দোয়ারাবাজারে এক মহিলা ইউপি সদস্যকে হুমকির প্রতিবাদে দুইদিনের আল্টিমেটাম এলাকাবাসীর

IMG_20190514_234927_754.jpg

আশিষ রহমান,সুনামগঞ্জ:
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্য হুছনা বেগমকে বিএনপি নেতা হারুন অর রশীদ কর্তৃক হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে সোমবার সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার মামুনুর রশীদের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে দস্তখত দেওয়ার জন্য মহিলা ইউপি সদস্য হুছনা বেগমের বাড়িতে যান বিএনপি নেতা আব্দুল মালেকের ভাই ইউপি সদস্য আব্দুল কাদির, ইউপি সদস্য শাহআলম ও ইউপি সদস্য আলতাব হোসেন। এসময় ওই অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানালে মহিলা ইউপি সদস্য হুছনা বেগমকে মোবাইলে কল দিয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন স্থানীয় প্রভাবশালী বিএনপি নেতা হারুন অর রশীদ। পরদিন সুরমা ইউনিয়নের মহব্বতপুর বাজারে আসলে এই মহিলা ইউপি সদস্যের পিতা আব্দুল আহাদকেও অপমান করেন তিনি এবং এলাকার রাস্তাঘাটে চলাচল করতে নিষেধ করেন।
এদিকে ১৪ মে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে সুরমা ইউনিয়নের টিলাগাও গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মরহুম আলতাফ মেম্বাবারের বাড়িতে বিএনপি নেতা হারুন অর রশীদ কর্তৃক মহিলা ইউপি সদস্যকে দেখে নেওয়ার হুমকির প্রতিবাদে এক জনাকীর্ণ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সুরমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার মামুনূর রশীদ, ওয়ার্ড আ.লীগ সভাপতি হাবীবুর রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর রশীদ ইমন, ইউপি সদস্য নূর ইসলাম, মহিলা ইউপি সদস্য জরিনা বেগম, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল আওয়াল, আব্দুল জব্বার, উস্তার আলী, রজব আলী, সিরাজ মিয়া, আক্তার হোসেন, আইনাল হক, জসিম উদ্দিন, রবিউল ইসলাম, সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা এনামুল কবির মুন্না, ছাত্রলীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম, জাহিদ হাসান পাপন প্রমুখ। প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, ‘স্থানীয় প্রভাব দেখিয়ে বিএনপি নেতা হারুন অর রশীদ দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তার অত্যাচার অত্যাচার থেকে শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ কেউই রেহাই পাচ্ছেন না। এর আগেও সে বৈঠাখাই গ্রামের এক অসহায় মাছ বিক্রেতাকে পিটিয়েছে, এরপর এক মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্চিত করেছে, কলেজের শিক্ষকসহ প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের লাঞ্চিত করেছে, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানকে লাঞ্চিত করেছে এবং সবসময় আবাদী-সিলটি ও আঞ্চলিকতার নামে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে এলাকার শান্তি ও সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে তৎপর রয়েছে। এলাকায় তার নেতৃত্বে বখাটে যুবকের নিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে উঠিছে। অদৃশ্য কারণে প্রশাসনও তার ব্যাপারে নীরব রয়েছে। বর্তমানে তার হুমকিতে মহিলা ইউপি সদস্য হুছনা বেগম ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।’
এসময় বক্তারা মহিলা ইউপি সদস্য হুছনা বেগমের নিকট ক্ষমা চাওয়ার জন্য বিএনপি নেতা হারুন অর রশীদকে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দুইদিনের আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনিভাবে পদক্ষেপ নেওয়াসহ সামাজিক ভাবে হুমকি মোকাবেলা করার হুশিয়ারি করেন বক্তারা।

Top