মহেশখালীতে দ্বিতীয় গ্যাস পাইপ লাইন স্থাপনে জমির ক্ষতিপুরণের টাকা পরিশোধ না করায় ক্ষুব্দ মালিকরা

received_454510932071034.jpeg

অাবু বক্কর ছিদ্দিক,মহেশখালী :

জিটিসিএল এর অধিনে ৪২ ব্যাচের মহেশখালী টু আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালন সমান্তরাল পাইপ লাইন নির্মাণ প্রকল্প ( সেকশন-এ) এর পাইপ ওয়েডিং কাজ শেষ পর্যায়ে গেলেও এখনো ক্ষতিপুরণের টাকা পায়নি ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক ও চাষিরা । ফলে উক্ত ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকগন তাদের ন্যায্য অধিকার হিসেবে ক্ষতিপুরণ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন । জানা যায় , মহেশখালীতে উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে মহেশখালীর বুক চিরে দুইটি গ্যাস পাইপ লাইন স্থাপন করা হয় । উক্ত গ্যাস পাইপ লাইন স্থাপনের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমির উপর ৮ (ধারা) নোটিশ জারি করেছে অাজ থেকে দুই মাস অাগে । জমির মালিকরা ৮ ধারা নোটিশ পেয়ে তাদের ন্যায্য অধিকার ক্ষতিপুরণের টাকা উত্তোলনের জন্য কক্সবাজার এল এ অফিসে ফাইল জমা করতে শুরু করেন । কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা ফাইল জমা করে দ্বীর্ঘ দুই মাস হয়ে গেলেও এখনো তাদের জমাকৃত ফাইলে হাতই দেয়নি এল এ অফিসের কর্মকর্তারা । এর অাগে গ্যাস লাইনের জন্য জায়গা অধিগ্রহণ করতে জমির মালিকদের কে ৩ (ধারা) নোটিশ দিয়ে সতর্ক করে দেয় । ৩ (ধারা) নোটিশের এক মাস পর অাবার ৪ (ধারা) নোটিশ জারি করে এল এ অফিস । এ ভাবে ৬ (ধারা) ৭ (ধারা) ও সব শেষে ৮ (ধারা) নোটিশ জারি করার পর জমির মালিকরা তাদের ক্ষতিপুরণের টাকা উত্তোলনের জন্য কক্সবাজার এল এ অফিসে ফাইল জমা করে । কিন্তু তারা জমাকৃত ফাইলের কাজ না করে সার্ভেয়ারের মাধ্যমে পুনরায় জমির দখল দেখার উজুহাত দেখিয়ে বার বার কালক্ষেপণ করে জমির মালিকদের সাথে এক ধরনের তামাশা করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী জমির মালিকরা । ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকগন জানান , বিগত এক বছর যাবৎ অধিগ্রহণকৃত জমির উপর সার্ভেয়ারের মাধ্যমে দফায় দফায় জমির পরিমাপ করে মালিকদের কে নোটিশ প্রদান করেন । সেখানে ৮ (ধারা) নোটিশ দেওয়ার পর ক্ষতিপুরণের টাকা না দিয়ে কেন কালক্ষেপণ করে যাচ্ছে এমন অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের । তারা বলেন , যদি কোন জায়গায় কারো অভিযোগ থেকে থাকে সে অভিযোগ খানা তো ৩ (ধারা) ৪ (ধারা) ৬ (ধারা) বা ৭ (ধারা) নোটিশ দেওয়ার পরেই তো অভিযোগ করার নিয়ম রয়েছে । অার যদিও বা যে খতিয়ান কিংবা দাগের উপর কারো অভিযোগ থাকবে সে গুলো ছাড়া বাকী এত গুলো জমির মালিক কষ্ট পাবে কেন ? । এদিকে অাবার নতুন করে অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকদের কে স্ব-স্ব ভাবে স্থানীয় বা সরকার অনুমোদিত জমির পরিমাপ কারীদের (অামিন) নিয়ে উক্ত জমি পরিমাপ করে তাদের কাছ থেকে একটি নিজ দখলীয় অাছে এমন প্রত্যায়ন নিতে হচ্ছে । এতে ১ থেকে ২ হাজার টাকা করে উক্ত জমি পরিমাপ কারী (অামিন) কে দিতে হচ্ছে । ফলে নতুন করে অারেক ধরনের হয়রানী শিকার হতে হচ্ছে ভুক্তভোগী জমির মালিকগন কে । অতচ এর অাগে অধিগ্রহণকৃত জায়গায় কক্সবাজার এল এ অফিসের সার্ভেয়ার দ্বারা কয়েক দফা জমির পরিমাপ করে গেছেন । সব শেষ গেল রমজান মাসের ২দিন অাগেও কক্সবাজার এল এ অফিসের সার্ভেয়ার মাসুদ এসে জমি পরিমাপ করে উক্ত জমিনের স্থানে স্ব-স্ব মালিকগনের উপস্থিতিতে তাদের নিজ নিজ দখল বুঝে নিয়ে স্বাক্ষর নিয়েছেন । কিন্তু কেন পুনরায় জমি পরিমাপকারী (অামিন) দিয়ে পরিমাপ করতে হবে ? । অার তাদের কাছ থেকে কেনই বা প্রত্যায়ন নিতে হবে ? এমন প্রশ্ন ভুক্তভোগী জমি মালিকদের । তারা বলেন , মুষ্টিমেয় দু’এক জন অভিযোগ কারীর জন্য হাজার হাজার জমির মালিক কেন কষ্ট পাব । কক্সবাজার এল এ শাখার দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা ১৫ দিন কিংবা এক মাস পর পর জমির দখল দেখার নাম করে তাদের নিয়োগকৃত দালালদের সাথে নিয়ে এলাকায় এসে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের কে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করে যাচ্ছে । এতে অারো বেশী ক্ষোভের দানা বাঁধছে জমির মালিকদের মাঝে । ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা বলেন , অামরা অনেক ধৈর্য্য ধারন করেছি অার না , অামরা এবার অান্দোলন করতে বাধ্য হব । অামরা প্রয়োজনে মানববন্ধন করে কক্সবাজারের মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে স্বারক লিপি দেব । সেখানেও যদি কোন প্রতিকার না পাই তাহলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্বারক লিপি দিতে বাধ্য হব । জমির মালিকগন জানান , ২০১৬ সালের প্রথম গ্যাস পাইপ লাইনে অধিগ্রহণ কৃত জায়গার উপর অধিগ্রহণের ছাড়া বিভিন্ন অবকাঠামো বা চাষের ক্ষতিপুরণের জন্য অালাদা নোটিশ দেওয়া হয়েছিল । কিন্তু এবার কোন চাষের উপর ক্ষতিপুরণের নোটিশ দেওয়া হয়নি । অাবার অধিগ্রহণের জায়গা ছাড়াও তাদের কাজের সুবিদার্থে এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার ও মাটি ফেলার জন্য উভয় পাশে ২৬ ফুট করে মোট ৫২ ফুট জায়গা একোয়ার করে । এতে উভয় পাশে মোট ৫২ ফুট জায়গার উপর চাষিরা এখনো কোন ধরনের চাষ করতে পারে নি । উক্ত জায়গার উপর অবকাঠামো বা বিভিন্ন চাষের ক্ষতিপুরণের টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো কেউ সে ক্ষতিপুরণের টাকা পায় নি । জমির মালিকদের কাছে অধিগ্রহণের যে ৮ (ধারা) নোটিশ দেওয়া হয়েছে সেখানেও ৫২ ফুট জায়গা নষ্ট করা বা চাষ বাষের যে ক্ষতি হয়েছে উক্ত নোটিশে সে ক্ষতিপুরণের কোন উল্লেখই নেই । গ্যাস লাইনের কাজ এখনো সম্পুর্ন ভাবে শেষ না হওয়ায় , বর্তমানে উভয় পাশে উক্ত জায়গায় এখনো কোন ধরনের চাষ করতে পারেনি জমির মালিকরা । একই ভাবে দ্বিতীয় গ্যাস লাইন স্থাপনের জন্য মুল অধিগ্রহণ কৃত জমির মালিকরাও এখনো তাদের জমি অধিগ্রহণের টাকা পায়নি । বর্তমানে অধিকাংশ জমির মালিক অধিগ্রহণের টাকার জন্য কক্সবাজার এল এ শাখায় ফাইল জমা করলেও এখনো টাকা পায়নি কেউ । কবে নাগাত অধিগ্রহণের টাকা পাবে তাও বলতে পারছে না জমির মালিকরা । সব মিলিয়ে এক প্রকার হতাশায় ভোগছেন গ্যাস লাইনে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক ও বর্গা চাষিরা । এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানতে চাইলে কোন কর্মকর্তাই সদুত্তর দিতে পারে নি ।

Top