জমি দখলে ব্যার্থ হয়ে চেয়ারম্যানের নির্মম নির্যাতন এতিম নারীর প্রতি

konakhali-nari-16-5-19.jpg

হায়রে হায়রে মানবতা?, কোনাখালীতে স্থানীয় সরকার বিচার ব্যবস্থার নির্যােতনের মাত্রা চরম শিখরে

সাঈদী আকবর ফয়সাল,চকরিয়া:

চকরিয়ায় ইয়াছমিন আরা নামে এক মহিলাকে কোনাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি দিদারুল হক সিকদার ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক নির্মম নির্যাতন ও নির্মমতার শিকার হয়ে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করে নিতে প্রাণনাশসহ নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি ধমকি প্রদানের মাঝে ১৬মে বিকাল ৩টার দিকে বসতবাড়িতে ফের হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এনিয়ে অসহায় নারী ইয়াসমিন আরার পরিবারসহ স্থানীয়দের মাঝে বিরাজ করছে ক্ষোভ ও উত্তেজনা। এসব নির্যাতন ও নির্মমতার বিচার কি কোনাখালী ইউনিয়নবাসী পাবেননা এমন প্রশ্ন উঠেছে সর্বত্রে। ভূক্তভোগী নারী ইয়াছমিন আরা কোনাখালী ইউনিয়নের মরণঘোনা এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের মেয়ে বলে জানাগেছে।
অভিযোগে জানায়, এতিম পরিবারের অসহায় ইয়াছমিন আরা পৈত্রিক ভোগ দখলীয় বসতভীটার জমি স্থানীয় মৃত আবদুস সালামের পুত্র মো: জাহেদ গং অবৈধভাবে জবর দখলের পায়তারা চালায়। কিন্তু অসহায় পরিবারের বিপক্ষ হয়ে দখলবাজদের পক্ষ নেন কোনাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি দিদারুল হক সিকদারসহ সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী বাহিনী। এনিয়ে বিগত ২০১৮সনের ১০ ফেব্রুয়ারী রাত ৯টায় ১ম দফায় ও পরদিন ১১ ফেব্রুয়ারী দুপুর ২টায় দ্বিতীয় দফায় বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে বেধড়ক মারধর, শাররীক নির্যাতন এবং ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা চালায়। এঘটনায় ভূক্তভোগী ইয়াছমিন আরা বাদী হয়ে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দম ট্রাইব্যুনাল,কক্সবাজারে চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদারসহ ৪জনের নাম উল্লেখ করে মামলা (নং সিপি ২৭০/১৮) দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত তা আমলে নিয়ে চকরিয়া থানাকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর (মামলা) নেওয়ার নির্দেশ দেন। মামলা নিলেও পরে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের আসামীদের গ্রেফতার না করায় বাদী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার চেয়ারম্যান, আইজিপিসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। সর্বশেষ মামলা ও এসব অভিযোগ প্রত্যাহার করে না নেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে চলতি ১৬ মে বিকেল ৩টায় বাদী ইয়াছমিন আরা’র বসতভীতায় ঘিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে অভিযুক্তরা। এনিয়ে রাতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলুল করিম সাঈদীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ভূক্তভোগী পরিবার।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দিদার একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে এধরণের লজ্জাকর কাজ করতে পারেন তা মানবতার বিবেককেও নাড়া দিয়েছে। যার কাছে মানুষ আশ্রয়ের জন্য, কিংবা বিচারের জন্য যাবেন, সে যদি এমন নির্মম আচরণ ও নির্যাতন করেন, তাহলে এধরণের নোংড়া মনমানষিকতার জনপ্রতিনিধিদেরকে মানুষ হেয় করতে দ্বিধাবোধ করবেনা। তারা মানবাধিকার সংগঠনসহ উর্ধ্বতন প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ পূর্বক সুবিচার প্রতিষ্ঠার আবেদন করেন।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: হাবিবুর রহমান বলেন, পূর্বের ঘটনাটি আমার আমলে হয়নি। এসব ঘটনা নিয়ে চলমান মামলা পর্যালোচনাসহ বর্তমান সৃষ্টি ঘটনার জন্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী বলেন, ইতিপূর্বে অনেক ঘটনা চেয়ারম্যান দিদার করেছে। যা স্থানীয়রা একাধিক অভিযোগ তার কাছে দিয়েছেন। একজন প্রতিনিধি জনগনের সাথে এধরণের আচরণ করতে পারেননা। তিনি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছেন বলে জানান।##

Top