“যে অভ্যাস মানুষকে নরকে নিয়ে যায়”–আরিফ ইকবাল নূর

received_360988088133673.jpeg

——————–
মানুষ মাত্রই ভুল।মানুষের অনেক মানবিক দূর্বলতা রয়েছে।এমন কিছু মানবিক দূর্বলতা রয়েছে যা মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যায়।তার মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক অভ্যাস হচ্ছে গীবত। যে অভ্যাসটি আমাদের অনেকেরই মধ্যে রয়েছে।বিশেষ করে মেয়েদের মধ্যে।
যেহেতু গীবত খুবই মারাত্মক তাই কুরআন-হাদিসের আলোকে গীবত সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। মুসলিম শরীফের একটি হাদিসে রয়েছে।প্রখ্যাত সাহাবী আবু হুরাইরা(রা) হতে বর্ণিত।তিনি বলেন একদা রাসুল(সঃ)
সাহাবীগণকে জিজ্ঞেস করলেন,তোমরা কি জান গীবত কাকে বলে?সাহাবীগনণ বললেন,এ সম্পর্কে আল্লাহ ও তার রাসুলই ভালো জানেন।রাসুল(স) বললেন,গীবত হচ্ছে কোন মানুষ সম্পর্কে এমন কিছু বলা যা শুনলে তার কাছে খারাপ লাগবে।রাসুল(স)কে প্রশ্ন করা হলো,যদি তার মধ্যে সেই ত্রুটি বর্তমান থাকে,যে ত্রুটি সম্পর্কে আমি বলছি,তবুও কি গীবত হবে?
রাসুল(স) বললেন,তুমি যে দোষত্রুটির কথা বললে,তার মধ্যে সেই ত্রুটি বর্তমান থাকলে তুমি তার গীবত করলে,আর যদি সে দোষত্রুটি বর্তমান না থাকে,তবে তুমি তার প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপ করলে”।
শুধু ইসলাম ধর্মে না সব ধর্মে একজনের কথা অন্যজনকে বলাকে মারাত্মক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেছে।গীবতের কারণে আমাদের অনেকের সুন্দর সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায় এবং সমাজে অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়।

আমরা এখন বিখ্যাত দার্শনিক সক্রেটিসের ট্রিপল ফিল্টার টেস্ট সম্পর্কে জানব।ট্রিপল ফিল্টার টেস্ট বলতে আসলেই তিনি গীবত নিয়ে আলোচনা করেছেন।একদিন একজন লোক সক্রেটিসের কাছে এসে বললো তুমি কি জান এইমাত্র আমি তোমার বন্ধুর ব্যাপারে কি শুনে আসলাম?সক্রেটিস বললো,এক মিনিট দাঁড়াও, তুমি আমার বন্ধুকে নিয়ে যা বলবে,তার আগে আমি তোমাকে তিনটি প্রশ্ন করব।তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলে আমি তোমার কথা শুনব। প্রথম প্রশ্নটি হচ্ছে,’তুমি কি নিশ্চিত তুমি আমাকে যা বলতে যাচ্ছ তা সত্য?লোকটি উত্তর দিল, ‘না, আমি জানি না এটা সত্য কিনা,আসলে আমি শুধু শুনেছি এটা।’ ঠিক আছে’, সক্রেটিস আবার বললো,’ তাহলে তুমি শিওর না যে তুমি যা বলবে তা সত্য কিনা।
এখন আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন,তুমি কি আমার বন্ধুকে নিয়ে ভাল কিছু বলবে?লোকটি বলল,না।
সক্রেটিস বললো ,’তাহলে তুমি আমার বন্ধু সম্পর্কে আমাকে খারাপ কিছু বলতে চাও এবং তুমি শিওর নও যে তা সত্যি কিনা। ঠিক আছে,
এখনো তৃতীয় প্রশ্ন বাকি, তুমি তৃতীয় প্রশ্নে পাশ করলে আমাকে কথাটি বলতে পারো। তুমি আমাকে যা বলতে যাচ্ছ তা কি আমার জন্য উপকারী?
লোকটি উত্তর দিল,” না”,আসলে তোমার জন্য তা উপকারী নয়।এবার সক্রেটিস শেষ কথাটি বললো,’ যদি তুমি আমাকে যা বলতে চাও তা সত্যও নয়, ভাল কিছুও নয় এবং আমার জন্য উপকারীও না হয় তবে তা আমাকে বলে কি লাভ?

এখন আমরা বুঝতে পারলাম একজনের কথা অন্যজনকে বলাতে কোন লাভ নেই।বরং পাপ রয়েছে। আমরা অনেকে এটাকে পাপও মনে করি না।
হাদিস শরীফে রয়েছে,গীবত করা ব্যভিচারের চেয়ে মারাত্মক।এই অভ্যাসটি মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে।তিরমিযি শরীফের একটি হাদিসে রয়েছে রাসুল(স) বলেছেন,তোমরা কি জান,কোন জিনিস মানুষকে অধিক পরিমাণে জাহান্নামে পৌঁছায়।তিনি বললেন,দুটি গহ্বর তথা মুখ ও লজ্জাস্থান।
আমাদের কর্তব্য হচ্ছে,গীবত নামক মারাত্মক অভ্যাস থেকে নিজেকে দূরে রাখা।আমরা যদি গীবত চর্চা থেকে দূরে থাকি তাহলে আমাদের একে অপরের সম্পর্কে ফাটল ধরবে না বরং সম্পর্ক আরো মজবুত হবে।সর্বোপরি আমরা কাল কিয়ামতে নাজাত লাভ করে সক্ষম হব।

Top