অসমাপ্ত রেখা — মোঃ ফিরোজ খান

2019-05-27-00-17-39.jpg

————-
“গনক কিংবা গননা”এই কথা বিশ্বাস যোগ্য নয়; তবুও জীবনের হিসাব মেলাতে মাঝে মধ্যে মনে হয় আসলে গননা কিংবা যৌতিস বিদ‍্যা অথবা হাত দেখে ভবিষ্যৎ বাণী বলে দেওয়া বিশ্বাস করতে হয়ে থাকে।শুধুমাত্র অভাব অনটন যখনই দরজায় কড়া নাড়তে থাকে তখনই।আসি জীবনের কিছু কথামালা নিয়ে এইতো কিছু দিন আগের কথা;আমি বেশ ভালো ছিলাম‌ আমার ছোট সুখের সংসার নিয়ে যে সংসারে ছিল ছেলে, মেয়ে ও ভাই,বোন সকলকে নিয়ে মহান আল্লাহর কৃপায় ভালো ভাবে
কাটছিল আমার সুখের সুন্দর জীবন তবে জীবন চালনায় হয়তোবা কিছু একটা ভুল ছিলো নয়তোবা আমার এমন কোনো আপনজন ও পরামর্শ দাতা বলতে কেউ ছিলনা ছিলনা মাথার উপর ছাদ একজন গার্জিয়ান খুবই দরকার ছিলো যে কিনা আমাকে ভালো মন্দের কথা বলতেন।তবে আমি কখনও কারো সঙ্গে কোনো ধরণের খারাপ ব‍্যবহার কিংবা কোনো বিষয়ে এমন কোনো আচরণ করিনি যার জন্যে মহান আল্লাহ তাআলা আমাকে হয়তো এখনও সুস্থ্য অথবা ভালো রেখেছেন।এর জন্য শুকরিয়া আদায় করছি সৃষ্টি কর্তার কাছে।

আজ আমি সঠিকভাবে কোনো রাস্তা দেখছিনা আর কেউ এগিয়ে আসছেন না আমার বিপদে, অনেকেই অনেক ধরণের আশ্বাস ও উপদেশ দিয়ে থাকেন আমাকে এ যেনো জীবন চালনায় কোনো কাছে আসছেনা শুধুমাত্র শান্তনা ও একটু সহনোভূতি দেখানো এ শুধু সামাজিকতা রক্ষা করতেই সকলে এমন করছেনএটা সহজে বুজতে পারি আমি কিন্তু সংসার বলতে একটা কথা আছে যেখানে রাত পোহালেই কমপক্ষে দুই থেকে তিনশত টাকা লাগে সংসারে সেখানে যদি একশত টাকার ও ব‍্যবস্থা না হয় তাহলে কিবা করতে পারি আমি আর কিবা কাজে আসে ঐ সকল মানুষের উপদেশ ও শান্তনা?

আজ বারে বারে মনে হয় হয়তোবা আমার জীবনের রেখা অসমাপ্ত রয়ে গেছে কোনো ভুলের কারণে রেখাটি সঠিকভাবে পূরণ হয়নি জীবন চালনায় পথে।একথাই বারে বারে মনে হয় আমার আবার পরক্ষণেই ভুলে যাই ভাবি এটা শুধু নিজের কষ্টের ভাবনা নয়তোবা আমার অভাব আমাকে এভাবে ভুল ভাবনায় প্রেরিত করছে।আমিতো সবসময় সকল কাজে সৎ পন্থা অবলম্বন করে চলেছি কারো মনে কোনো ধরণের কষ্ট দেয়নি তবে কেনো এমন হলো জীবন?এ কথাই আমাকে রাতের ঘুম হারাম করে দিচ্ছে তবে একমাত্র মহান আল্লাহর উপর ভরসা করে আবার আমি আমাকে সঠিকভাবে গঠন করতে চেষ্টা চালিয়ে যাই।জানিনা কতদিন সেই সুখের দিনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

হয়তোবা কোনো পাপ ছিলো নয়তোবা জীবন চালনায় কোনো ধরণের ভুল ছিলো তাইতো জীবন এভাবে থমকে দাঁড়িয়েছে কঠিন সময় মোকাবেলা করতে।তবে এতোটুকু বিশ্বাস আমি জোড়ালো ভাবে করি যে আল্লাহ তাআলা যতদিন বাঁচিয়ে রাখবেন পৃথিবীর আলো দেখতে ততদিন রিজিক দিয়ে রেখেছেন প্রত‍্যেককে।আর এই রিজিক আল্লাহর উপর ভরসা করে সঠিকভাবে নিজেকে সন্ধান করতে হবে।কোনো ধরনের অবহেলা ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা যাবেনা আমি আমার মতোই আবার গড়ে তুলবো সুখের পৃথিবী আমার সহধর্মিণী, ছেলে ও মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আমাকে ঘুরে দাড়াতে হবে হোক না শত কষ্ট তবুও ওদের মুখের দিকে তাকিয়ে আমি আবারও সুখের সন্ধান করবো সঠিকভাবে সঠিক পথে হয়তোবা বিপদ আসবে আসবে অনেক কষ্ট তবুও জীবনের রেখাকে আমি পুরোপুরি ভাবে তার গন্তব্যে পৌঁছনোর চেষ্টা করবো।মাঝে মধ্যে পৃথিবীর আলো যেনো দুচোখে দেখতে পাইনা খুবই অন্ধকার মনে হয় সুন্দর পৃথিবীকে।

নদীর জোয়ার-ভাটা ও দিন-রাত এ সবকিছু বিধাতার আদেশে হয়ে থাকে আর জীবনে সুখ-দুখ আছে বলেই জীবন সুন্দর।কোনো কিছু এক তরফা ভালো নয় এ কথাই মানতে হবে।পৃথিবী সৃষ্টি শুরু থেকেই এভাবে হয়ে আসছে আর পৃথিবী ধ্বংসের আগ পর্যন্ত এভাবেই চলবে।আর আমার জীবন শুধু নয় সকলের জীবনে সুখ-দুখ আসে কারো জীবন একভাবে চলতে পারেনা একথাই সত্য।অনেক মণীষী আছেন যারা লিখে গিয়েছেন জীবনের জয়-পরাজয়ের কথা কেউ এক লাভে সৌভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেনি অনেক বাঁধা বিগ্ন মেনে নিয়ে জীবন বাঁচাতে পেরেছেন কেউ হেরেছে কেউবা জয়ী হয়েছেন তবে আমি হারার পক্ষে নই আমি পরিশ্রমী ও মেধাবী আর এটাই আমার বড় অহংকার আমি একদিন অবশ্যই জীবনের সকল কষ্ট দুখ দূর করে জয়ী হবোই ইনশাআল্লাহ আমি আমার মতোই পরিশ্রম করে আবারও প্রমাণ করবো আমি হেরে যাইনি আমি জয়ী হয়েছি আমি আমার ভাগ্য পরিবর্তন করতে পেরেছি এখন শুধুমাত্র সেই দিনের অপেক্ষা কখন আমার অসমাপ্ত হাতের রেখা সঠিক যায়গায় পৌঁছাবে।

লেখক সাংবাদিক

Top