ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে দুর্দান্ত জয়ে চ্যাম্পিয়ন টাইগার্সরা

60864932_182808972626379_4635315713014235136_n.jpg

মোঃ রাফিউল ইসলাম (রাব্বি),স্টাফ রিপোর্টার:

ছয় ছয়বার ফাইনালে উঠেও শিরোপা ছুঁয়ে দেখা হয়নি বাংলাদেশের। প্রতিবারই মাশরাফিরা পুড়েছে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায়। একটা শিরোপা যেন বাংলাদেশের কাছে বহু আরাধ্য হয়ে গিয়েছিল। আর ফাইনাল যেন বাংলাদেশের কাছে যাতনার, কষ্টের। শুক্রবার ডাবলিনের মালাহাইডে আরেকটি ফাইনালে সেই কষ্ট, যাতনা ভুলিয়ে দিল সৌম্য সরকার-মোসাদ্দেক হোসেনের সাহসি ব্যাটিং।

বৃষ্টির কারণে এদিন ম্যাচের পরিধি নেমে আসে ২৪ ওভারে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্কোরবোর্ডে জমা করে ১৫২ রান। ফাইনাল জিততে ডার্কওয়াথ লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের দরকার পড়ে ২১০ রান। ৭ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেট হারিয়ে ২১৩ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। আর এর নেপথ্যে ছিলেন সৌম্য ও মোসাদ্দেক। দু’জনেই তুলে নিয়েছেন ফিফটি।

এদিন টসে জিতে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা শুরুটা ভালো করতে পারেননি। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে তিনি বেশ কয়েকজন বোলার ব্যবহার করেও সাফল্য পাননি। বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০.১ ওভারে বিনা উইকেটে স্কোরবোর্ডে জমা করে ১৩১ রান। বৃষ্টিতে সময় নষ্ট হওয়ায় ম্যাচের দৈর্ঘ্য নেমে আসে ২৪ ওভারে। নির্ধারিত ২৪ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তুলেছে ১ উইকেটে ১৫২ রান।

রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই মেরে খেলতে থাকেন সৌম্য। মাত্র ২৭ বলে তুলে নেন ফিফটি। তামিমের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে যোগ করেন ৫৯ রান। জীবন পেয়েও নিজের ইনিংসটা লম্বা করতে পারেননি তামিম। শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের বলে ডাউন দ্য উইকেটে মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে হোল্ডারের হাতে ধরা পড়ে বিদায় নিয়েছেন ১৮ রান করে। প্রমোশন পেয়ে ওয়ান ডাউনে নেমেছিলেন সাব্বির রহমান। কিন্তু রানের খাত খোলার আগেই এলবিডব্লু হয়ে গেছেন সেই গ্যাব্রিয়েলের বলেই। এরপর সৌম্য ফিরে যান ১০৯ রানে ব্যক্তিগত ৬৬ রান করে। এই রান তিনি করেন ৪১ বলে ৯ চার আর ৩ ছক্কায়।

খানিকবাদে মুশফিকুর ৩৬ রানে ফিরে গেলে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই শঙ্কা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন মোসাদ্দেক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর এমন মোসাদ্দেককে আগে কখনও দেখা যায়নি। একের পর এক তিনি ক্যারিবীয় বোলারদের আছড়ে ফেলেছেন সীমানার বাইরে। শেষ অবধি ২৭ বলে অপরাজিত ৫২ রান করে দলের জয় নিয়ে তবেই মাঠ ছেড়েছেন মোসাদ্দেক। দুই চারের বিপরীতে ছক্কাই মেরেছেন পাঁচটি। এটাই মোসাদ্দেককে এনে দিয়েছে ম্যাচসেরার পুরস্কার।শ্যান গ্যাব্রিয়েল ও রেইফার নিয়েছেন ২টি করে উইকেট।

বৃষ্টির আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ওপেনার শাই হোপ আর সুনীল আমব্রিসের ব্যাটিংয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে বাংলাদেশ। বৃষ্টি নামার আগে হোপ ৬৮ ও আমব্রিস ৫৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। বৃষ্টির পর খেলা শুরু হলে মিরাজের বলে বাউন্ডারিতে ক্যাচ তুলে দেন হোপ। তিনি ৬৪ বলে ৭৪ রান করেন। ৭৮ বলে ৬৯ রানে অপরাজিত ছিলেন আমব্রিস। একমাত্র উইকেটটি পেয়েছেন মিরাজ ২২ রানের বিনিময়ে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২৪ ওভারে ১৫২/১
বাংলাদেশ: ২২.৫ ওভারে ২১৩/৫।

Top