৪৮ ঘন্টার মধ্যে ইমনের হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবী

unnamed.jpg

দিদারুল আলম জিসান, কক্সবাজার :

উখিয়ার রত্নাপালং ইউনিয়ন পরিষদের ছয়বার নির্বাচিত মহিলা ইউপি সদস্যা পুতুল রানী বড়ুয়ার পুত্র সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইমন বড়ুয়াকে নৃশংস ভাবে হত্যাকারী খুনি সমিরণ ও খুনি দীপক বড়ুয়ার ফাঁসির দাবীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্টিত হয়েছে।

৩ মে শুক্রবার ঘুমধুমের বরইতলীর বাজারে ঘুমধুম ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কেমরাও তঞ্চজ্ঞ্যার সভাপতিত্বে প্রধান অথিতি হিসেবে বক্তব্যে রত্নাপালং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরী বলেন, রত্নাপালং ইউনিয়নে বারবার নির্বাচিত ইউপি সদস্য পুতুল রানী বড়ুয়ার একমাত্র পুত্র সন্তান তারুণ্যের প্রতিশিখা ইমন বড়ুয়াকে আদিম বর্বরতাকে হার মানিয়ে কুপিয়ে এমন নির্মম হত্যা ইতিহাসেই বিরল। খুনি সমিরণ ও খুনি দীপক বড়ুয়ার লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসী বাহিনীর হত্যাকান্ড ভয়ে কাঁপিয়ে তুলেছে রত্নাপালং ও ঘুমধুম ইউনিয়নসহ উখিয়া নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার মানুষকে। নির্মম হত্যায় শোকার্ত হয়ে কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারিদিকের পরিবেশ। ভয়ংকর এই সন্ত্রাসী বাহিনীকে আইনের আওতায় আনা না গেলে তাদের আতংক ছড়িয়ে এই দুই জনপদের আরো অনেক মায়ের বুক খালি, অনেক স্ত্রীকে স্বামী ও বোনকে ভাই হারা করে দিবে।

তিনি আরো বলেন, আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে খুনি সমিরণ ও খুনি দীপক বড়ুয়ার সহ তাদের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসী বাহিনীকে অবিলম্বে আইনের মাধ্যমে শাস্তির আওতায় দুই জনপদের নিরীহ মানুষ ও পুতুল রানীর বড়ুয়ার পরিবারকে আতংক মুক্ত করতে বান্দরবান জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, নাইক্ষ্যংছড়ির ইউএনও, অফিসার ইনচার্জকে অনুরোধ জানান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে রাখেন, উখিয়া উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ঈমাম হোসেন, উখিয়া যুবলীগের সহ সভাপতি কফিল উদ্দিন, উখিয়া যুবলীগের যুগ্ন সম্পাদক আবুল হোসেন আবু, উখিয়া আওয়ামীলীগের সদস্য আবুল ফজল মেম্বার, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আমানত উল্লাহ সাকিব, উখিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ নোমান।

তারা বলেন, ইমন বড়ুয়া ছিলেন অন্যায়ের প্রতিবাদী সাহসী তরূণ, তিনি সবসময় মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন। সম্ভ্যান্ত পরিবারের সন্তান পরিছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে তার সুখ্যাতি এতদঅঞ্চলে বিরাজমান ছিল। আজ অবধি থানায় কোন ধরনের কোনো মামলা বা অভিযোগ তার বিরুদ্ধে ছিলো না। এমন এক তরুণকে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করেছে খুনি সমিরণ ও খুনি দীপক বড়ুয়া। এই খুনী দীপক বড়ুয়া ও খুনি সমিরণ প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার করা পার্বত্য শান্তি চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কোটি কোটি টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছে। তাদের সন্ত্রাসী পেটুয়া বাহিনী পাহাড়কে অশান্ত করার চেষ্টার দরুণ জায়গা দখলের জন্য ইমন বড়ুয়াকে হত্যা করেছে।

বিশেষ বক্তারা আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় খুনী দীপক বড়ুয়া, খুনি সমিরণ বড়ুয়া ও তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী কে আইনের আওতায় আনা না গেলে খুন, ধর্ষণ, দখল, অপহরণ, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড লাগাম ছাড়া হয়ে উঠবে। তাই আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আইনের আওতায় আনা না হলে এই জনপদের হাজার হাজার শোকার্ত মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশের দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে। এইছাড়াও তারা বলেন, যেখানে খুনী দীপক বড়ুয়া, খুনি সমিরণ বড়ুয়া কে দেখা যাবে, সেখানে প্রশাসনকে খবর দিয়ে আইনের সোর্পদ করা হলে এক লাখ টাকার পুরুস্কার প্রদানের ঘোষনা দেন বক্তারা।

হত্যাকারীদের বিচার চেয়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষে শিক্ষক নেতা মেধু বড়ূয়া বলেন, মানুষকে পিটিয়ে পিটিয়ে নিরীহভাবে হত্যা করে এমন মানুষও বাংলাদেশে আছে তা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। এমন জঘন্য কেমন করে হলো খুনী দীপক বড়ুয়া ও খুনি সমিরণ বড়ুয়া। এমন খুনিদের বিচারের জন্য আজ বৌদ্ধ সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ। ইতিমধ্যে আমরা সারাদেশের বৌদ্ধ নেতৃবৃন্দের সাথে কথা হয়েছে যাতে এইসব খুনিরা কোনভাবে আশ্রয় না পায়। যারা এইসব খুনিদের আশ্রয় দিবেন তাদেরকে কক্সবাজারের ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন।

অশ্রুশিক্ত কন্ঠে নিহতের ইমনের পরিবারের পক্ষে চাচা পরিতোষ বড়ুয়া ও চাচাত ভাই আনিত্য বড়ুয়া বিচার দাবী করে বলেন, মানুষ মানুষকে বুলেট, ছুরি দিয়ে মেরে ফেলে, কিন্তু এত জঘন্যভাবে পিটিয়ে পিটিয়ে কেউ কাউকে হত্যা করে না। কি অপরাধ ছিলো ইমনের? ইমনের বাবাকে হত্যার শোক না কাটতেই সন্তান হারা হলেন রত্নাপালং ইউপি সদস্য পুতুল রানী। খুনি সমিরণ খুনি দীপক বড়ুয়া ও তাদের ডাইনোসরের দলের বিচার আমরা আপনাদের দিলাম। বাংলার মাটিতে যাতে তাদের স্থান আর না হয়। আমরা আইনের মাধ্যমে তাদের বিচার দাবী করছি।

এইসময় অনান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উখিয়ার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার পরিমল বড়ুয়া, এডভোকেট অনিল কান্তি বড়ুয়া, রত্নাপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৩ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক দিদার আলম, উখিয়া যুবলীগের সদস্য রহমত উল্লাহ, ঘুমধুম যুবলীগের যুগ্ন সম্পাদক জসিম উদ্দিন, ঘুমধুমের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবুল তঞ্চজ্ঞ্যা, প্রবীম নেতা আসাদ আলী ফকির প্রমুখ। এর আগে প্রতিবাদ সমাবেশে বিক্ষুব্ধ জনতা দীপক বড়ুয়া ও সমীরণ বড়ুয়া ফাঁসির দাবীতে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে যোগদান করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল উখিয়ায় সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুমে ইমন বড়ুয়া (৩৫) গাছ চিরাই করতে ঘুমধুম ইউনিয়নের সাবেক ইউ.পি চেয়ারম্যান দীপক বড়ুয়ার মালিকানাধীন স’মিলে যায়। জমির বিরোধের জেরে স’মিল মালিকের ছোট ভাই সমীরণ বড়ুয়া দলবল নিয়ে ইমনের উপর হামলায় চালায়। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় ইমনকে প্রথমে উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে ইমন বড়ুয়ার মৃত্যু হয়।।

Top