ঈদের পোষাক চাইনা ! দুমুঠো ভাত চাই

20190602_120019.jpg

তানজীল ইসলাম শুভ,বরিশাল :

” বলছি ১ জন বিধবা ও তার ২ এতিম সন্তানের কথা ”

রাবেয়া বেগম (৫০) এক হতভাগী বিধবা, ৬ বছর আগে স্টোক করে স্বামী মারা গেছেন। রেখে গেছেন ১ ছেলে আর ১ মেয়ে।
এর পর থেকে শুরু করেন ছেলে মেয়ের লেখাপড়া আর খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম।
কিন্ডারগার্টেন স্কুলের আয়ার কাজ ছেড়ে তাই বেছে নিয়েছেন স্বামীর রেখে যাওয়া ভ্যানগাড়িতে করে শেষ বিকেলে ও রাতে চৌমাথা বাজার বরিশাল বসে চানাচুর, বিস্কুট, টোস্ট ইত্যাদি বিক্রি।
ছেলে সুমন লেখাপড়ার পাশাপাশি স্কুল ছুটির দিন এবং মাঝেমধ্যে স্কুল বন্ধ দিয়ে মায়ের সাখে সংসারের খরচ ও লেখাপড়ার খরচ যোগাতে বরিশাল শহরে অটোরিক্সা চালাত।
এ বছর সে সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত আছে ।
আর মেয়ে সুমনা এখন ৪র্থ শ্রেনীতে অধ্যয়নরত।
গত ২০ দিন আগে সুমন স্কুলে পরীক্ষা দিয়ে ২ তলা থেকে নিচে নামার সময় পা পিছলে পড়ে গিয়ে পায়ের গোড়ালির জয়েন্ট ছুটে যায়।
এদিকে রোজা শুরু হওয়ায় হতভাগীর বেচা বিক্রি অনেক কমে যায়। এরপর
গত ২০ দিন যাবৎ অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করে ক্লান্ত হয়ে পড়ায় চানাচুর বিক্রি বন্ধ করে দেন।
গতকাল মাহিনের মায়ের কথাগুলো শুনে এবং বরিশালের একটি সংগঠনের পোস্ট দেখে হতভাগীর কথা মনে পড়ে। দুপুরে ফোন দিয়ে কথার ফাঁকে জিজ্ঞেস করলাম আপনার মেয়ে ছেলের ঈদের জন্য কিছু কেনাকাটা করেছেন?
উত্তর দিলেন, “ছেলে মেয়ে নিয়ে বেঁচে আছি এটাই তো অনেক কিছু, আবার কেনাকাটা “।
ছেলে ২০ দিন যাবৎ পা ভেঙ্গে ঘরে বসা, এদিকে রোজার জন্য বেচা বিক্রি হয় না, তাছাড়া রোজা রেখে আর পারি না।
ছেলের জন্য এখনো দৈনিক ৭০ টাকার ঔষধ লাগে।
তখন আমি বললাম,” ছেলের পা ভাঙ্গার কথা আমাকে জানালেন না কেন”?
তখন কান্না জড়িত কন্ঠে আমাকে বললো, আল্লাহ তো আমাকে একটার পর একটা বিপদ দিতেছে, তোমারে আর কত ঝালামু।
আমি এপ্রিলের ২৮ তারিখ বরিশালে গিয়েছিলাম তখন আমাকে বলছিলো মেয়ের বই খাতা তো কিনে দিছো, ছেলের এখন বই কিনে দিতে পারি নাই পারলে কিনে দিও।
এই মুহুর্তে যদি কোন হৃদয়বান থাকেন দয়াকরে একটা অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ান, যারা ঈদের কিছু চায়না চায় দুমুঠো ভাত।

যোগাযোগ : এসএনডিসি বাংলাদেশ
01731063444

Top