দুর্বল

60518228_322940415046077_5580939667596902400_n.jpg

হে দুর্বল তুমি,
আর কত কাল তোমার দীনপ্রাণে
পাওয়া পাষাণভারের বোঝা নিয়ে
নিশ্চুপ থাকবে?
আর কত যুগ অন্তরে বাহিরে
দাসত্বের রজ্জু লালন করে
সবলের পদধূলিতে নতশির করবে?

হে দুর্বল তুমি,
আর কত মাস নিষ্ঠুরময় পৃথিবীতে
আত্মবলিদান দিয়ে, আত্মনির্যাতন করে
এই রীতিতে দিন যাপন করবে?
আর কত দিন মড়ার উপর
খাড়ার ঘাঁ হয়ে থাকবে?
আর কতক্ষণ জাহান্নামের আগুনে
বসে, ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে
শুনাবে? তোমার প্রাণের এই তিক্ত
আহজারির জ্বালা কেউ দেখবে না,
কেউ বুঝবে না। তোমার এই ব্যবধানের
পীড়ায় সবলদের কারো বুকে কাঁটার মত
বাঁধবে না, অনুশোচনায়, লজ্জায় সঙ্কুচিত
হয়ে ওঠবে না। যদি তুমি বিদ্রোহ করে
কারো কাছে কিছু না চাও, মাথা উঁচু করে
সবলের পানে না তাকাও, তাহলে
আজন্মকাল তুমি এই গণ্ডীতে
আবদ্ধ থাকবে।
তাই বলছি, একটু জেগে ওঠো
খুলে ফেল তোমার সব বাঁধ।
ডেকে আন তোমা-পানে
স্বত্বের বিদ্রোহী অস্ত্র
দূর করে দাও মনুষ্যমর্যদাগর্ব,
ভেঙ্গে দাও ধরনীর সব অনিয়ম-উচ্ছৃঙ্খল,
চূর্ণ করে দাও অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ মন্ত্র।
বিচরণ করাও এই ধরিত্রীকে
সম-মর্যদার, সমতার রাস্তায়।
তুমিও দেখাও, সবলের সহিত
প্রাণখোলা হাসির উল্লাস।

মিজবাহ খলিল, শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Top