কক্সবাজার শহর থেকে ১ নং ওয়ার্ড( কুতুবদিয়া পাড়া) সড়ক বিনা নোটিশে বন্ধ। ভোগান্তিতে জনগন

received_2277341915874256.jpeg

আশরাফ আল আসিফ;
———————————–
কক্সবাজার পৌরসভার হলিডের মোড় হয়ে বৃহত্তর কুতুবদিয়া পাড়া-১নং ওয়ার্ড়ে যাওয়ার একমাত্র সড়ক পথটি হঠাৎ বিনা নোটিশে সংস্কার কাজের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ।গত দুই দিন আগে[২০শে জুন] সড়কটি বন্ধ করে দেওয়ায় ওই পথ দিয়ে যাতায়ত করতে পারছেন না ১নং ওয়ার্ড়ের ১৬টি মহল্লার প্রায় অর্ধ লাখ মানুষ।

তাই, বাধ্য হয়ে ১নং ওয়ার্ড়ের লোকজন এখন বালিকা মাদ্রাসা হয়ে ঝাউ-বাগানের মাঝখান দিয়ে সদ্য তৈরী রাস্তা দিয়ে যাতায়ত করছেন। কিন্তু এই রাস্তাটিতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোন নিরাপত্তা না থাকায় পথচারীদের জন্য বিপদজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে রাস্তাটি।

গত দুই রাতে’ই এই পথে ছুরিকাঘাত সহ দুইটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এবং নারীদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়েছে। এ অবস্থায় ১নং ওয়ার্ডের অর্ধ লক্ষ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন অত্র ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এস.আই.এম. আক্তার কামাল আজাদ ও পশ্চিম বাহারছড়া যুব উন্নয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ।

তাদের অভিযোগ; “বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ বিনা নোটিশে হঠাৎ রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়ায় বেকায়দায় পড়ে গেছে ১নং ওয়ার্ডের অর্ধ লক্ষ জনসাধারণ। তারা বাধ্য হয়ে সন্ধ্যার পরে অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং অনিরাপদ ঝাউ-বাগানের মধ্য দিয়ে যাতায়ত করছেন।”

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, গত ২০ জুলাই (বৃহস্পতিবার) রাত ১১ টার দিকে কবিতা চত্তর সংলগ্ন অন্ধকার স্থানে টমটমে থাকা নুরুল ইসলাম ও তার পরিবারকে ৪-৫ জন যুবক ছুরি ধরে টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ওই সময় তিনি মোবাইল দিতে না চাইলে তাকে পিঠে ছুরিকাঘাত করা হয় এবং মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

পরদিন রাত ৮ টার দিকে দলবেধে যাওয়া ৩ বান্ধবীর মধ্যে রুজিনা নামে এক মেয়ের ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ছিনতাইকারীরা শুধু ব্যাগ নিয়েই ক্ষান্ত হয়নি তারা এই মেয়েদের ঝাউ-বনে নিতে টানা হেচড়া শুরু করে। পরে তাদের চিৎকারে পাশ্ববর্তি লোকজন এগিয়ে আসলে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করে ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এস.আই.এম. আক্তার কামাল আজাদ জানান; “এই রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার আগে বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষের একবারের জন্য হলেও নোটিশ দেওয়া উচিত ছিল। অগ্রিম জানিয়ে দিলে অন্তত অন্ধকার ওই পথে আলোর ব্যবস্থা করা যেত।এবং প্রশানসকে বলে ওই জায়গায় থাকা পুলিশ বক্সে দুই-এক জন পুলিশ দেওয়া যেত। বিষয়টি খুবই অমানবিক হয়েছে।”

এতগুলো মানুষের নিরাপত্তার কথা বিন্দুমাত্র গুরুত্ব না দিয়ে এমনটা করা হয়েছে বলে ও মন্তব্য করেন তিনি। ১নং ওয়ার্ড়ের অর্ধ-লক্ষ জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিৎ করার জন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

পশ্চিম বাহার ছড়ার যুব উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মিজবা উদ্দিন রাসেল (আপেল) জানান; মূল রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পশ্চিম বাহারছড়ার যে বিকল্প রাস্তা দিয়ে লোকজন যাতায়াত করে সেই রাস্তায় সন্ধ্যার পরেই অন্ধকার নামে। এছাড়া, ওই জায়গায় একটি পুলিশ বক্স থাকলেও ওখানে কোন পুলিশ নেই। তাই; পথচারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওই অংশটি আলোকিত করা এবং পুলিশ নিয়োগ জরুরী হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে, কক্সবাজার সদর থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার জনান; পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হল জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাই; ওই জায়গায় পথচারীদের যাতায়াতে নিরাপত্তা প্রদানে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Top