্গেল নিয়ে ১১ হাজার এলিট ক্লাবের মাইলফলক স্পর্শ করেন বাংলার লিটল ম্যান।

২০০৪ সালের ২৬শে মে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে অভিষেক হওয়া ছোট্ট মুশফিক ৬৬ ম্যাচে, ১২৩ ইনিংসে, ৩৪.৮৩ গড়ে ৪০০৬ রান সংগ্রহ করেন। ২০০৬ সালের ৬ই আগস্ট জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচে অভিষেক হওয়া মুশফিকুর রহিম ২১১ ম্যাচে, ১৯৭ ইনিংসে, ৩৫.৬৭ গড়ে ৫৮৮৫ রান অর্জন করেন। ২০০৬ সালের ২৮শে নভেম্বর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে অভিষিক্ত মুশি এই পর্যন্ত ৭৭ ম্যাচে, ৬৯ ইনিংসে, ১৯.৬২ গড়ে ১১৩৮ রান সংগ্রহ করেন। তিন সংস্করণ মিলিয়ে মোট ১১০২৯ রানের অর্জন জমা পড়েছে মুশফিকের ক্রিকেট ব্যাটের ঝুলিতে।(সূত্রঃ ক্রিকবাজ)

বাংলাদেশের ট্যাকনিক্যাল সলিড ব্যাটসম্যানের নাম উচ্চারণ করতে প্রথমেই আসবে মুশফিকুর রহিমের নাম। ক্রিকেট যেন একটি ভাষার ব্যাকরণীয় বিধিমালা। মুশফিকের ব্যাট যেন সেভাবেই কথা বলে। দু পা এগিয়ে, ফ্রন্ট ফুট ক্লিয়ার করে, মিড অফের মাথার উপর দিয়ে ছোট্ট মানুষটির অতি মানবীয় ওভার বাউন্ডারি মারা দেখলে ‘অনিন্দ্য’ বলতে কার্পণ্য করবেন না কোন ক্রিকেট বিশ্লেষক। স্লো পিচে কিভাবে মাটি কামড়ে মাঠে দাঁড়িয়ে থেকে রানের চাকা সচল রাখতে হয়, ফ্লার্ট মাঠে কিভাবে বোলারের উপর চড়াও হতে হয়, তার উপযুক্ত কার্যকরী ভূমিকা মুশি প্রায় প্রতিটি ম্যাচ পালন করে থাকেন। নিশ্চয়ই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুশফিকের ব্যাটিং থেকে অনেক কিছু শিক্ষা নিতে পারেন।

মুশফিক দলের নির্ভরতার প্রতীক। নির্ভরশীল আস্থা লাভ করেছেন গণমানুষের কাছেও। লাউডস্পিকারে রেডিও চালিয়ে খেলা শুনতে থাকা রিক্সাওয়ালাও বলেন, “মামা, মুশফিক নামছে। ওরে আউট করবার পারবো না। ও থাকলে দলের রান এমনিতেই বাড়ে।” ব্যাটিংয়ে প্রতিটি ম্যাচে মুগ্ধতা ছড়াবেন, এমনটাই ভরসা করেন ভক্ত কূল। মুশফিক সব রেকর্ড ছাড়িয়ে আসীন হোক অনন্য উচ্চতায়, ক্রিকেট পাগল মানুষদের এমন প্রত্যাশা।

Top