যশোরের মণিরামপুরে স্কুলের জমি দখল করে হাট, ১৪৪ ধারা জারি

resize-350x300x1x0image-107835-1558533497.jpg

আব্দুর রহিম রানা, যশোর ঃ
যশোরের মণিরামপুরের রাজগঞ্জ হাইস্কুল মাঠ অবৈধভাবে দখলে নিয়ে হাট বসানোকে কেন্দ্র করে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও হাটের ইজারাদারদের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে।

দুই দিন ধরে হাট বসা বা না বসা নিয়ে দুই পক্ষ বাজারে পাল্টাপাল্টি মাইকিং করছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কা স্থানীয়দের।

উপজেলার রাজগঞ্জ হাইস্কুল মাঠে সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার দুই দিন হাট বসে আসছে বহুদিন ধরে। স্কুলের ৩০ বিঘা এরিয়ার মধ্যে ১২-১৩ বিঘা জমি নিয়ে গরু, ছাগল, সাইকেল, হাঁস, মুরগী, কবুতর, তরকারিসহ মোট আট প্রকারের হাট বসে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রতি বছর হাটের ইজারা নেন। চলতি বছর ২৪ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ টাকায় হাটের ইজারা নেন চালুয়াহাটি ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক ইমরান খান পান্না। তার নেতৃত্বে এখন ওই মাঠে নিয়মিত হাট বসে।

স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছেন, স্কুলের নিজস্ব সম্পত্তি হলেও প্রতিবছর ইউএনও অফিস নিয়ম ভঙ্গ করে হাটের ইজারা দিয়ে আসছেন। এই ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের কোন লাভ হচ্ছে না। ফলে হাট তুলে দেওয়ার জন্য গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউএনও আহসান উল্লাহ শরিফী বরাবর স্কুলের পক্ষ থেকে আবেদন দেওয়া হয়। তার কোন তোয়াক্কা না করে ইউএনও ইচ্ছামত আবারও হাটের ইজারা দেন। বে-সরকারি জমিতে ইজারার মাধ্যমে হাট বসানোর নিয়ম না থাকলেও ইউএনও স্বেচ্চাচারী হয়ে স্কুলের সম্পত্তিতে হাট বসাচ্ছেন। ফলে উপায় না পেয়ে তারা আদালতের সরনাপন্ন হন। চলতি ২০ মে আদালত স্কুল চত্বরে হাট না বসাতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সেই অনুয়ায়ী পুলিশ প্রশাসন মাইকিং করে আদালতের আদেশ জানিয়ে দিয়েছে।

রাজগঞ্জ হাইস্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ আমাদের প্রতিবেদক আব্দুর রহিম রানাকে বলেন, স্কুলের জমি দখল করে হাট বসলেও স্কুল এই ক্ষেত্রে কোন টাকা পায় না। আমরা গত নয় বছরের খাতাপত্র উল্টিয়ে দেখেছি, স্কুলের ফান্ডে হাটের কোন টাকা জমা পড়েনি। স্কুলের জমিতে হাট না বসানোর জন্য ইউএনও’কে লিখিত ভাবে জানিয়েছিলাম। তিনি কোন ব্যবস্থা না নিয়ে আবারও ওই সম্পত্তিতে হাট ইজারা দেন। পরে আদালতে মামলা করলে আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইউএনওকে বারবার অনুরোধ করার পরও কেন তিনি স্কুলের জমিতে হাটের ইজারা দিলেন বুঝে আসছে না।

এদিকে বাজারের বর্তমান ইজারাদার ইমরান খান পান্না বলেন, সরকারের নিয়ম অনুযায়ী হাটের ডাক নেওয়া হয়েছে। হাট না বসাতে যে মাইকিং করা হচ্ছে সেই ব্যাপারে লিখিত কোন আদেশ পাইনি। আমি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রেফায়েত রাব্বির সাথে দেখা করেছি। তিনি ইউএনওকে ফোন করে বলে দিয়েছেন হাট বসার ব্যবস্থা করতে।

পান্না দাবি করেন, প্রতি বছর শেষে স্কুলের ফান্ডে ৩০-৩৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। স্কুলের যারা সভাপতি থাকেন তাদের পছন্দের ব্যক্তির কাছেই টাকাটা দেওয়া হয়। তবে কোন রশিদের মাধ্যমে এই লেনদেন হয়নি।

মণিরামপুর থানার পরিদর্শক (সার্বিক) রফিকুল ইসলাম বলেন, গত ২০ তারিখ আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশের কপি হাতে পেয়েছি। আদালতের কপিতে স্কুলের জমিতে হাট না বসাতে নির্দেশনা দেওয়া আছে। সেই মর্মে মাইকিং করে বিষয়টি সকলকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে ইউএনও আহসান উল্লাহ শরিফী স্কুলের জমিতে হাট বসানো ঠিক হয়নি বলে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে রাজগঞ্জ হাইস্কুল মাঠে হাট বসে আসছে। সেটা চাইলেই একবারে বন্ধ করা সম্ভব না।

আদালতের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাট যে বসবে না এই মর্মে কোন নির্দেশনা দেওয়া নেই। আদালতের আদেশে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বলা হয়েছে। হাট বসা নিয়ে কেউ বিশৃঙ্খলা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ইউএনও।

তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)’র পক্ষ থেকে মোবাইলে কোন আদেশ পেয়েছেন কিনা সেই প্রসঙ্গে কিছু বলতে রাজি হন নি তিনি।

Top