দোহাজারী সড়ক বিভাগের ৫০ কোটি টাকার জায়গা উদ্ধার

received_2232162693540129.jpeg

মোঃ নাজিম উদ্দিন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

দীর্ঘদিন ধরে বেদখল হয়ে আছে সড়ক ও জনপদ বিভাগের শত শত হেক্টর জায়গা। স্থানীয়রা এসব জায়গাতে গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন স্থাপনা। অবশেষে সেইসব জায়গা উদ্ধারে নেমেছেন কর্তৃপক্ষ। দোহাজারী সড়ক ও জনপদ বিভাগ সাতকানিয়া ও চন্দনাইশ উপজেলার কয়েকটি এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমান সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গা উদ্ধার করেছে। জবরদখল উচ্ছেদে পূনঃরুদ্ধারকৃত জায়গার আনুমানিক মূল্য ৫০ কোটি টাকা। (২০ জুন) বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত দোহাজারী বাজার সংলগ্ন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক, বোটঘাটা ও সাতকানিয়া উপজেরার কালিয়াইশ ইউনিয়নের কাটগড় বিওসি’র মোড় এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে ১৬৫টি দোকান উদ্ধার করে। দোহাজারী সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে দোহাজারী সড়ক ও জনপদ বিভাগের অধিগ্রহন করা জায়গায় স্থানীয়রা দোকানপাট ও নানা ধরনের মিল কারখানাসহ বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা নির্মান করে সওজের মালিকানাধীন সরকারী জায়গা জবর দখল করে রেখেছিল। বর্তমান সরকার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে ৪ লাইনে উন্নিত করে এশিয়ান হাইওয়ে নির্মানের মেগা পরিকল্পনা গ্রহন করলে অধিগ্রহনকৃত জায়গা থেকে স্থাপনা সরানোর জন্য জবরদখলকারীদের বিভিন্ন সময় নোটিশ কিংবা মৌখিকভাবে নির্দেশ প্রদান করা হয়। তাছাড়া বিভিন্ন সময়ে এনজিও দ্বারা সড়ক ও জনপদ বিভাগ অধিগ্রহনকৃত জায়গায় নির্মিত স্থাপনার মূল্য যাচাই, ক্ষয়ক্ষতির পরিমানসহ মার্কিং করা হয়। সর্বশেষ গত ১ মাস পূর্বে সওজের জায়গায় নির্মিত স্থাপনার মালিকদের ক্ষতিপূরন ব্যতিরেখে স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ প্রদান করে সওজ কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে স্থপনার মালিকরা গত ১৫ জুন শনিবার তাদের দীর্ঘদিনের নির্মিত স্থাপনার ক্ষতিপূরন দাবী করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেন। পরের দিন রোববার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার কথা থাকলেও স্থানীয় সংসদ সদস্যে অনুরোধে সওজ কর্তৃপক্ষ অভিযান ১ সপ্তাহ পিছিয়ে দেন যাতে নির্মিত স্থাপনার মূল্যবান মালামাল মালিকরা নিজেরাই নিরাপদে সরিয়ে নিতে পারেন। রহস্যজনক কারনে সংসদ সদস্যকে দেয়া ১ সপ্তাহ অতিক্রমের দু’দিন আগেই দোহাজারী সওজ বিভাগ এ অভিযান পরিচালনা করে। যার কারনে বিভিন্ন দোকান মালিকরা তাদের মূল্যবান জিনিসপত্র সরানো সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। অভিযান পরিচালনা করেন সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও এষ্টেট ও আইন কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগম। এ সময় দোহাজারী সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহেদ হোসেনসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাকালে সাতকানিয়া ও চন্দনাইশ থানার বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সার্বিক সহযোগিতা করেন।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্থ দোকান মালিক মিল কারখানার মালিকরা অভিযোগ করে বলেন, যেসব জায়গা আজকে সওজ দাবী করছে ওই জায়গা আরএস ও পিএস ক্ষতিয়ানে তাদের মূলসী সম্পত্তি। বিএস ক্ষতিয়ান মূলে সওজ অধিগ্রহন করার কথা জানালেও এ বিষয়ে তারা কোন কাগজপত্র পায়নি কিংবা সওজ তাদের এসব কাগজপত্র দেয়নি। আবার অনেকে অভিযোগ করেছেন, সওজের অধিগ্রহনের কাগজ পেয়েছে তবে তাদের দখলীয় ১০ শতক জায়গার মধ্যে অধিগ্রহন করা হয়েছে ৬ শতক কিন্তু উচ্ছেদ করে সওজ গায়ের জোরে তাদের পুরো জায়গা দখল করে নিয়েছে।
অনেকে বলছেন ভিন্ন কথা তারা বলেন, বিএস খতিয়ান মূলে তাদের জায়গা অধিগ্রহন করলেও স্থাপনাসমূহ নির্মান করা হয়েছিল আরএস ও পিএস খতিয়ানে যখন তাদের নিজস্ব জায়গা ছিল। তারা জায়গা অধিগ্রহনের বিষয়ে কোন অভিযোগ না করলেও স্থাপনার ক্ষতিপূরণ দাবী করছেন। এ বিষয়ে তারা সরকারের সংশ্লিস্ট মহলের আশু হস্তক্ষপে কামনা করছেন। আবার ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে অনেকে সওজের কর্মকর্তাদের সাথে আর্থিক লেনদেনের কথা বলেছেন। দোহাজারী সড়ক ও জনপদ বিভাগের এক ড্রাফট্স ম্যান বিভিন্ন দোকান মালিক ও ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে উচ্ছেদ তালিকা থেকে বাদ দেয়ার কথা বলে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহন করেছেন। ওই ড্রাফট্স ম্যান অধিকাংশ দোকান মালিক কিংবা ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্থরা বলেন। পুরো দোহাজালী এলাকা থেকে তিনি সর্বমোট ৬-৭ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহন করেছেন বলে জানা গেছে।
যোগাযোগ করা হলে দোহাজারী সড়ক ও জনপদ বিভাগের ড্রাফট্স ম্যান গোলাম মোক্তাদীর মাওলা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, টাকা নেয়ার প্রশ্নই আসে না। সরকারী জায়গা থেকে সরকার অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করবে এখানে আমি টাকা নিতে যাব কেন?

Top