এবার ঈদে ঘুরে আসুন “ঝর্নার স্বর্গ”নামে খ্যাত মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড।

received_611986392631339.png

শাহারিয়ার সানভি।

সাংবাদিক ও লেখক মার্ক টোয়েন বলেছেন – আজ থেকে বিশ বছর পর আপনি এই ভেবে হতাশ হবেন যে,আপনার পক্ষে যা যা করা সম্ভব ছিল তা করতে পারেননি। তাই নিরাপদ আবাস ছেড়ে বেরিয়ে পড়ুন। আবিষ্কারের জন্য যাত্রা করুন, স্বপ্ন দেখুন আর শেষমেশ আবিষ্কার করুন।

এ ছাড়াও জাপানি প্রবাদ বলেন: বাঁশের নল দিয়ে পুরো আকাশ দেখা যায় না। সুতারাং পুরো আকাশ দেখার জন্যে আপনাকে ঘর থেকে বাহিরে ছড়িয়ে পড়তে হবে।

ঈদের এই স্বল্প সময়ের এই শহরে একই সাথে পাহাড়, হ্রদ, বন ও সমুদ্র পর্যটনের এক বিশাল জয়গা জুড়ে রয়েছে মিরসরাই ও সীতাকুণ্ডের বেশ কিছু অঞ্চল যা শুধুমাত্র বাংলাদেশে নয় বরং বিশ্বের কোথাও নেই। বর্ষাকালে এই অঞ্চলে হয়ে ওঠে সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। প্রকৃতি হয়ে ওঠে সবুজ-সতেজ।

মোটামুটি এক দিনেই আপনি ঘুরে দেখতে পারবেন মিরসরাই ও সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন স্পট। মিরসরাই-সীতাকুণ্ডে বিস্তৃত বারৈয়াঢালা জাতীয় উদ্যান, সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক, চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় শিবমন্দির।

এইছাড়াও সীতাকুণ্ডে পাবেন গুয়াখালী সমুদ্রসৈকত, যেটি “মুরাদপুর বিচ” নামে পরিচিত। মিরসরাইয়ে আপনি পাবেন পাহাড়, বন, ঝর্ণা ও সমুদ্রসৈকত। তবে এখানে উপরিভাগে পাবেন বাওয়াছড়া লেক। এটি ওয়াহেদপুর গ্রামে বার (১২) মাসিছড়ার মুখেই অবস্থিত। এ ছাড়া এখানে পাবেন মহামায়া লেক। এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ। এখানে আপনি ওয়াকিং করতে পারেন অথবা আপনি বোট দিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারেন। সবুজ বনের আর পাহাড়ের মাঝে স্ফটিকসদৃশ পানির ঝরনা আপনাকে মুগ্ধ করবে। তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে,
খইয়াছড়া ট্রেইল – বাংলাদেশর সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেইল এটি। এখানে রয়েছে ৮ স্টেপ বিশিষ্ট ঝর্ণা আরো উপরে গেলে ডাবল ফলস। খৈয়াছড়ার ঝর্ণার সবগুলো স্টেপ ছাড়িয়ে আরো অনেকটুকু গেলে শেষ সীমা “আমতলী কুম” , সেখান থেকে হাতের ডানপাশে (দক্ষিণ) একটি চিকন ঝিরি। সেই পাথুরে সংকীর্ণ ঝিরিপথে একটু এগুলে পাবেন ৩ স্টেপ বিশিষ্ট “শিমুলতলী ঝর্ণা”।
নাপিত্তাছড়া ট্রেইল- মিরসরাই রুটের অন্যতম সুন্দর একটি ট্রেইল নাপিত্তাছড়া ট্রেইল। নাপিত্তাছড়া, বাঘবিয়ানী ও বান্দরকুম ও কুপিকাটাকুম নামে চারটি ঝর্ণা এই ট্রেইলে।
বোয়াইল্যা বাউশ্যা ট্রেইল- এই ট্রেইলটি হলো মিরসরাই সীতাকুন্ড অঞ্চলের সবচেয়ে সুন্দর ট্রেইল। এই ট্রেইলে আছে বোয়াইল্যা বাউশ্যা অমরমানিক্য ঝর্ণা। এই রুটে মোট তিনটি ঝর্ণা। এছাড়া আছে ন হাইত্যে কুম, এবং উঠান ঢাল। এই ট্রেইলটা এককথায় অপূর্ব এবং অতুলনীয়।
হরিণমারা হাঁটুভাঙ্গা ট্রেইল- এই ট্রেইলটা মিরসরাই রুটের অন্যতম সুন্দর একটি ট্রেইল। এই ট্রেইলে পাবেন হরিণমারা, হাঁটুভাঙ্গা এবং সর্পপ্রপাত ঝর্ণা। এছাড়াও সর্পপ্রপাতের পাশে বাওয়াছড়ার মুখ। এই রুটে ঢুকতেই পাবেন অপূর্ব নীলাম্বর লেক।
সোনাইছড়ি ট্রেইল – এই ট্রেইলটি বাকি ট্রেইলগুলোর তুলনায় অপরিচিত এবং দুর্গম। তবে এককথায় অপার্থিব। বিশাল বিশাল পাথর আর গিরিখাদের সমন্বয়ে এই ট্রেইল। আছে গভীর বাদুইজ্যা কুম। একপাশে পাহাড়ের খাঁজ আর নিচ দিয়ে চলার পথ। অনেক জায়গায় সূর্যের আলোতেও ছায়া পড়ে।
বাড়বকুন্ড ট্রেইল- এই ট্রেইলে পাবেন বাংলাদেশের একমাত্র গরম পানির ঝর্ণা। কালভৈরবী মন্দির ও অনিন্দ্য সুন্দর পাহাড়ী ঝিরি পথ এবং বেশ কয়েকটি ছোট ক্যাসকেড ও কুম।
ঝরঝরি ট্রেইল- সীতাকুন্ড ও মিরসরাই অঞ্চলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুন্দর ট্রেইল এটি। এটি মিরসরাই সীতাকুন্ড অঞ্চলের সবচেয়ে লম্বা ট্রেইল। তবে এটি অপরিচিত ট্রেইল। অপূর্ব সব ঝর্ণা ক্যাসকেড এবং ঝিরিপথের সমন্বয়ে এই ট্রেইল।
কমলদহ ট্রেইল – এই ট্রেইলটা এককথায় অসাধারণ। এই ট্রেইলে পাবেন বড় কমলদহ ঝর্ণা সহ মোট চারটি ঝর্ণা। এই ট্রেইলের ঝর্ণাই বড়। বর্ষায় গেলে অপার্থিব সৌন্দর্য দেখতে পাবেন তবে এটি বিপজ্জনক বেশ।
সুপ্তধারা সহস্রধারা ট্রেইল – সীতাকুন্ড রুটের সবচেয়ে সহজ ট্রেইল এটি তবে সুন্দর। এখানে পাবেন সুপ্তধারা এবং সহস্রধারা ঝর্ণা সহ কয়েকটি কুম ও ক্যাসকেড পাবেন।
সহস্রধারা মূল ট্রেইল- এটিও আগের ট্রেইলের মতো সহজ তবে আগের ট্রেইল থেকে সুন্দর। এই ট্রেইলে পাবেন প্রাচীন এক মন্দির, সহস্রধারা মূল ঝর্ণা, সহস্রধারা লেক এবং বুদবুদকুন্ড।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের খুব কাছে বলে এসব ঝর্ণা দেখতে যাওয়া খুব সহজ। কয়েক দিন বৃষ্টি পড়লেই ঝরনাগুলোয় পানি থাকে, তাই গরমের সময় এসব জায়গায় যেতে বেশ ভালো লাগে। তাই মিরসরাই ও সীতাকুণ্ডকে “ঝর্ণার স্বর্গ ” বলা হয়।
সবকিছু মিলে ঈদের সময় স্বল্প সময়ের জন্য চট্টগ্রাম হতে পারে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য।

Top