অনশনে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা, টিএসসিতে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের ওপর হামলা

22967_213.png

ঢাবি প্রতিনিধিঃ

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পরে বিভক্ত একটি পক্ষ আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছে। রোববার (১৯ মে) দুপুরে ছাত্রলীগের সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপসম্পাদক আল মামুন বলেন, ‘নেতাকর্মীরা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জড়ো হয়েছে। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন চলবে।’

এ বিষয়ে তানবীর হাসান সৈকত বলেন, আমরা এখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি। আমাদের উপর হামলা ও মারধর এবং নির্যাতনের বিচার চাই। বিচারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাস না পেলে আমরা অনশন চালিয়ে যাব।

এর অাগে, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জেরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় ছাত্রলীগের এক গ্রুপের ওপর হামলা চালিয়েছে অন্য গ্রুপ।এতে ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের অধিকাংশই পদবঞ্চিত নেতা। এছাড়া কয়েকজন নারী নেত্রীও হামলায় আহত হয়েছেন।

শনিবার (১৮ মে) দিনগত রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পদবঞ্চিতদের ওপর হামলার ঘটনায় টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নিয়ে অনশন কর্মসূচিতে বসেছেন হামলার শিকার নেতারা।

ছাত্রলীগের এক গ্রুপের অভিযোগ, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী এই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন।

হামলায় রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও ডাকসুর কেন্দ্রীয় সংসদের ক্যাফেটোরিয়া বিষয়ক সম্পাদক লিপি আক্তারসহ ২০/২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদবঞ্চিত ও কাঙিক্ষত পদ না পাওয়া নেতারা জানান, কমিটি গঠনের জেরে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানের জন্য টিএসসিতে ছাত্রলীগের দুইপক্ষের নেতারা বৈঠকে বসেন। বৈঠকে পদবঞ্চিত ও পদধারী অন্তত পাঁচশ নেতা উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীও ছিলেন।

হামলার শিকার নেতারা জানান, টিএসসিতে বৈঠক চলাকালে দুইপক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এ সময় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি লিপি আক্তারকে ‘ভাইরাস’ বলে সম্বোধন করেন। এর প্রতিবাদ জানালে লিপি আক্তারের ওপর চড়াও হন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক।

এরপর গোলাম রাব্বানীর অনুসারীরাও পদবঞ্চিতদের ওপর হামলা চালান। এতে পদবঞ্চিত অন্তত ২০/২৫ জন নেতা আহত হন।

ছাত্রলীগের গত কমিটির উপ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এমদাদ হোসেন সোহাগ জানান, কমিটি নিয়ে সমস্যা সমাধানের জন্য দুইপক্ষকে নিয়ে টিএসসিতে সভা চলছিল। এ সময় গোলাম রাব্বানী লিপি আক্তারের ওপর চড়াও হন। পরে গোলাম রাব্বানীর অনুসারী অন্যরাও পদবঞ্চিতদের ওপর হামলা চালায়।

হামলার ঘটনায় আলোচনা সভা থেকে বেরিয়ে এসে টিএসসির রাজু ভাস্কর্য এলাকায় অবস্থান নেন পদবঞ্চিত নেতারা। এরপর সেখানে অবস্থান নিয়ে তারা অনশন কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেন। পদবঞ্চিত নেতারা জানান, তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে চান। প্রধানমন্ত্রীর ডাক না পাওয়া পর্যন্ত পদবঞ্চিতরা অনশন চালিয়ে যাবেন বলে জানানো হয়।

পদবঞ্চিত এক নেতা বলেন, ‘ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে যারা বিতর্কিত তাদের ডকুমেন্ট নিয়ে আমরা হাজির হয়েছিলাম। কিন্তু ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তার বিশাল বাহিনী নিয়ে লিপি আক্তারসহ আমাদের অন্য নেতাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমাদের ওপর যে হামলা হয়েছে আমরা তার বিচার চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিচারে ভার দিলাম।’

তবে হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

রাব্বানী বলেন, ‘আলোচনা চলার এক পর্যায়ে তক-বিতর্ক শুরু হলে কয়েকজনকে নিবৃত্ত করা হয়। কাউকে মারধর করা হয়নি। পদবঞ্চিতরা নাটক শুরু করেছে।’

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘সেখানে হট টক হয়েছে। আমরা সেগুলো নিয়ে কথা বলেছি। মান-অভিমান হয়েছে, একপর্যায়ে হট্টগোলের মতো হয়েছে। আমি ও ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। আমরা দুইপক্ষকে সরিয়ে দিয়েছি। এখানে মারামারির কোনো ঘটনা ঘটেনি। তারা এটিকে ইস্যু করতে চাইছে। কোনো ধরনের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেনি।’

Top