ভুলের মাশুল —মোঃ ফিরোজ খান

2019-05-17-21-51-23.jpg

———–
কষ্টের জীবন ছিলো ভালো
সুখে ছিলো ছোট্ট সংসার,
অল্পতেই পেতাম তৃপ্তি সবাই
হাসিখুশিতে কাটতো সময়
মাওলা ছিলেন মোদের সহায়।

সুখের সঙ্গে কাটছিল দিন
সংসার মোদের ছিল রঙ্গিন,
ভাই-বোন ও ছেলে-মেয়ে
সঙ্গে ছিলো মা-বাবার ছোঁয়া
হঠাৎ করেই বাবাকে হারালাম।

জীবন থেকে বড় কিছু হারালাম
মা আমার তখন ভেঙে পড়লো,
মায়ের চোখে নিরবে জল ঝড়িল
আমি মাকে বুঝতে পাড়লাম
বাবার শোকেতে মা হলেন পাথর।

কিছু দিন পড়ে মাকেও হারালাম
আমি যেনো তখন সবকিছু হারালাম,
ধীরে ধীরে জীবনে দেখা দিলো অন্ধকার
বুঝতে পারলাম মা-বাবাকে হারানোর কষ্ট
জীবন তখন আমার হলো এলোমেলো।

কিছু মানুষের দেওয়া কষ্ট
জীবন চালনায় দিলো বড়ই ব‍্যাথা,
বুঝতে পারিনি মানুষের ছলনা
ভুল করে পড়লাম তাদের ফাঁদে
তিনটি বছর গেলো অন্ধকারে হারিয়ে।

কেনো মানুষ মানুষকে কাঁদায়
কেনোই বা মিথ‍্যায় জীবন সাজায়,
আমি তবুও ছিলাম শক্ত
ভেঙে পরিনি তাদের ধাঁধায়
সন্মান ছিল জীবনের অহংকার।

ধৈর্য্য ধরে বাঁচতে শিখলাম
বিপদ-আপদকে করলাম ধিক্কার
অর্থের কাছে হার না মানলাম
কষ্টের সাথেই জীবন বাঁধলাম
ধীরে ধীরে জীবনকে চিনলাম।

সহধর্মিণী আর ছেলে মেয়ে-
ভাই-বোন ছিলো আমার আপন,
চিনতে পারলাম বিপদের সময়
ছিলো তারা আমার কাছের
তখনই ছিলো সঠিক জীবন।

ভুল করে ভুল পথ দিয়ে
ভুল রাস্তায় পায়চারী করে,
চলে ছিলাম একাকী ভাবে
আমি যখন সব হারালাম
ভুল গুলো তখন দিলো ধরা
ভুলের মাশুল ভুলেই দিলাম।

ভুল স্বপ্ন নিয়ে যায়না বাঁচা
ভুল দরজায় আমি দিয়েছি নাড়া,
বেঁধে ছিলাম বুক ভুলের আশায়
সুখের ভেলা ভুলে ভাসিয়ে দিলাম
বৃষ্টির জোয়ারে চোখ ভাসালাম।

ভুল মানুষকে যায়না ভোলা
ভালোবাসা দেয়না ধরা,
কবিতা লিখি ভুলে গিয়ে
অপেক্ষা করি ভুল মানুষের
আপন হয়না কভু তারা।

Top