বৈদ্যুতিক তারের নাড়িভুঁড়ি থেকে মুক্তি চাই

99777410_googlemaps.jpg

————–
আমরা সবাই জানি যে,ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী।রাজধানী সেই স্থানকেই বলা হয় যে স্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।এটাই জ্ঞাতব্য বিষয় যে,রাজধানী যে স্থানে হবে সেই স্থান খোলামেলা হবে,পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হবে এবং সুগঠিত হবে।সেই স্থানের কার্যসম্পাদনা হবে সুষমভাবে পরিচালিত।পাশাপাশি পরিবেশ ও থাকবে সহনীয় পর্যায়ের।একটি শহর ততক্ষণ পর্যন্ত বসবাসের জন্য উপযোগী থাকে যতক্ষণ তার পরিবেশ ঠিক থাকে।

ঢাকা একটি ব্যস্তময় শহর।ঢাকা দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্র বাংলাদেশের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর। প্রশাসনিকভাবে এটি দেশটির ঢাকা বিভাগের প্রধান শহর। ভৌগোলিকভাবে এটি বাংলাদেশের মধ্যভাগে বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তর তীরে একটি সমতল এলাকাতে অবস্থিত। ঢাকা একটি অতিমহানগরী (মেগাশহর); ঢাকা মহানগরী এলাকার জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ। জনসংখ্যার বিচারে এটি দক্ষিণ এশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম শহর।

(দিল্লি, করাচি ও মুম্বইয়ের পরেই) এবং সমগ্র বিশ্বের নবম বৃহত্তম শহর। জনঘনত্বের বিচারে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ মহানগরী; ১৩৪ বর্গমাইল আয়তনের এই শহরে প্রতি বর্গমাইল এলাকায় ১ লক্ষ ১৫ হাজার লোকের বাস।
এই শহরের নগরাঞ্চলীয় অবকাঠামোটি বিশ্বে সর্বোন্নত হলেও দূষণ, যানজট এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে যথেষ্ট পরিষেবার অভাব ইত্যাদি শহুরে সমস্যাগুলি এখানে প্রকট।

এখন এমন একটি সমস্যার কথা বলা দরকার, যার কারণে যে কোন সময় অপ্রত্যাশিত ঘটনার সম্মুখীন হতে হবে।এবং এজন্য হঠাৎ করেই যেতে পারে শত শত মানুষের জীবন।এটি এমন একটি ব্যবস্থা যা মানুষের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।তা হচ্ছে,”বিদ্যুতের বৈদ্যুতিক তার”

ঢাকার কাছেই সাভারের কলমা এলাকা থেকে এসেছেন এগারো বছর বয়সী নূপুর। তার পুড়ে যাওয়া হাতে পচন ধরেছে। ইতিমধ্যেই একবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। আরো একবার হতে যাচ্ছে। তার এই দুর্ভোগের কারণ বাড়ির লাগোয়া বৈদ্যুতিক তার, বলছিলেন তার খালা ইয়াসমিন বেগম।

তিনি বলছেন, “ও গোসল করে ছাদে গিয়ে বান্ধবীর সাথে গল্প করছিলো। হঠাৎ হাত গিয়ে লাগে বিদ্যুতের তারে। হাতটা সাথে সাথে পুড়ে যায়। আগুন ছিটে এসে পড়ে গায়ে। ছাঁদ থেকে মাত্র একহাত দুরে হবে বিদ্যুতের তার।”

কাছেই একটি বিছানায় শুয়ে ছিলেন চাঁদপুরের প্রফেসর পাড়া থেকে আসা ১০ বছর বয়সী দীনা। তিনিও বুঝতে পারেননি বাড়ির বারান্দার কাছে থাকা বিদ্যুতের তার জীবনে কতটা কষ্ট ডেকে আনবে।

বিপদ বলে–কয়ে আসে না কথাটি সত্য, কিন্তু বিপদ আসতে পারে এমন লক্ষণ যদি দেখা যায়, তবে বিপদ আসতে পারে, তা ধারণা করা যায়। আমরা যাঁরা আবাসিক ভবনে বসবাস করি, তাঁদের ভবনের বিদ্যুতের লাইন খাম্বা থেকে টানা হয়। সম্প্রতি দেখা গেছে, অধিকাংশ ভবনের বৈদ্যুতিক খাম্বা থেকে নেওয়া বিদ্যুতের তারের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এটা আশপাশের বাড়ি, রাস্তা ও ভবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

অনেক ভবনের তার দুর্বল হওয়ার কারণে সামান্য বাতাস ও বৃষ্টিতে ছিঁড়ে পড়ে বিপদ ডেকে আনতে পারে। বৈদ্যুতিক তার তিন বছর পর পরিবর্তন না করলে এমন বিপদ হতে পারে। আমরা প্রায়ই বিদ্যুৎজনিত কারণে অগ্নিকাণ্ড ঘটতে দেখি।এজন্য এ বৈদ্যুতিক তার গুলো সরিয়ে অথবা অন্য কোন ভাবে রাস্তা থেকে
দূরে সরিয়ে অন্য স্হান দিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্হা করতে হবে।

বিবিসি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে,ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের তথ্যমতে তাদের কাছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ২৮ শতাংশ বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় পুড়ে যাওয়া রোগী। ২০১৬ সালে পুড়ে যাওয়ার রোগীদের মধ্যে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ৪২ শতাংশ এ ধরনের রোগী।

মূলত বৈদ্যুতিক তারের ত্রুটির কারণে এসব ঘটছে। আমরা যদি সময়মতো সচেতন না হাই, তাহলে আমাদেরই বিপদ।তাই আমাদের সকলের উচিত সচেতন হওয়া এবং আইনত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
—————
হামিদুর রশিদ জামিল।
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Top