সাবেক খাদ্যমন্ত্রী মেজর (অব.) ইকবাল হোসেন চৌধুরীর ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী

SYLHET-19.06.19-PIC-মেজর-ইকবাল-হোসেন-চৌধুরী।.jpg

সিলেট::
সাবেক খাদ্যমন্ত্রী বীরমুক্তিযোদ্ধা মেজর মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরীর ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী বৃহস্পতিবার।
এ উপলক্ষে মরহুমের সুনামগঞ্জ জেলা শহরের আরপিন নগরস্থ সৈকত/ ১২ বাসভবনে বৃহস্পতিবার বাদআছর কোরআনখানি ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।,
১৯৪৪ সালের ২১ অক্টোবর সুনামগঞ্জের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের প্রয়াত আবুল হোসেন চৌধুরী (মুক্তার) ও প্রয়াত করিমুন নেছা খাতুন চৌধুরী দম্পতির গর্ভে জন্ম গ্রহন করেন ইকবাল হোসেন চৌধুরী ।
শিক্ষা জীবন শেষে তিনি পাকিস্তান মিলিটারী একাডেমিতে ১৯৬৫ সালে কমিশন প্রাপ্ত হয়ে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ড পদে যোগদান করেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি পাকিস্তান মিলিটারী একাডেমি থেকে পালিয়ে প্রথমে তিনি ভারতে ও পরবর্তীতে মাতৃভুতিতে ফিরে এসে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশ গ্রহন করেন।
১৯৭৫ সালে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারের ঘাতকরা নৃশংসভাবে হত্যার পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যে সকল অফিসার প্রতিবাদ করেছিলেন তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম। খন্দকার মোশতাকের উপর ক্ষুদ্ধ হয়ে প্রতিবাদে তিনি ষ্টেনগান নিয়ে তেড়ে গিয়েছিলেন।
এ ঘটনায় তাকে বিদ্রোহি আখ্যা দিয়ে সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি দেয় মোশতাক সরকার।,এ ঘটনায় প্রহসনের বিচার শুরু হরে তিনি আত্বগোপনে চলে যান। এরপরও জেনারেরল জিয়াউর রহমান শাসিত আমরে তাকে গ্রেফতার করে নানা কুটকৌশল এবং চাপে ফেরে রাজনীতিতে সক্রিয়করার চেষ্টা চালায়।
তিনি সুনামগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতি ও জনসেবামুলক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত হয়ে ১৯৭৭ সালে সুনামগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
১৯৮৬ সালে সুনামগঞ্জ -৪(সদর-বিশ্বম্ভরপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থীকে বিশাল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালে পুন:রায় একই আসন থেকে এবং পরবর্তীতে আরো এক মেয়াদ সহ তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি তিন বার খাদ্যমন্ত্রী , একবার জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ আরো একমেয়াদে ডাক,তার ও টেলিযোগ প্রতিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্বপালন করেন।,
আমৃত্যু তিনি সুনামগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সংগঠক এবং জেলা সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন।
তার মৃত্যুর পর তারই সহধর্মিনী মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক বেগম মমতাজ ইকবাল সুনামগঞ্জ সদর আসন থেকে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় ২০০৯ সালের ১৭ জুন তিনিও মৃত্যুবরণ করেন। মেজর ইকবাল ও মমতাজ ইকবাল দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে ছেলে ইনান ইসমাম চৌধুরী প্রিয় সুনামগঞ্জ রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত, কানাডা প্রবাসী ইমিতা চৌধুরী ব্যারিষ্টার অপর মেয়ে ইপশিতা চৌধুরী চ্যাটার্ড একাউন্টেন্ড।

Top