পারফেক্ট হাজবেন্ড

Captdeure.png

কঠিন অগ্নি পরীক্ষার মধ্যদিয়ে নিখাদ ভালোবাসাকে খুঁেজ পাওয়ার গল্পে রচিত নাটক ‘পারফেক্ট হাজবেন্ড’। প্রথমে জানিয়ে রাখি মারুফ রেহমানের রচনায় নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামূল এর পরিচালনায় নাটকটিতে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা আফরান নিশো এবং অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরী। নাটকটি পরিবেশন করেছে ‘রিং আইডি’।

কাহিনী সংক্ষেপ: নাটকটি শুরু হয় বিবাহ অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে। বাসরঘরে বাধে গন্ডগোল। নিশোর মোবাইলে একটি কল আসে তার বন্ধু এক্সিডেন্ট করেছে। কিন্তু নিশোর মোবাইলে চার্জ না থাকায় মেহজাবিনের মোবাইল হাতে নিলেই মেহজাবিন নিশোকে সন্দেহ করে সে কেনো ওর মোবাইল ধরল? এই নিয়ে দু’জনের কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে নিশো মেহজাবিনকে চলে যেতে বলে। পরে মেহজাবিন ঐরাতেই নিজেদের বাসায় রওয়ানা হলে নিশো পড়ে বিপদে। নিশোর দাদি,‘পরের বাড়ির মেয়ে আমরা যদি ভালো না বাসি, মায়া না করি তবে কি আমাদের আপন করে নিতে পারবে? আমাদের কি ভালোবাসতে পারবে? আমাদেরকে তাদের ভালোবাসতে হবে। বউ কই? তোরা কই এখন? বউয়ের সাথে ঝগড়া করবি না’
নিশো অনেক খোঁজাখুঁজির পরে মেহজাবিনকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। অপেক্ষা করছে তার বাসা থেকে গাড়ি আসবে তারপর সে বাড়িতে চলে যাবে। নিশো দাদিকে বলেছে আমরা নিচে ছবি তুলতে বেড়িয়েছি। কিন্তু দাদি তো জানেনা যে তার নাতি গন্ডগোল পাকিয়েছে। যেখান থেকে দেমাগ শিখেছে সেখানে চলে যেতে বলেছে মানে বাপের বাড়িতে চলে যেতে বলেছে।
মেহজাবিনকে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করে বাসায় ফিরিয়ে নিতে নিশো। কিন্তু মেহজাবিন কিছুতেই যাবে না সে নিজেদের বাসায় চলে যাবে। সে আর নিশোর সাথে যাবে না। পরে নিশোকে শর্ত দেয়া হয় যদি সে এই শর্তগুলো মেনে চলে তবেই কেবল ফিরবে। শর্ত মানার ভিত্তিতে মেহজাবিন নিশোর সাথে শ্বশুর বাড়িতে ফিরে। কিন্তু নিশোর নিত্যদিনের স্বভাবানুযায়ী সে যখনই চলতে যায় তখনই আরো নতুন শর্ত যোগ হতে থাকে। নিশো পরে আরো বিপদে। তবু সে সবকিছু অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলার চেষ্টা করে। অবশেষে নিশো অগ্নি পরীক্ষায় পাশ করে। নিজেদের মধ্যাকার বিভেদ মিটে গিয়ে মেহজাবিন নিশোকে ‘পারফেক্ট হাজবেন্ড’ হিসেবে গ্রহণ করে।

নাটকটির উল্লেখ্যযোগ্য দিক: আমাদের যৌথ পরিবারগুলো সাধারণত দিন দিন ভেঙে যাচ্ছে। নাটকের মধ্যেও এখন ঠাঁই মিলে শুধুমাত্র স্বামী-স্ত্রী মিলে দু’জনার পরিবার। যেখানে দাদি নানি তো দূরে থাক মা-বাবারও ঠাঁই মিলে না। কিন্তু এই নাটকটিতে দেখা যায় নিশোর ভালোবাসার জয়ের পিছনে মেহজাবিনের মায়ের চরিত্রে যিনি ছিলেন এবং নিশোর দাদি চরিত্রে যিনি ছিলেন দু’জনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। যা দর্শককে মুগ্ধ করবে। তাদের ভালোবাসা-দায়িত্বশীলতা যে কাউকে মুগ্ধ করবে। তাই সুখী পরিবার গঠন করতে চাইলে যৌথ পরিবার খুবই প্রয়োজন। আর সংসারে টুকটাক ঝামেলা থাকবেই, তার মধ্য দিয়েই তৈরি করতে হবে সুখের সিঁড়ি। রচয়িত হবে সুখের সোপান।

Top