গোদাগাড়ীতে ৩১শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেই কোন চিকিৎসা সেবা ভুক্তভোগীদের অভিযোগ

unnamed-2-7.jpg

শামীম পারভেজ – রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি :

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা সদরের ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্স সংকট জরুরি বিভাগে কোন ডাক্তার নেই। নেই ওষুধের সরবরাহ ও জেনারেটরের ব্যবস্থা; অ্যাম্বুলেন্সটিও বিকল অ্যাম্বুলেন্সটি টাকার জন্য মাঝে মাঝে আর একটি গাড়ির প্রয়োজন হয়। চিকিৎসদের হাসপাতালে নিয়মিত অনুপস্থিতি। ফলে সবমিলিয়ে এখানে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা অনেকখানি ব্যাহত হচ্ছে।

চিকিৎসকদের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও, মিলছে না চিকিৎসা সেবা। ফলে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে বাধ্য হচ্ছেন সেবা গ্রহীতারা। ১ লা আগস্ট১৯৯৯ সালে নির্মিত এ হাসপাতালটি ২০০১ সালের সেবা কর্যক্রম শুরু করে। ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে আসা চিকিৎসক বাইরে ফার্মেসি ক্লিনিকে যে বেশিরভাগ সময় কাটাই,পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকার ফলে হাসপাতালে কর্মরত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী, বাবুর্চি, সুইপার চিকিৎসকের কাজ করে চলেছেন দিনের পর দিন। যেন দেখার কেউ নেই।

স্থানীয় জনগণ ও চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জরুরি বিভাগে ২৪ ঘণ্টা একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকার নিয়ম । সেখানে মাঝে মাঝে চিয়ারটা ফাঁকা থাকে, রোগী রয়েছে অপেক্ষায় বসে থাকে আবার রোগীরা এসে ঘুরে যাই, থাকলেও সেখানে রয়েছেন একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার। হাসপাতলটিতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শূণ্যতা থাকায় বেশীরভাগ দিনই হাসপাতালে ফার্মাসিস্ট, সুইপাররা চিকিৎসকের কাজ করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা য়ায়, নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতালটিতে চিকিৎসক থাকার কথা ৯ জন কিন্তু আছেন ৩ জন। এদের মধ্যে আবার একজন চিকিৎসক (ডেন্টাল সার্জন) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেপুটেশনে আছেন। নার্স থাকার কথা একজন সুপারভাইজারসহ ১১ জন, কিন্তু কর্মরত আছেন ৫ জন। এছাড়াও কর্মরত আছেন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দুইজন, আয়া ৩ জন, ওয়ার্ডবয় ২ জন, গার্ড ১ জন, মালি ১ জন, অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার ১ জন, জুনিয়র মেকানিক ১ জন, কুক/মশালচি ২ জন, রেডিওগ্রাফার ১ জন।

রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,

তারা বলেন হাসপাতালে শুরু থেকেই এক্স-রে মেশিন থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দীর্ঘদিন থেকে তা নষ্ট হয়ে আছে। আর প্যাথলজির ব্যবস্থা থাকলেও শুধু প্রসাব পরীক্ষা ছাড়া আর কিছু করা হয় না।

হাসপাতালের পাশেই বসবাসকারী স্থানীয় বাসিন্দারা জানান মো. ইলিয়াস আলী , ক্রিকেটার দুলাল, আকাশ পলাশ,ইসাহাক,বাবু, ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, সাংবাদিকরা আসে আর তথ্য নিয়ে যায়, কিন্তু হাসপাতালের চিকিৎসার কোনো উন্নতি হয় না। যে রকমেই সমস্যা সেই রকমই আছে। আর কতদিন চলতে থাকতে এমন বেহাল দশা? হাসপাতালটির দিকে কি কারো নজর পড়বে না আমরা সকলেই চাই হাসপাতালটি চিকিৎসা সেবার উন্নয়ন।

Top