নগরীতে অভিনব কায়দায় কাপড় চোর চক্রের ০১ নারী সদস্য সহ ০৫ জন গ্রেফতার ও চোরাই কাপড় উদ্ধার

received_816771295370639.jpeg

মোঃ রাসেদ
বাকলিয়া,চট্টগ্রাম

অভিনব কৌশলে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন মার্কেট হইতে সক্রিয় কাপড় চোর চক্রের এক নারী সদস্য সহ মোট ০৫ (পাঁচ) জনকে গত ২৮/০৫/২০১৯খ্রিঃ তারিখ ২২.১৫ ঘটিকার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টিম বাকলিয়া অভিযান পরিচালনা করিয়া বাকলিয়া থানাধীন শাহ আমানত ব্রীজ এর উত্তর মাথায় গন শৌচাগার এর পিছনে রাস্তার উপর হইতে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামীদের নাম যথাক্রমে- ১। তাছলিমা বেগম(৫৫), ২। আবুল বশর(৩২), ৩। মোঃ আরিফ হোসেন প্রকাশ আরিফ(৩২), ৪। মোঃ শাহীন(৩৬), ৫। বাচ্চু মিয়া প্রকাশ বাচাইয়া(৩২)। উল্লেখিত আসামীদের দখল ও হেফাজত হইতে ক) ০৪(চার)টি বিভিন্ন রংয়ের ও সাইজের শার্ট, খ) ০৮(আট) টি বিভিন্ন রংয়ের ও সাইজের জিন্স প্যান্ট, গ) ১২(বার) টি বিভিন্ন রংয়ের ও সাইজের পাঞ্জাবী, ঘ) ১৩(তের) টি বিভিন্ন রংয়ের ও সাইজের পাঞ্জাবী, ঙ) ১২(বার) টি বিভিন্ন রংয়ের ও সাইজের পাঞ্জাবী সহ ০২ (দুই) বস্তা বিভিন্ন ধরণের নতুন নতুন কাপড়-চোপড় উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়। উল্লেখিত আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে তাহারা জানায় যে, তাহাদের চক্রের অন্যান্য সক্রিয় সহযোগী সদস্যদের নিয়া চট্টগ্রাম শহরের জহুর হকার্স মার্কেট, তামাককুন্ডী লেইন, রিয়াজ উদ্দিন বাজার, নিউ মার্কেট, টেরি বাজার, তামাককুন্ডী লেইন এবং সানমার সহ যেসকল মার্কেটের দোকানের মধ্যে ভীড় আছে সেখানে বিক্রেতার সংখ্যা কয়জন কিংবা ক্রেতার প্রতি তাদের মনোযোগ কেমন তথা সাইকোলজি ইত্যাদি বিষয় লক্ষ্য করার পর তারা সকলে (কমপক্ষে ০৩ জন) দোকানে প্রবেশ করে। ০১ জন থাকে মহিলা বোরকা পরিহিত ও মাথায় বড় লম্বা ওড়না পেচানো থাকে। সাথে থাকা ০২ জন পুরুষ সদস্য জিনিস পছন্দ করতে থাকে, ৩/৪ টা একসাথে পছন্দ করার পর জিনিস সমূহ সামনে রাখে। হঠাৎ পুরুষ সদস্যটি বিক্রেতাকে বলে ঐ জিনিসটি দেখান, বিক্রেতার মনোযোগ তখন চলে যায় অন্য দিকে, এই সুযোগে বোরকা পড়া মহিলা সামনে রাখা জিনিস সমূহ হতে ০১টি বা ০২টি নিয়ে নিজেদের পরিধেয় বোরকার মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলে। ফলে বাইরে হতে আর কিছুই দেখা যায়না। কার্য সম্পাদন করার পর সকলেই একযোগে বলে, এই দোকানে পছন্দ হচ্ছে না চলো অন্য দোকানে যাই। ফলে বিক্রেতাও লোকজনের ভীড়ের চাপে কিংবা অনেক জিনিসের মধ্যে হইতে ০১ টি কিংবা ০২টি কাপড় খোঁয়া গেলেও বুঝতে পারেনা। আটক করার পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামীগণ চুরি করার উল্লেখিত পদ্ধতি ও কৌশল সমূহ প্রকাশ করে। ধৃত আসামীগণ সহ তাহাদের দলের অন্যান্য সক্রিয় সদস্যদের নিয়ে একযোগে চক্রাকারে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন মার্কেটে এই অভিনব কায়দায় চুরি করে বলিয়া জানায়। ধৃত আমাসীদেরকে আরো জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তাহারা দীর্ঘ ৯/১০ বছর যাবৎ তাহাদের সহযোগী চোর চক্রের অন্যান্য সক্রিয় সদস্যরা মিলে অভিনব কৌশলে চুরি করিয়া আসিতেছে বলিয়া স্বীকার করে। এছাড়াও তারা যে মার্কেটে চুরি করে এক সপ্তাহ পয©ন্ত ঐ মার্কেটে আর যায় না। পরে অন্য মার্কেট তার্গেট করে। এভাবে উল্লেখিত আসামীরা চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া উপ-শহরে একই কায়দায় চুরি করার কথা স্বীকার করে।

Top