২ হাজার টাকার জন্য হত্যা করে লাশ ফেলা হয় হাওরে !

th-1-1.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক,সুনামগঞ্জ :

নিহত মাঝির নাম সুজন সরকার (২৮)।,
রোববার ধর্মপাশা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে জবানবন্দিতে হত্যা ও লাশ গুমের দায় স্বীকার করেন মুল হোতা কাজল ।,
নিখোঁজ সেই মাঝির মরদেহ শনিবার সন্ধায় ধর্মপাশার মধ্যনগরের টগার হাওর থেকে ১১ দিনপর উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।,
নিহত সুজন ধর্মপাশার মধ্যনগর থানার হরিপুর গ্রামের প্রয়াত আশুতোষ সরকারের ছেলে।,
এ ঘটনায় তিন অপহরকারীকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।,
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ধর্মপাশার মধ্যনগর থানার চামরদানী ইউনিয়নের টেপিরকোণা গ্রামের লাল চাঁনের ছেলে কাজল মিয়া (২৫), বলরামপুর গ্রামের লিটন মিয়ার ছেলে তানবীর (২৯), মধ্যনগর সদর ইউনিয়নের মাছুয়াকান্দা গ্রামের আবদুল হেকিমের ছেলে মোশারফ হোসেন (৩০)।,
সোমবার মধ্যনগর থানার ওসি সেলিম নেওয়াজ জানান,গ্রেফতারকৃতরা ধর্মপাশা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সুজন সরকারকে অপহরণ ,হত্যা ও লাশগুমের দায় স্বীকার করে রোববার জবানবন্দি দিয়েছে।,
মামলা ও থানা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, ধর্মপাশার মধ্যনগর থানার সদরের পিপড়াকান্দা নৌকাঘাট থেকে তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রমণের কথা বলে গত ১২ জুন বুধবার সুজন সরকারের ইঞ্জিন চালিত নৌকাটি (ট্রলার) ভাড়া করে একই এলাকার কাজল,তানবীর ও মোশারফ।
দিনভর হাওর ভ্রমণশেষে সন্ধায় ঘাটে ফিরে ভ্রমণকারীরা দুই হাজার টাকার পরিবর্তে মাত্র ৩০০’শ টাকা হাতে গুজে দেয়। এ নিয়ে সুজনের সঙ্গে তাদের তর্কাতর্কি হয়।,
ক্ষেপেগিয়ে পরিপুর্ণভাড়া পরিশোধের প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে অপহরণের পর ফের রাত ৮টা অবধি মধ্যনগর এলাকার পার্শ্ববতী টগার হাওরে নৌকা নিয়ে ঘোরাঘুরি করেন তারা। একপর্যায়ে নৌকার মাঝি সুজন সরকারকে নৌকার ভেতর শ্বাসরোধে হত্যা করে তিন ভ্রমণকারী।,
এরপর তার হাত পা মুখ বেঁধে টগার হাওরের পানিতে ফেলে দিয়ে সুজনের নৌকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে চলে যায় হত্যাকারীরা।,
এদিতে অপরহরণ ও হত্যাকান্ডের মুলহোতা কাজল বিজ্ঞ আদালতে দেয়া তার জবানবন্দিতে জানায়, ১৩ জুন বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে সুজনের পরিবারের লোকজন সুজনের মোবাইল ফোনে কল করে সুজনের ব্যাপারে জানতে চাইলে তাকে অপহরণ করা হয়েছে জানিয়ে পরিবারকে দুই দিনের সময় বেধে দিয়ে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।,
তবে পরিবারের সদস্যরা পরে সুজনের মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোনটি কেউ রিসিভ করেনি।
১৪ জুন শুক্রবার বিকালে পরিবারের পক্ষ থেকে মধ্যনগর সুজনের নিখোঁজের ব্যাপারে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।,
জিডির সুত্র ও মোবাইল ফোনের কল লিষ্টের সুত্র ধরে মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই সোহেল আহমদ ২১ জুন শুক্রবার সকালে প্রথমেই মধ্যনগরের বলরামপুরের তানবীরকে গ্রেফতার করেন।
তাকে জিজ্ঞাসাবাদে নৌকার ভাড়া দাবি করায় তর্কাতর্কির জেরধরে সুজনকে কৌশলে অপহরণ করে তিনজন মিলে শ্বাসরোধে হত্যারপর হাত পা মুখ বেঁধে লাশ গুমের জন্য টগার হাওরের পানিতে ফেলে দেয়ার কথা অকপটে স্বীকার করে।
এরপরই তানবীরকে সাথে নিয়ে থানার ওসি ও মামলার তদন্তকারী অফিসার সহ পুলিশের একটি টিম রাজধানী ঢাকার উওর বাড্ডা থেকে শুক্রবার গভীররাতে ঘটনার মুল হোতা কাজল ও মোশারফকে গ্রেফতার করে শনিবার দুপুরে মধ্যনগর ফিরে আসেন।,
থানা পুলিশ শনিবার দুপুরে ফের গ্রেফতারকৃতদের সাথে নিয়ে হাওরে সন্ধান চালিয়ে মধ্যনগরের টগার হাওর থেকে সুজনের লাশ ও ধর্মপাশার বাদশাগঞ্জ থেকে পরিত্যাক্ত অবস্থায় তার নৌকাটি উদ্ধার করে।,
সোমবার সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান জানান, সুজন নিখোঁজ পরবর্তী হত্যাকান্ডের রহস্য খুব দ্রুতসময়ে পুলিশ উদঘাটন করতে পেরেছে। এ হত্যাকান্ডের বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক, দ্রুত সময়েরমধ্যে এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় আদালতে অভিযোগপত্র দখিলে সংশ্লিস্ট থানা পুলিশকে নির্দেশানা দেয়া হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুুপার। ,

Top