প্রথমবারের মত ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন বিশ্বের মুসলিম নেতারা।

received_687494728371569.jpeg

মুজিবুর রহমান।

প্রথমবারের মত ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন বিশ্বের মুসলিম নেতারা
রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রথমবারের মত ঐক্যবদ্ধ হতে চলেছেন মুসলিম বিশ্বের নেতারা। সৌদি আরবের জেদ্দায় চলছে ওআইসি’র ১৪তম সম্মেলন। সেখানে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীসহ সংখ্যালঘু মুসলিমদের জন্য কঠোর অবস্থান নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মুসলিম নেতারা। গত ৩০ শে মে মন্ত্রিপর্যায়ের সম্মেলন। আজ ৩১শে মে এ সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দেরিতে হলেও রোহিঙ্গা ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধভাবে সরব মুসলিম দেশগুলোর সহযোগী সংস্থা ওআইসি। চলমান মক্কা সম্মেলনের মধ্যে সংস্থাটির নিজস্ব যোগাযোগের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে ভিডিও। যেখানে লেখা হয়েছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীসহ সমগ্র মুসলিমদের জন্য স্পষ্ট অবস্থান নিতে যাচ্ছে মুসলিম নেতারা।

আজ ৩১ মে মক্কা নগরীতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ওআইসির এই চতুর্দশ ইসলামিক সম্মেলন। তিন দিনের জাপান সফর শেষে ওইদিনই টোকিও থেকে সৌদি আরব যাবেন প্রধানমন্ত্রী। এ সম্মেলনে ওআইসির সদস্য রাষ্ট্র, অবজার্ভার রাষ্ট্র, ওআইসি প্রতিষ্ঠানসমূহ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানসহ মোট ১৪৮টি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল অংশ নেবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই শীর্ষ সম্মেলন থেকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে রোহিঙ্গাদের আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে মামলা করার প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেয়া যাবে বলে আশা করা যায়।

এই সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার পাশাপাশি সাইড লাইনে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

ড. মোমেন জানান, রোহিঙ্গা ইস্যুর পাশাপাশি কিছু মুসলিম দেশে সংঘাত ও অন্তর্দ্বন্দ্ব বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা যে ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে কিভাবে সেগুলোর সমাধান করা যায়, বিশ্বব্যাপী যে ইসলাম ফোবিয়া তৈরি হয়েছে তা দূরীকরণের উপায়, মুসলিম উম্মাহর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কর্মপরিকল্পনা, ওআইসি দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা এগিয়ে নেয়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন বিষয়ক ওআইসি এজেন্ডা প্রভৃতি বিষয় আলোচনায় স্থান পাবে।

এ ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং ফিলিস্তিন ও আলকুদ্দূস বিষয়ে ফিলিস্তিনিদের ন্যায়সঙ্গত দাবি ও অধিকারের বিষয় আলোচনায় বরাবরের মতোই গুরুত্ব পাবে বলেও জানান তিনি।

ড. মোমেন বলেন, ‘সমস্ত ঘটনাপ্রবাহ এবং আনুষঙ্গিক সম্ভাবনা-সম্ভার (পসিবিলিটি ফ্রন্টিয়ার) পর্যালোচনা করে এটি প্রতীয়মান যে, আসন্ন চতুর্দশ ওআইসি শীর্ষ সম্মেলন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে এক উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে পরিগণিত হবার সবগুলো গুণাবলী অর্জন করতে চলেছে।’

২০১৯ সালের ওআইসি শীর্ষ সম্মেলন অনেকগুলো নাটকীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে পরিভ্রমণ করে শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, প্রথমে এই শীর্ষ সম্মেলন পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল। গাম্বিয়া ২০১৯ সালের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব থেকে সরে আসে এবং এর পরবর্তী (অর্থাৎ পঞ্চদশ ওআইসি শীর্ষ সম্মেলন) অনুষ্ঠানের জন্য পুনরায় প্রস্তাবনা পেশ করে।

ইতোমধ্যে চতুর্দশ শীর্ষ সম্মেলনের সাইড লাইনে ২৮-৩০ মে ২০১৯ তারিখে রোহিঙ্গা বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের অ্যাডহক বৈঠক গাম্বিয়ার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

Top