চকরিয়ায় ছুরিকাঘাতে নিহত আনাছের জানাযা সম্পন্ন; মামলা দায়ের

FB_IMG_1558813521437.jpg

সাঈদী আকবর ফয়সাল,চকরিয়া:
চকরিয়ায় ঈদ বাজার করতে এসে সদ্য এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কিশোর আনাছ ইব্রাহিম (১৮) নামে এক কিশোরকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। নিহত আনাছ চকরিয়া পৌরসভা ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিনামারা এলাকার হাফেজ নেছার আহমদের পুত্র। ছুরিকাঘাতে আনাছ ইব্রাহিমের পেটের নাড়ি-ভূড়ি বের হয়ে যায় এবং চকরিয়া জমজম হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথেই মারা যায়। ঘটনার সময় নিহত আনাছের সাথে থাকা তার বন্ধু আবদুল্লাহ (১৭)কেও ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করা হয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। সে পৌরসভার মগবাজার এলাকার প্রবাসী মোঃ আমান উল্লাহর পুত্র। ২৫ মে (শনিবার) রাত ৯ টার দিকে পৌর শহরের বাণিজ্যিক মার্কেট আনোয়ার শপিং কমপ্লেক্সে ঘটেছে এ নির্মম ঘটনা।
স্কুল ছাত্র আনাছ হত্যার ঘটনায় নিহতের পিতা মৌলানা নেছার আহামদ বাদী হয়ে ২৬ মে (রবিবার) দুপুরে চকরিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় চকরিয়া পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাশেম মাষ্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. রুবেলকে প্রধান আসামী করে আরও ৫ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাতনামা আরো ৫-৬ জনকে আসামী করা হয়েছে। এ মামলার এজাহার নামীয় আসামী রিয়াজ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত রিয়াজ উদ্দিন পালাকাটা হাশেম মাষ্টারপাড়া এলাকার শামশুল হকের ছেলে। সে পুলিশের কাছে ঘটনায় জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

এদিকে আনাছ ইব্রহিমকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবীতে ২৫ মে রাত সাড়ে ১১টায় এবং ২৬ মে বিকাল ৫টায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ঘটনারদিন রাতব্যাপী কক্সবাজারের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) কাজী মতিউল ইসলামের নেতৃত্বে ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটনে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টীম সাড়াশি অভিযান চালিয়েছে। অভিযানে সন্ধেহমূলক ৫জনকে আটক করেছে পুলিশ।

অপরদিকে জেলা সদর হাসপাতাল,কক্সবাজার থেকে নিহত আনাছ ইব্রাহিমের ময়না তদন্ত শেষে ২৬ মে বিকাল ৪টায় জানাজার নামাজ শেখ রাসেল মিনি ষ্টেডিয়াম মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ইমামতি করেন নিহতের পিতা মৌলানা নেছার আহামদ। জানাযায় এলাকার সর্বস্থরের কয়েক হাজার লোক অংশ নেয়। পরে তাকে স্থানীয় সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় হাজার হাজার শোকাহত মানুষের ঢল নামে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কিশোর আনাছ ও আবদুল্লাহকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার ঘটনায় পৌরসভার পালাকাটা এলাকার সালাহউদ্দিন, বাবু, জসিম উদ্দিনের ছেলে রুবেলসহ বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে নিহত আনাছ ইব্রাহিমের সাথে ২মাস পূর্বের একটি ক্রীকেট খেলা এবং ৭ম শ্রেণির জৈনক একজন ছাত্রীর সাথে প্রেম ঘঠিত ঘটনা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। পুলিশ এ দুইটি বিষয়কে সামনে রেখে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনের এগুচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা। ইতিপূর্বে প্রেম ঘটিত ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলারদের সমন্বয়ে শালিস বিচারও হয়েছে।

চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, তাদের দু’গ্রæপের মধ্যে বিগত ২ মাস পূর্বে একটি ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধ ছিল। হয়তো ওই বিরোধের জের ধরেই চিরিংগার বাণিজ্যিক মার্কেটের ভেতরে দুই কিশোরকে একা পেয়ে অতর্কিত ছুরিকাঘাত করেছে। ছুরিকাঘাতে আনাছ ইব্রাহিম মারা গেলেও আহত অপর কিশোর আবদুল্লাহ (১৭) চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

থানার অফিসার ইনচার্জ আরো জানান, ঘটনার সম্পৃক্ততার অভিযোগে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্ধেহমূলক ৭/৮ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর ঘটনায় জড়িত ১জনকে থানায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এদিন রাত ৩টা পযর্ন্ত ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী দোকানের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। জড়িতের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।##

Top