রংপুরে মে মাসে প্রতিদিন গড়ে একজন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার

IMG_20190611_230845.jpg

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর:

রংপুর জেলায় মে মাসে প্রতিদিন গড়ে একজন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

গত এক মাসে খুন হয়েছে ৭ জন। ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৪ জন নারী ও শিশু। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় গত মে মাসের এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক এনামুল হাবিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সোমবারের এই সভায় উপস্থিত ছিলেন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মুহা,আবদুল আলীম মাহামুদ, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানসহ অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

সভার প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, গত মে মাসে জেলায় খুন হয়েছে ৭টি, তার দু’টিই মেট্রোপলিটন এলাকায়। জেলায় নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে ২৯ জন এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৬ জন। ধর্ষণের শিকার হয়েছে মোট ১৪ জন, এর মধ্যে মেট্রোপলিটন এলাকায় ৬ জন এবং জেলার ৮ উপজেলায় ৮ জন।

এ ছাড়া অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে ৩ টি। এর মধ্যে জেলায় ১টি এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় ২টি। জেলায় মাদকদ্রব্য অভিযান পরিচালিত হয়েছে ৬৬টি এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় হয়েছে ৭৬টি। জেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকায় চুরি হয়েছে ৬টি। জেলায় অন্যান্য অপরাধ সংগঠিত হয়েছে ১৬১টি এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় হয়েছে ৫০টি। সব মিলিয়ে জেলায় গত মাসে ২৭১টি অপরাধ সংগঠিত হয়েছে এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় অপরাধ হয়েছে ১৪৫ টি।

অপরাধ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত এপ্রিল মাসের চেয়ে মে মাসে খুন বেড়েছে একটি। তবে এপ্রিল মাসের চেয়ে মে মাসে চুরি কমেছে। মাদকবিরোধী অভিযান এপ্রিল মাসের চেয়ে মে মাসে কম হয়েছে। নারী শিশু নির্যাতন এপ্রিল মাসের চেয়ে মে মাসে কমলেও ধর্ষণের সংখ্যা একটি বেড়েছে। অন্যান্য অপরাধ এপ্রিল মাসের চেয়ে ৭০টি বেড়েছে। মোট অপরাধও কিছুটা বেড়েছে।

এ ছাড়া মে মাসে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে মোট অভিযান পরিচালিত হয়েছে ২২৮টি। এর মধ্যে মেট্রোপলিটন পুলিশ ৬৭টি, জেলা পুলিশ ৪৭টি, র্যাব ৬টি, জেলা চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটি ৬টি এবং জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ১০১টি অভিযান পরিচালনা করে। এসব অভিযানে মামলা হয়েছে ১৪৯টি এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৭১জনকে।

এ সময় ২২ লাখ ৫৩ হাজার ৪’শ টাকার ফেনসিডিল, গাজা, ইয়াবা, হেরোইন, চোলাই মদ,তাড়িসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।

Top