পারিবারিক কলহ মিটিয়ে দেওয়ায় এএসআই এর বিরুদ্ধে আনসার সদস্যের মামলা দায়েরের হুমকি

61611223_869607020071679_8579345096728641536_n.jpg

মোঃ আবু সঈদ,দক্ষিণ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
ওয়ারেন্ট তামিল শেষে থানায় ফেরার পথে পারিবারিক কলহ মিটিয়ে দেওয়ায় এএসআই এর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের হুমকি দিয়েছে আনসার সদস্য মোশাহিদ আলম মিলটন। তিনি ঢাকা শহরের নয়া পলটন এলাকায় কর্মরত আছেন। মোশাহিদ সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের গৌরারং গ্রামের মৃত মোবারক আলী এর পুত্র। সংসার জীবনে প্রথম স্ত্রীর ঔরসে ১ ছেলে এবং দুই মেয়ে। তাহার স্বভাব চরিত্র ভাল না থাকায় একই মায়ের গর্ভজাত ছোট ভাইয়ের বউ ৪ সন্তানের জননী রেহেনা বেগমকে অবৈধভাবে পালিয়ে নিয়ে ২য় বিবাহ করেন। ২য় স্ত্রী রেহেনা বেগমের স্বামী মাওলানার সংসারে থাকাকালীন অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলেন মোশাহিদ। ২য় বিয়ের কাবিন নামা রেজিষ্ট্রি হয়েছে কিনা এবং ১ম স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ হয়েছে কি না এ বিষয়টিও পরিষ্কার নয়। ২য় স্ত্রী রেহেনা বেগম দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের আস্তমা গ্রামের আলাই মিয়ার বড় মেয়ে। রেহানাকে নিয়ে মোশাহিদ দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার শান্তুিগঞ্জ বাজার তেঘরিয়াস্হ মুসলিম ভিলায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। মোশাহিদ প্রতিনিয়তই তাহার ২য় স্ত্রীর সাথে অমানুষিক আচরণ ও মারপিট সহ নানা রকম নির্যাতন করে আসছেন।

গত এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে শান্তিগঞ্জ অবস্হানকালীন সময়ে রাত আনুমানিক ১০ ঘটিকায় মোশাহিদ আলম ও তাহার স্ত্রী রেহেনা বেগমকে রাতের আধাঁরে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে দিয়ে গাছের একটি ডাল দিয়ে মারতে মারতে মন্ত্রী মহোদয়ের বাসার সামন হইতে মাহবুবা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে মার খেয়ে মহিলাটি রাস্তার পাশে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এ সময় কর্তব্যকাজ শেষে থানায় ফেরার পথে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার এএসআই মাহফুজুর রহমান (বর্তমানে মধ্যনগর কর্মরত) হঠাৎ লাঠি দিয়ে একজন পুরুষ একজন মহিলাকে মারধর করতে দেখতে পেয়ে এগিয়ে আসেন। নিকটে এসে পুরুষটিকে জিজ্ঞেস করলেন আপনি মহিলাটিকে মারতেছেন কেন? জবাব আসে আমার স্ত্রী। এএসআই বলেন- আপনার স্ত্রীকে বাসায় নিয়ে যান। এতে মোশাহিদ রাগাম্বিত হয়। তখন মাহফুজুর রহমান শহীদ মিনারের সামনে অবস্হান নেয়া দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার এমএলএসএস শাহীন মিয়া সহ কয়েকটি ছেলেকে ডাকেন এবং জুটির পরিচয় সম্পর্কে জানতে চান। তখন তারা বলে-ওরা মুসলিম ভিলায় সাংবাদিক আবু সঈদ এর পাশের বাসায় থাকে। তখন এএসআই সাংবাদিককে ফোন করে বাসা থেকে বের হতে অনুরোধ করেন। সাংবাদিক আবু সঈদ বাসা থেকে বের হয়ে এএসআই এর সাথে দেখা করলে তিনি বিষয়টি খুলে বলেন এবং রাতের বেলায় রাস্তায় কেন মারপিট এবং ওরা কোথায় যেতে চেয়েছিল তাহা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার হতে সাংবাদিককে বলেন।

রেহেনা বেগম বলেন-সেদিন রাতে আমরা মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম বড় হাফিজ সাহেবের কাছে। হাফিজ সাহেব আমাকে সন্ধ্যায় ফোন দিয়ে আমার ছেলে মাদ্রাসায় না আসার কারণ জানতে চেয়েছিলেন।তাই আমার স্বামী সন্দেহতীতভাবে আমাকে কেন হাফিজ সাহেব ফোন দিলেন তাহা জিজ্ঞেস করার জন্য লাঠি দিয়ে মারধর করে মাদ্রাসায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। এসময় ঐ ঘটনাটি ঘটে।

অদ্য ২৩/০৫/১৯,ইং সকাল বেলা রেহানা সাংবাদিকের বাসায় এসে বলতে থাকেন আমার স্বামী আমাকে বলেছে আপনি আমার ভরণ-পোষণ করার জন্য। সাংবাদিক কারণ জানতে চাইলে মহিলা বলেন-আপনি কেন আমাকে সেদিন আমার পারিবারিক বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলেন? তখন সাংবাদিক বলেন-আমি তো আপনার ঘটনা সম্পর্কে জানতাম না। আপনারা রাতের বেলায় রাস্তায় এমন কর্মকান্ড করেছেন বিধায় দারোগা সাহেব সহ অন্যান্য লোকজন আমাকে বিষয়টি অবহিত করেছে। আপনার কথাগুলোর প্রেক্ষিতে এখন আপনাকে আমি কিছু বলতে পারব না। আমি উনাকে জিজ্ঞেস করে তারপর আপনাকে বলব।

কিছু সময় পরই মোশাহিদ সাংবাদিককে মোবাইলযোগে ফোন দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। ঐএএসআই কে দেখে নিবেন এবং তাহার বিরোদ্ধে মামলা করবেন বলে হুমকি দেন। তিনি অকট্য ভাষায় বলেন-এএসআই আমার বালনি, আমি তাহার চাকরি খেয়ে ফেলব বলে হুমকি দেন। আপনি কে আমার বিষয় নিয়ে কথা বলবেন? সাংবাদিক বলেন আপনি একজন চাকুরিজীবি সুন্দর করে কথা বলেন। কাউকে গালাগালি করবেন না বলে লাইন কেটে দেন।

স্ত্রীর ভাষ্যমতে মোশাহিদ রেহানাকে এএসআই এর বিরোদ্ধে মামলা দায়েরের জন্য চাপ দিচ্ছেন এবং জোর পূর্বক তাহার নিকট হইতে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছেন।

Top