দৌছড়িতে ভিজিডি এবং পুঙ্গু ভাতায় তালিকায় অর্ন্তভূক্ত করে দেয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

download-3.jpg

——————-
শামীম ইকবাল চৌধুরী,নাইক্ষ্যংছড়ি(বান্দরবান)থেকে::

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দৌছড়ি ইউনিয়নের বাঁকখালী এলাকায় দুস্থ ও অসহায় নারীদের ভিজিডি এবং পুঙ্গু ভাতার তালিকায় নাম দেওয়ার কথা বলে আওয়ামী লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জলাল আহাম্মদ বাচ্ছুরু নামের ওই ব্যক্তি দৌছড়ি ইউনিয়নের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা।
তবে টাকা দেওয়ার পরও ভিজিডি এবং পুঙ্গু ভাতা তালিকায় নাম না ওঠায় ক্ষুব্ধ একই এলাকার শফি উল্লাহ,র স্ত্রী ছালেহা বেগম। ওই নেতার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সাদিয়া আফরিন কচির কাছে অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিগত ৫/৬ মাসের মাঝামাঝি জালাল আহাম্মেদ বাচুরু ভিজিডির এবং পুঙ্গু ভাতা তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ওই এলাকার শফি উল্লাহ,র স্ত্রী ছালেহা বেগমের কাছে ভিজিডি এবং তার পুঙ্গু ছেলেকে ভাতা পাওয়ার তালিকায় অর্ন্তভূক্ত করে দেয়ার আশ্বচ্ছাস দিয়ে এক হাজার টাকা চান। ছালেহা বেগম তাঁকে এক হাজার টাকাসহ ভিজিডির জন্য দুই কপি ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পুঙ্গু ছেলের জন্য ছবি দেন। কিন্তু ভিজিডি ও পুঙ্গু ভাতা পাওয়ার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশে ছালেহা বেগমের এবং পুঙ্গু ছেলে ওমর সাঈদের নাম না থাকায় তিনি ক্ষুব্ধ হন।

গত ১৭ এপ্রিল বুধবার ১ নম্বর ওয়ার্ডের দৌছড়ি ইউনিয়নের বাকঁখালী গ্রামের অভিযোগকারী ছালেহা বেগমের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি জানান, ভিজিডি কার্ড এবং পুঙ্গু ভাতার তালিকায় অর্ন্তভূক্ত করার কথা বলে আওয়ামীলীগে নেতা জালাল আহাম্মেদ বাছুরু তাঁর কাছ থেকে ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ এক হাজার টাকা নেন। পরে জানতে পারেন, তালিকায় তাঁর নাম নেই। এরপর তিনি উপজেলায় গিয়ে অভিযোগ দিয়েছেন।
তবে একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে একই গ্রামের আরও সাত-আটজন নারী। এরা হলেন নুর হোসেনের স্ত্রী দিলারা বেগম, মো,হোছাইনের স্ত্রী পারভীন আক্তার, মো, আব্দুলের স্ত্রী জুহুরা বেগম, ছলিম উল্লাহ,র স্ত্রী রাশেদা বেগম, মো আবু,র স্ত্রী ইসমতারা বেগমসহ আরও অনেকে। তবে ক্ষমতাসীন দলের নেতা হিসেবে ভয়ে তাঁরা লিখিত অভিযোগ করেননি।
গ্রামের রাশেদা বেগম, দিলারা বেগম,পারভীন আক্তার ও ইসমতারা বেগম জানান, ১নং ওয়ার্ডের নুরুল ইসলাম মেম্বারের সাথে চেয়ারম্যান হাবীব উল্লাহ,র দুরুত্ব থাকায় ইউপি চেয়ারম্যান বিভিন্ন সময়ে তাঁর লোক দিয়ে কাজ করে থাকেন। ভিজিডি কার্ড,পরিচয়পত্রে স্বামীর নাম ভূল সংশোধন, পুঙ্গু ভাতা পাওয়ার চুড়ান্ত তালিকায় অর্ন্তভূক্ত করার কথা বলে আওয়ামীলীগ নেতা জালাল আহাম্মেদ বাছুরু ধরাছোঁয়ার বাহিরে থেকে একই এলাকার নজির আহাম্মদ বাছুরু মাধ্যমে তাঁদের কাছে টাকা চেয়েছেন। তবে গত উপজেলা নির্বাচনে জালাল আহাম্মেদ বাছুরুর কথা মতো ভোট না দেয়ায় ভিজিডি ও পুঙ্গু ভাতার তালিকা ভূক্ত হতে পারেনি। এই যাবৎ টাকাও ফেরৎ দেওয়া হয়নি।
পুঙ্গু ওমর সাঈদ ভাতা পাওয়ার আশায় এবং চিকিৎসার অভাবে গত ২১ এপ্রিল রবিবার মারা যান সে।

তবে টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে জালাল আহাম্মেদ বাছুরু বলেন, চেয়ারম্যানের নির্দেশে তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন কাজ করেন। তবে ভিজিডি তালিকায় নাম উঠানো নামে টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করেন।
ইউপি চেয়ারম্যান হাবীব উল্লাহ বলেন, ভিজিডি কার্ড করার জন্য কোনো টাকা নেওয়া হয় না। নেওয়া হয়েছে ইউপি চৌকিদারী ট্রেক্সের টাকা। যাঁরা তালিকাভুক্ত হয়েছেন, কেউ এ ধরনের অভিযোগ করতে পারবেন না। কার্ড না পেয়ে এ ধরনের অভিযোগ অনেকে করতে পারেন।
ইউএনও সাদিয়া আফরিন কচি বলেন, অভিযোগ পেয়ে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুসকে সরজমিনে তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সত্যতা পেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষি অফিসার জানান, তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে ৬ মে সোমবার সরজমিনে গিয়ে সঠিক তথ্য নিয়ে নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে উপস্থাপন করবো।
অভিযোগকারী ছালেহা বেগম জানান, আমি অভিযোগ করেছি। তার তদন্ত কমিটি গঠনের কথাও শুনেছি। তবে আমাদের দাবী, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তার ঘরে বসে তদন্ত করবে তাতে সঠিক তদন্ত হবে কিনা সন্ধিহান।
————————-

Top