সাত কলেজের সংকট সমাধানে সিদ্ধান্ত ঢাবি প্রশাসনের

images41.jpg

সিনজাত রহমান সানি,ঢাবি :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের সংকট সমাধানে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের দাবি পর্যালোচনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজের বিকেন্দ্রীকরণ, শিক্ষার্থীদের সেশনজট নিরসন ও সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গত রোববার (২৮ এপ্রিল) উপাচার্য কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, ঢাবি বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন ও অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আজিজ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, সাত কলেজের অধ্যক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. বাহালুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার জানানো হয়, সভায় সাত কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেশনজটসহ বিভিন্ন সংকট সমাধানে ছয় দফা সিদ্ধান্ত নেয় ঢাবি প্রশাসন।

অধিভুক্ত সাত কলেজের সংকট সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত হলো, শিক্ষার্থীদের যে কোনো সমস্যা সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি করা হবে। সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের যে কোনো আবেদনের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ডেস্কে ( ডেডিকেটেড ডেস্ক) পাঠাবেন। পরীক্ষা/ভর্তি/ফলাফল/রেজিস্ট্রেশন প্রভৃতি সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য শিক্ষার্থীরা কলেজের অফিস থেকে জানতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে অধ্যক্ষ/কলেজ অফিস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত কলেজের ডেডিকেটেড ডেস্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডেপুটি রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট কলেজেই প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন। ফলে সময় ও শ্রম নষ্ট করে কোনো কাজের জন্য শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় অফিসে আসতে হবে না।

নম্বর স্থগিত ও সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীরা শর্তসাপেক্ষে পরবর্তী শ্রেণিতে (প্রিলিমিনারি/ মাস্টার্স শেষপর্ব) ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে সংশ্লিষ্ট শ্রেণির চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের আগে পূর্ববর্তী শ্রেণির অকৃতকার্য বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। যে সব শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে তাদের বিশেষ বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

পরীক্ষার ফলাফল দ্রুত প্রকাশের সুবিধার্থে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকেই সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকরা উত্তরপত্র সংগ্রহ করবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে নম্বর পরীক্ষা কমিটির সভাপতি/পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে তা জমা দেবেন। উত্তরপত্র স্ব-স্ব কলেজে নিজ দায়িত্বে সংরক্ষণ করবেন।

অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়নের জন্য সাত কলেজের অধ্যক্ষদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কবি নজরুল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকারকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার জমা দিতে কমিটিকে বলা হয়েছে।

মৌখিক পরীক্ষা দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করতে প্রতি কলেজে একটি করে ভাইভা বোর্ড গঠন করা হবে। একইভাবে ব্যবহারিক পরীক্ষাও বিকেন্দ্রীকরণ নীতিতে গ্রহণ করা হবে।

আগামী এক বছরের মধ্যে পরীক্ষকরা/বিভাগীয় প্রধান সব পরীক্ষার নম্বর অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরণ করবেন। পাশাপাশি উত্তরপত্র মূল্যায়নে কাগুজে পদ্ধতিও অনুসরণ করা হবে।

উল্লেখ্য, পাঁচ দফা দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা গত সপ্তাহের মঙ্গলবার ও বুধবার আন্দোলন করে। দাবি আদায়ে তারা রাজধানীর ব্যস্ততম সড়ক নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য দ্রুত সাত কলেজের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়।

Top