বৈদেশিক শিক্ষা সফরে ফিলিপাইন যাচ্ছেন বোয়ালখালীর শিক্ষক ফারুক ইসলাম

61855049_1282771881876458_910361384024276992_n.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা সফরে ফিলিপাইন যাচ্ছেন শিক্ষক মো. ফারুক ইসলাম। আগামী ৯ জুন তিনি ফিলিপাইনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। জানা যায়, ২০১৭ সালে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহে চট্টগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন দক্ষিণ কড়লডেঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ফারুক ইসলাম। জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়ে তিনি পিইডিপি-৪ এর আওতায় চলতি বছর বৈদেশিক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা সফরের জন্য নির্বাচিত হন। গত ২৬ মে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি নাজমা শেখ স্বাক্ষরিত এক আদেশে বৈদেশিক শিক্ষা সফরের ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত হন। তিনি সহ বাংলাদেশের আরো ২৪ জন শিক্ষক শিক্ষিকা আগামী ১০ জুন থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত মর্ডান স্কুল ম্যানেজমেন্ট শীর্ষক প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহণ করবেন।
ফারুক ইসলাম ২০১২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বোয়ালখালীর শেষ প্রান্তে অবস্থিত দক্ষিণ কড়লডেঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। শত প্রতিকূলতার মাঝেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া বিদ্যালয়টিকে তিনি পরিশ্রম ও দক্ষতা দিয়ে সকলের নিকট পরিচিত করে তোলেন। তার যোগদানের পর থেকে বদলে যেতে শুরু করে বিদ্যালয়ের দৃশ্যপট। লেখাপড়া, ক্রীড়া, স্কাউটিং প্রভৃতি ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখতে শুরু করে অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দুইজন শিক্ষক নিয়ে সংগ্রাম করে যাওয়া বিদ্যালয়টি বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে জেলা পর্যায়ে রানার্স আপ হয়। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলে জেলা পর্যায়ে সেমিফাইনাল খেলে অত্র বিদ্যালয়ের ছেলেরা। বিদ্যালয়ে প্রায় ১০ বছর ধরে প্রধান শিক্ষক না থাকা এবং শিক্ষক স্বল্পতার কারণে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলা একটা বিদ্যালয়কে তিনি বোয়ালখালী সহ পুরো চট্টগ্রামে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেন।
এব্যাপারে শিক্ষক ফারুক ইসলাম জানান, দক্ষিণ কড়লডেঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করার পর থেকে বিদ্যালয়টির নাজুক অবস্থা দেখে খারাপ লাগতো। শিক্ষক স্বল্পতার কারণে পাঠদানের পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হতো। ম্যানেজিং কমিটি থাকলেও তা ছিলো নামে মাত্র। কার্যক্রম বলতে তেমন কিছু ছিলো না। ২০১৬ সালে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে বিদ্যালয়টিকে সাজানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করি। সর্বপ্রথম নামে মাত্র ম্যানেজিং কমিটিতে পরিবর্তন আনি। নতুন ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে বিদ্যালয়টিকে গোছানোর কাজে নেমে পড়ি। এলাকার বিত্তশালীদের কাছ থেকে শিক্ষকদের জন্য বসার চেয়ার, গরিব শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপকরণ, খেলাধুলার সরঞ্জাম, পোশাক প্রভৃতি জিনিস সংগ্রহ করতে থাকি। পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয় দিবস, শিক্ষা সফর, মা সমাবেশ, অভিভাবক সমাবেশ প্রভৃতি কাজ ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যেতে থাকি। এভাবে আস্তে আস্তে পাল্টাতে শুরু করে বিদ্যালয়ের পরিবেশ। বর্তমানে বিদ্যালয়টি বোয়ালখালী সহ চট্টগ্রামের মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করেছে।
তিনি আরো জানান, তার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হওয়ার পেছনে রয়েছে তার পরিশ্রম। চেষ্টা আর পরিশ্রমের ফলে বোয়ালখালীর প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটা স্কুলে চাকরি করেও খুব অল্প সময়ে চট্টগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন তিনি। তার এই সাফল্যে পিছনে যাদের বড় অবদান তারা হলেন, বোয়ালখালী উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসার সৈয়দা আমাতুল্লাহ আরজু ও সহকারী শিক্ষক সমিতি বোয়ালখালী উপজেলা শাখার সভাপতি মো. শওকত হোসেনের। তারাই প্রথম উৎসাহ যোগান শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের প্রতিযোগিতার অংশ গ্রহণ করার জন্য। এছাড়া বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা তো আছেনই।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষক ফারুক ইসলাম অত্র বিদ্যালয়ের যোগদানের পর থেকেই বিদ্যালয়টির পরিবর্তন শুরু হয়। তিনি বিদ্যালয়টিকে দাড় করানোর ক্ষেত্রে শুরু থেকেই পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তার প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলছে। তার এই সাফল্যে দক্ষিণ কড়লডেঙ্গার লোকজন খুবই খুশি। তারা মনে করেন পরিশ্রম, চেষ্টা আর আন্তরিকতার কারণে তিনি সফল হয়েছেন।
শিক্ষক ফারুক ইসলাম শিক্ষকতার পাশাপাশি সাংবাদিক, গীতিকার ও সুরকার হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। তিনি বোয়ালখালী প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার লেখা ৬টি গান সংগীত পরিচালক বাসুদেব ঘোষের সুর ও সংগীতে মুক্তি পেয়েছে। আরো বেশ কয়েকটি গান প্রকাশের অপেক্ষায় আছে।
প্রশিক্ষণ শেষে আগামী ১৭ জুন তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। এদিকে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা সফরের জন্য মনোনীত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। তারা ফারুক ইসলামের উত্তরোত্তর সফলতা কামনার পাশাপাশি তার সফর যেন ফলপ্রসূ হয় সেজন্য শুভ কামনা জানিয়েছেন। সফলভাবে বৈদেশিক শিক্ষা সফর যেন শেষ করতে পারেন এজন্য শিক্ষক ফারুক ইসলাম সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।
উল্লেখ্য, শিক্ষক ফারুক ইসলাম বোয়ালখালীর পূর্ব গোমদণ্ডী গ্রামের হাজী রুহুল আমিনের বাড়ির মো. নুরুল ইসলাম ও আয়েশা বেগমের পুত্র। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। ছোট দুই ভাইও চাকরি করেন এবং ছোট বোন পশ্চিম গোমদণ্ডী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা।

Top