“নিসচা” চকরিয়া উপজেলা সভাপতির অপসারণ দাবি: সদস্যদের অনাস্থা প্রকাশ

60721516_801902543544240_8371752460976390144_n.jpg

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:

নিরাপদ সড়ক চাই চকরিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি সোহেল মাহমুদ সরাসরি বিভিন্ন দূর্ণীতি, স্বজনপ্রীতি ও অসমাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকায় তার অপসারণ দাবি করে সকল সদস্য অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। ১৫ মে বিকাল ৪ ঘটিকার সময় চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের হলরুমে সংগঠনের সহ-সভাপতি বেলায়েত হোসাইন পিয়ারুল সভাপতিত্বে এক জরুরি সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্টিত হয়। উক্ত সভায় উপস্থিত সকল সদস্যদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মতামতের ভিত্তিতে নিসচা চকরিয়া উপজেলার বর্তমান অযোগ্য সভাপতি সোহেল মাহমুদের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে নির্দিষ্ট কাগজে স্বাক্ষর করেন।

জরুরি সভা ও ইফতার মাহফিলে উপস্তিত ছিলেন- নিরাপদ সড়ক চাই চকরিয়া উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি বেলায়েত হোসাইন পিয়ারু, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুর রশিদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাংবাদিক এম, জুনাইদ উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফারুখ রানা, দূর্ঘটনা অনুসন্ধান বিষয়ক সম্পাদক সাংবাদিক এম, রিদুয়ানুল হক, কার্যকরি সদস্য মো, ইশফাতুল হোসাইন, বেলাল উদ্দিন রুবেল, মো, রায়হানুল ইসলাম, মো, মুফিজুর রহমান, আমান উল্লাহ নোমান প্রমূখ।

সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন নিসচা চকরিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন রশিদ। তিনি বলেন- বর্তমান সভাপতি সোহের মাহমুদ এই সংগঠনের জন্য অযোগ্য লোক। তার ব্যাপারে সদস্যদের অভিযোগের পাহাড়। তিনি নানা জাতীয় অপরাধে যুক্ত। কার্যকরী পরিষদের কোনো সদস্য তার পক্ষে নেই। তিনি এই সংগঠনকে একনায়ক তন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। কোনো সদস্যকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের ইচ্ছা মতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তার আচরণ দেখে মনে হয়- তিনি একাই একশ। তিনি জরুরি ভিত্তিতে তার অপসারণ দাবি করেন।

সংগঠনের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাংবাদিক এম, জুনাইদ উদ্দিন বলেন- “নিসচা” চিত্রনায়ক ইলিয়াছ কাঞ্চনের হাতে গড়া সংগঠন। পুরো দেশে এই সংগঠনের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত হলেও চকরিয়াতে এর বিপরীত। এর জন্য দায়ী চকরিয়া ‘নিসচা’র সভাপতি সোহেল মাহমুদ। তার কার্যক্রম দেখলে মনে হবে তিনি স্বৈরচারের একজন দায়িত্বশীল। তিনি আরো বলেন- সোহেল মাহমুদের অপরাধের বর্ণনা দিতে গেলে বহু পৃষ্ঠার প্রতিবেদন আকারে দিতে হবে। তারপরও একটি প্রমাণ দেয়া উচিত মনে করছি। ২০১৮-১৯ সালের জন্য গঠিত চকরিয়া উপজেলা কমিটির মধ্যে ১২ জনের আইডি কার্ডের জন্য জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে সভাপতিকে দেয়া হয়। কিন্তু অদ্যবদি ঐ সদস্যদের একজনও আইডি কার্ড হাতে পায়নি। খবর নিয়ে জানা গেছে- তিনি ঐ টাকাগুলো কেন্দ্রে না দিয়ে সভাপতি নিজেই আত্মসাৎ করেছেন। একইভাবে অসংখ্য প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে। তিনি নিসচা চকরিয়া উপজেলার বর্তমান সভাপতির পদত্যাগ দাবি সহকারে তার প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেন।

নিসচা চকরিয়া উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফারুখ রানা অভিযোগ করে বলেন- আমি বহুদিন যাবৎ এই সংগঠনের সাথে জড়িত। সুখে-দুঃখে আমি সর্বদা সভাপতির সাথে ছিলাম। তবে তার মতো অযোগ্য লোক আমি জীবনে দেখি নাই। তিনি বলেন- সোহেল মাহমুদ একজন দূর্ণীতিবাজ, চাঁদাবাজ। তিনি এই সংগঠনের নাম ব্যবহার করে শত শত লোকের কাছ থেকে চাঁদা নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন। তিনি সংগঠনের নিয়ম লঙ্গণ করে পদ দেয়ার নামে বিভিন্ন উপজেলার লোক থেকে বহু টাকা নিয়েছেন এবং ২/১ জনকে পদও দিয়েছেন। তন্মধ্যে একজন লোহাগাড়া উপজেলার লোকও রয়েছেন। গত ১৫ মে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন থেকে নিসচার প্রত্যেক সদস্যদের নামে দুম্বার গোস্ত পাঠিয়েছেন। কিন্ত বর্তমান সভাপতি সোহেল মাহমুদ কোনো সদস্যকে ঐ গোস্ত না দিয়ে সব নিজেই আত্মসাৎ করেছেন। তিনি আরো বলেন- চকরিয়া পৌর নিরাপদ সোসাইটি সংগঠন থেকে হাজার হাজার টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে রয়েছেন। তাকে মোবাইল করলেও মোবাইল রিসিভ করে না। তিনি দ্রুত সোহেল মাহমুদের পদত্যাগ দাবি করেছেন।

চকরিয়া উপজেলা দূর্ঘটনা অনুসন্ধান বিষয়ক সম্পাদক সাংবাদিক এম, রিদুয়ানুল হক বলেন- আমাদেরকে নিয়ে কমিটি করার পর ২/৩ মাস সুন্দরভাবে সংগঠন পরিচালিত হয় এবং প্রতিমাসে দূর্ঘটনা সংক্রান্ত রির্পোট পেশ প্রশাসনের কাছে হস্তগত করা হয়। তখন কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াছ কাঞ্চন চকরিয়ার কমিটিকে ধন্যবাদ দিয়ে বিবৃতি প্রদান করেন এবং চকরিয়ার দূর্ঘটনা অনুসন্ধান বিষয়ক সম্পাদককে ধন্যবাদ জানান। কিন্তু ধীরে ধীরে সোহেল মাহমুদ সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়ে পড়ে। পর্যায়ক্রমে তিনি কার্যকরী পরিষদ সদস্যদেরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের ঢোল নিজেই পিঠাতে শুরু করে এবং সবকিছু নিজেই করতে থাকে। বর্তমানে কার্যকরী পরিষদের সকল সদস্য তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং অনাস্থা প্রকাশ করেছে। তিনি আরো বলেন- ডুলহাজারা নিসচার আহবায়ক এম গিয়াস উদ্দিন গাজীকে স্বাক্ষী রেখে গত রমজান মাসে এক লোক থেকে (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) সোহেল মাহমুদ ২,৯০,০০০/- টাকা নিয়ে আত্মগোপনে রয়েছে। এছাড়া মহেশখালী কমিটির নতুন সভাপতি মুজিব ভাইয়ের কাছ থেকে ৫০০০/- টাকা এবং হাটহাজারী সভাপতির কাছ থেকে ৫০০০/- টাকা নিয়ে নিজের পকেটে ঢুকিয়েছে। যা সম্পূর্ণ সংগঠনের সংবিধান পরিপন্থী। এভাবে তার বিরুদ্ধে আরো অসংখ্য প্রমাণ আমাদের হাতে রয়েছে। সময় মতো প্রতিবেদন আকারে কেন্দ্রে পাঠানো হবে।

জরুরি সভার সভাপতি ও সংগঠনের সহ-সভাপতি বেলায়েত হোসাইন পিয়ারু বলেন- আমাদের নাম ব্যবহার করে বর্তমান সভাপতি বিভিন্ন দফতর থেকে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে যাচ্ছেন। আমাদের সাথে কোনো কিছু শেয়ার না করে নিজেই একা কাজ চালিয়ে নেয়ার চেষ্ঠা করছেন। বর্তমানে তার আচরণ দেখে মনে হয় ‘মাইক ও ব্যাটারী’ সে নিজেই। সভাপতি সোহেল মাহমুদকে বহুবার সতর্ক করার পরও তিনি নিজের ইচ্ছায় সংগঠন চালাচ্ছেন যা একনায়কতন্ত্র বটে। তিনি আরো বলেন- চকরিয়া উপজেলার নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনটির শিগগিরই মৃত্যু ঘটবে। এর একমাত্র দায় বহন করতে হবে অযোগ্য সভাপতি সোহেল মাহমুদকে। তিনি সংগঠনের চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াছ কাঞ্চনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন- দ্রুত সোহেল মাহমুদকে অপসারণ করে নতুন একজন যোগ্য সভাপতি নির্বাচিত করুন। না হয় চকরিয়াতে এই সংগঠনের অস্থিত্ব ধরে রাখতে কষ্ট হবে। তিনি অতি সত্ত্বর বর্তমান সভাপতির পদত্যাগ দাবী করেন।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- কার্যকরী পরিষদ সদস্য মো, ইশফাতুল হোসাইন, বেলাল উদ্দিন রুবেল, মো, রায়হানুল ইসলাম, মো, মুফিজুর রহমান, আমান উল্লাহ নোমান।

Top