চেতনার-৭১–মোঃ ফিরোজ খান

2019-05-14-00-00-01.jpg

——————-
হে আমার রক্তাক্ত বাংলাদেশ,
তুমি কি ভুলে গিয়েছো?৭১-এর বাঙ্গালীদের রক্তমাখা চেতনার দিনগুলোর কথা?
তুমি নিশ্চয়ই জানো-
রক্তে গড়ে ওঠা‘বাঙ্গালী চিরকাল-ই অবিনাশী।
তুমি কখনও ভুলে যেওনা ৭১-এর কথা,
তুমি লিখে নিতে পারো-মৃত্যু নেই-৭১ – এর চেতনামাখা বাঙ্গালীদের বলিদান যাবেনা বিফলে কখনও, কোনো দিন।

বাঙ্গালীদের একফোটা রক্ত এবং মায়েদের এক ফোটা চোখের জ্বলের মৃত্যু কখনও হবেনা!হতে পারেনা!!স্মৃতিতে গেথে থাকবে প্রোজ্জল সেই- ‘১৯৭১-আর তার মৃত্যুঞ্জয়ী-প্রত্যক্ষ অনুভবের দিনগুলো আমার বুকেতে শুধু নয়,সারা বাংলাদেশের মানুষের বুকের গভীরে।এতো আমাদের দেশের রক্তিম জয়ের কথা !! যে কথা শুধুমাত্র বাঙ্গালীর বুকে লেখা আছে খোদাই করে রক্তের কালিতেই।‌ কোন আক্রোশ,আস্ফালন অথবা,নির্লজ্জস্তুতি কোনো কিছুই পারবেনা-দমিয়ে রাখতে-৭১-এর চেতনাকে।পারবেনা হ্নদয়ের ক্ষত-বিক্ষত রক্তের চিহ্নিত দাগের অংশ মুছে দিতে।তাহলে যে মায়ের এই ভাষা অপমানিত হবে আমাদের চোখের সামনে।দিবোনা আমরা পবিত্র মায়ের ভাষাকে কলুষিত হতো,হাতে গননা করা কয়েকটি রাজাকারের হাতে।এ যে বাঙ্গালীদের হ্নদয়ের-গভীরে গেঁথে আছে ৭১- এর চেতনার কথা,এই বাংলাদেশ আজ আমাদের অহংকার একটি লাল-সবুজের পতাকা যা বিশ্বের কোথাও নেই এই রংয়ের সাক্ষী হিসেবে পতাকা রূপে।

‌ সেই দৃপ্ত স্মৃতির শেকড়- রাতারাতি-কেউ পালটে ফেলতে পারবেনা,এই বাংলা ভাষার একুশের চেতনার কথা।জীবনকে সাজানো যায় বহু রূপে-করা যায় বিভিন্ন ভাবে রূপান্তরিত,তবুও তৃপ্তি আসবেনা মায়ের ভাষায় কোনো কালো চিহ্নিত দাগ থাকলে।‌শুধু ফুলদানী পাল্টে দিলেই- ফুলের চারা পাল্টে যায় না,চারার সাথে সাথে ফুলদানি ও পালটাতে হয়ে থাকে।এটাই সত্য এবং বাস্তব এই বাংলাদেশের চিত্রে।‌ফুলের টপে যদি রোপন করা হয়ে থাকে‘ক্যাকটাস’কাঁটা যুক্ত কোনো গাছ-তাহলে কি সেই গাছ থেকে আশা করা যায় কভু স্মৃতিচারী-সুগন্ধী-বিমুগ্ধ’গোলাপ কখনও সম্ভব নয়,সূর্য আলো দিবে এটাই সত্য আর চাঁদ থেকে পাওয়া যাবে অন্ধকারে থাকা আলোর দিশারী এটাই বাস্তব।‌তাই বলছি হে ৭১-তুমি লিখে নিতে-পারো একটি কথাই; যে কথা তোমার ইতিহাসের পাতায় পাবে খুঁজে।স্বাধীনতার স্বাধীকার ভাষার দাবীতে যে রক্ত গড়িয়ে ছিলো বিভিন্ন;নদ-নদীর স্রোতের সাথে মিলেমিশেই সেই রক্তের-রক্তাক্ত দাগেই গড়া হয়েছে’ইতিহাস’যে ইতিহাস রাজপথে-আজও প্রায়-৪৬ বছর পরেও ‘রয়ে আছে অমলিন স্মৃতির মলাটে আবদ্ধ,এভাবেই রয়ে যায়-সুনিশ্চিত টকটকে লাল!!!রক্তের চিহ্নিত দাগের আংশ।আমি জানি-হয়তোবা কেউ কেউ-অস্পষ্ট করে দিতে চাইবে-আমাদের গর্বিত মনের অনুভব।আবার কেউ কেউ-চাইবে-একটি জাতির উত্থান,উন্মেষ-আর,রক্তাপ্লুত সবুজের নেপথ্যের কথার ব‍্যক্ততার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে,আমরা যেন ক্রমশঃ লুকাতে চাই-রোদের প্রখর চৈতন্য থেকে দূরে বহু দূরে সরে দাড়াতে।

যেন সবকিছু অদ্ভুত আরোপিত অাঁধার,প্রায়শঃই আমাদের চেতনার-সেই; ৭১-এর ক্ষতবিক্ষত দিনগুলো থেকে আমাদের অর্জিত জ্যোৎস্নাটুকু যেন কেঁড়ে নিতে চায় কোনো অন্ধকার।যেন সত্যিই ছুড়ে দিতে-চায়- বোধশূন্যতার অতল অন্ধকারে-সীমাহীণ অচেনা এক-নষ্ট অমাবস্যায়।আমরা তবুও বিপুল ভাঙনের পরেও বারবার নিজেদের কে নিজেরা ই যেন জেগে তুলতে চেষ্টা করি,আমরা যেন বারবার স্তস্ব হয়ে যাই,সেই ৭১-এর রক্তে মিশে যাওয়া-অনিঃশেষ চেতনার মাঝেই।বারবার আমাদের অনির্বাণ ইতিহাস-আমাদের নিত্য দিনের অনুভবে মিলেমিশে হয়ে ওঠে মৃত্যুহীণ-শাশ্বত ‘অবিনাশী’র রূপে !৭১-এর চেতনার কথা যতই লেখা হয়ে থাকুকনা কেনো;তবুও,ইতিহাসে কিছু কথা বাকিও থেকে যায়-যেন অনন্য,অনড় আমাদের মনের গভীরে।যে কথাগুলো চিরসত‍্য-কষ্টে,ভালবাসায়,বিশ্বাসে আর রক্তের,রক্তাক্ত দাগের মহিমা দিয়েই লেখা ছিলো।আমাদের প্রত্যক্ষ চোখের সামনে তৈরী হয়েছে যে সংগ্রামী সোনালী অতীত-কোন কূট-কৌশলই কোনদিন পারেনা সেখানে সহজে ঘটাতে কোন-কলঙ্কময় বিকৃতি!সেই ১৯৭১-এর সময়ে আমাদের রক্তের উত্তাপে-যেন একান্ত গভীরে-বিকাশ ঘটেছে যে গৌরবোজ্জল; ভ্রুণের-অমলিন ভীষণ ধ্রুব-সেই রক্তাক্ত ‘সত্য’টুকুর সুনিশ্চিত ভাবে-যেন কোন’মৃত্যু’ই নেই!ঐ বলিদান হয়ে যাওয়া বীর বাঙ্গালীদের।

হে ৭১-এর চেতনা তুমি কি-দ্ধিধাহীনভাবে লিখে নিতে পারো-একটি অধ‍্যায়ের কথা;যে অধ‍্যায়ের পাতায় লেখা থাকবে খোদাই করে ১৯৭১ -এর রক্তাক্ত স্বাধীনতার কথা‌।আমাদের ইতিহাস যেন সেই ১৯৭১-সালের ডিসেম্বর-মাসেই ছিলো,আমাদের অর্জনের এই বিজয়ের কথা।আমাদের প্রীতির আকাশ জুড়ে যেন দেখা গিয়েছিল;একটি নিশানা-যা ছিলো লাল-সবুজের আবেগ মেশানো সেই অনন্য অপরুপ সাজে-যার সৃষ্টি।সেই ১৯৭১-এর চেতনার ও আনন্দের এক অনাবিল সুখের ছোঁয়া লেগেছিল,আমাদের বাঙ্গালীদের হ্নদয়ের গভীরে।যা ছিল বিজয়ের উফুল্ল্ল পতাকা,তবুও উড়বেই-দৃপ্ত দ্বিধাহীন উচ্ছাসে-এই স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্ত নীলিমায়-আমাদের পোড়া এই অন্তর,জ্বলবে পুড়বে অনন্তকাল।বসন্তের রংয়ের মাঝে যেন চিরকাল সবুজ ও লাল রংয়ের রূপ ভেসে থাকে এই টুকু শুধুমাত্র চাওয়া আমার এই সামান্য লেখার মাঝে,তাই ভালোবাসা থাকবে চিরকাল এই দেশের মানুষের প্রতি,দেশের প্রতি এবং এই একুশের চেতনার প্রতি।সন্মান করবো ঐ ভোরে স্কুলে দাড়িয়ে থাকা একটি পতাকাকে সব সময় একই ভাবে।সবাই ভালো থাকবেন দেশের প্রতি ভালোবাসা রাখবেন তাহলেই একদিন আমাদের সন্তানদের কাছেও আমরা এই টুকুই আশা করতে পারবো।ধন্যবাদ প্রিয় ভাই,বোন ও আমার বন্ধুদের এছাড়াও যারা আমার সামান্য লেখাকে ভালোবাসেন তাদের কাছে বিশেষ অনুরোধ আপনারা সবাই ভালো থাকবেন এবং দেশের প্রতিটি মানুষের প্রতি আপনাদের ভালোবাসা বিলীন করে দিবেন।আমরা যেনো স্বাধীন বাংলাদেশের বুকে হেসে খেলে জীবনের বাকি সময় কাটাতে পারি দেশের প্রতি সন্মান রাখতে পারি জীবনের বিনিময়ে।

(লেখক সাংবাদিক)

Top