বাইসাইকেলে ছড়ে মন্ত্রীসভায় যোগ দিলেন উডিষ্যার মোদি

2019053123423015cf16786ce4ac-800x280.jpg

অনলাইন ডেস্ক :

ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয়বারের মতো শপথ নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। একই রাতে রাজ্য প্রতিমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন ওড়িশার বালাসোর আসন থেকে নির্বাচিত বিজেপি প্রার্থী প্রতাপ চন্দ্র সারঙ্গি। যাকে রাজ্যের মানুষ ‘ওড়িশার মোদি’ বলে ডাকেন। একেবারেই সাধারণ গোছের সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি পরা। মাথার উস্কো খুস্কো চুল দাড়ির প্রতাপ চন্দ্র সারঙ্গি দীর্ঘ দিন রাজনীতি করলেও, তার একটা বাইসাইকেল ছাড়া অন্য কোনো বাহন নেই। বালাসোরের খড়ে ছাওয়া একটা কুঁড়ে ঘরই তার স্থায়ী ঠিকানা। মোদির মন্ত্রিসভায়ও গেলেন তিনি সাইকেলে চড়েই।

১৯৫৫ সালে ওড়িশার নীলগিরির গোপীনাথপুর গ্রামের এক গরীব পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন প্রতাপ চন্দ্র সারঙ্গি। ছেলেবেলা থেকেই তার মন পড়ে থাকত আধ্যাত্মিক বিষয়ে। সে সব নিয়ে লেখালিখিও করতেন তিনি। স্থানীয় ফকির কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর চাকরিতে না ঢুকে বেড়িয়ে পরেন সন্ন্যাসী হতে। কিন্তু পিতৃহারা প্রতাপের মা বাড়িতে একা জেনে মঠের সন্ন্যাসীরা তাকে বাড়ি ফেরত পাঠিয়ে দেন মায়ের সেবা করার জন্য।

তবে মঠের সাধু না হয়েও সংসারে থেকে তার জীবন কোনও সাধুর থেকে কম নয়। কাছের লোকেরা বলেন, উনি শিব জ্ঞানে জীবের সেবা করেন। গণশিক্ষা মন্দির যোজনার অধীনে প্রতাপ সারঙ্গি ময়ুরভঞ্জ ও বালাসোরের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় দুঃস্থ শিশুদের জন্য অনেক স্কুলও গড়েছেন। এছাড়াও এলাকার সার্বিক উন্নয়নে তার অবদান কম নয়। আদ্যন্ত সরল একটা মানুষ বলেই গ্রামের মানুষের কাছেও ঘরের লোক তিনি।

অবশ্য ভারতজুড়ে সারেঙ্গির পরিচয় মন্ত্রী হওয়ার পর ছড়ালেও আগে থেকেই ওড়িশাতে তিনি আলোচিত চরিত্র। লোকসভার এমপি হওয়ার আগে প্রতাপ সারঙ্গি ওড়িশার নীলগিরি বিধানসভা আসন থেকে দুইবার (২০০৪ ও ২০০৯) নির্বাচিত হয়েছিলেন। এত বছর ধরে এমপি থাকার পরও তার বাড়িটা কুঁড়েঘরই আছে। সাইকেল চালিয়ে নিজের পুরো নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়ান এ নেতা।

তবে, শুধু একজন সাধাসিধে জীবনে জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিক নন সারেঙ্গি। তার অতীতের আরও একটি পরিচয় আছে। তিনি এক সময় হিন্দুত্ববাদী জঙ্গি সংগঠন বজরঙ্গ দলের নেতা ছিলেন।

বিবিসি’র এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে ওড়িশায় গ্রাহাম স্টেইন্স নামে এক অস্ট্রেলিয়ান খ্রিষ্টান মিশনারিকে বজরঙ্গ দলের সদস্যরা পিটিয়ে হত্যা করেছিল তখন সারেঙ্গি রাজ্যের বজরঙ্গ দলের প্রধান ছিলেন। ২০০৩ সালে গ্রাহাম স্টেইন হত্যা মামলার রায়ে বজরঙ্গ দলের আরেক নেতা দারা সিংহসহ ১২ জনকে দণ্ড দেয় আদালত। যদিও পরে হাইকোর্ট দারার মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে। এছাড়া বাকি ১১ দণ্ডিতকেও মুক্তি দেয়া হয়। ২০০২ সালে ওড়িশা রাজ্যসভায় হামলার অভিযোগে বজরঙ্গ দল ও অন্যান্য উগ্রপন্থী কয়েকটি গ্রুপের বেশ কয়েকজন সদস্যের সাথে সারেঙ্গিও গ্রেফতার হয়েছিলেন।

কিন্তু সামাজিক মাধ্যম আর ভারতের মূলধারার সংবাদমাধ্যমে এই উগ্রপন্থী নেতা শুধু সাধাসিধে জীবনের কারণে ‘সোশাল মিডিয়া হিরো’য় পরিণত হয়েছেন

Top