ঈদকে সামনে রেখে সেমাইয়ের খাঁচি তৈরিতে ব্যাস্ত সময় পার করছে বিরামপুরের মাহালিরা

Birampur-Pic-18.05.19.jpg

মোঃ সামিউল আলম,বিরামপুর(দিনাজপুর)ঃ

দিনাজপুরের বিরামপুরে পৌর শহরের কলেজ বাজার, শিমুলতলী, পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়ি উপজেলার মাদিলাহাট মাহালিপাড়া, মরিয়ামপুর মিশন, হরিপুর আদিবাসী পাড়া, চেরাগপুর মাহালী পাড়ার প্রায় ৩’শতাধিক মাহালি পরিবার এখন আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এখন ব্যাস্ত সময় পার করছে সেমাই রাখার খাঁচি তৈরিতে। বাজারে বাঁশের চড়া দাম হলেও সেমাইয়ের খাঁচি তেরির এই ব্যবসা ধরে রেখেছেন মাহালি পরিবারগুলো। সেমাই কারখানার ব্যবসায়ীরা তৈরীকৃত সেমাই রাখার জন্য খাঁচির আগাম অর্ডার দিয়ে রাখেন মাহালিদের। এজন্য পুর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসাবে মাহালিরা আগাম খাঁচির জন্য বোকিং করে রাখে। খাঁচি তৈরির একমাত্র উপাদান বাঁশ, যা সংগ্রহের জন্য মাহালি প্রধানেরা বিভিন্ন এলাকায় ঘুরছেন। সারা বছর মাহালিদের তেমন কাজ-কর্ম না থাকায় ঈদ আসলে তাদের ব্যস্ততা খানিকটা বেড়ে যায়।
বাঁশের দাম বেড়ে যাওয়ায় একটি ছোট খাঁচি তৈরি করতে খরচ পড়ে ৪০-৫০ টাকা এবং বড় খাঁচিতে ৬০-৮০ টাকা। ব্যবসায়ীদের কাছে তা বিক্রী করেন ছোটগুলো ৬০-৭০ টাকা এবং বড়গুলো ৮০-১০০ টাকা দরে। বিরামপুর সরকারি কলেজ সংলগ্ন বসবাসকারী মাহালিরা জানান, শুধুমাত্র বাপ-দাদার ঐতিহ্য পেশাটিকে টিকিয়ে রাখার জন্যই তারা এই কাজটি করে যাচ্ছেন। লাভ না হলেও পরিবারের ছেলে মেয়েদের সবাইকে নিয়ে বাঁশের তৈরি এসব খাঁচি তৈরীতে তারা ব্যাস্ত সময় পার করছেন। তবে রমজানের আগেই যদি কিছু বাঁশ কিনে রাখা যেত তাহলে হয়তো তাদের কিছুটা লাভ হত। কিন্তু অর্থ সংকটের কারনে তারা বাঁশ কিনে রাখতে না পারায় এখন লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেন না বলে জানান তারা। তারা আরো জানান, রমজান ছাড়া বছরের অন্যান্য সময় চলে বাঁশের টোপা, ডালি, চাঙারী, কুলা, খইচালা, গুমাইসহ নিত্য নৈমিত্তিক ইত্যাদি তৈজসপত্র। এ শিল্পকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এক সময় গ্রাম-বাংলার গৃহস্থালী ঐতিহ্যময় বাঁশের তৈরী এসব তৈজসপত্র কালের বির্বতনে হারিয়ে যাবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। মাহালিদের হাতের এ শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে এসব পরিবারগুলোকে সরকারের বিশেষ সহায়তা ও নজরদারী কামনা করেন তারা।

Top