মানবিক মানুষই পারে আধুনিক পৃথিবী বিনির্মাণ করতে

58574786_313633029529293_7171285410704785408_n.jpg

———————-
বিখ্যাত দার্শনিক টমাস হবস বলেছিলেন,”মানুষ স্বভাবতই স্বার্থপর এবং আত্মকেন্দ্রিক। ” তবে পৃথবীতে স্বার্থান্বেষী মানুষের পাশাপাশি মানবিক বোধ সম্পন্ন মানুষও আছে। বর্তমান বিশ্বে আমেরিকার এককেন্দ্রিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৯১ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাওয়ার পর।

আফ্রিকার দেশ সোমালিয়াসহ কয়েকটি দেশে এতটাই খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে যে তারা
কাঁদা দিয়ে এক ধরনের খাবার তৈরি করে খায়। গোসল করার জন্য তারা পায় না পর্যাপ্ত পানি। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, জাপান, কোরিয়া,
যুক্তরাজ্যের মত দেশ যদি ঐসব দুর্ভিক্ষপীড়িত দেশকে খাদ্য দিয়ে সাহায্য করতো তাহলে মানবিকতার অনন্য উদাহরণ প্রতিষ্ঠিত হতো।

বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরে খাদ্যসহ নানা সামগ্রী দিয়ে সাহায্য করেছিল জাপান। আধুনিক পৃথিবী গড়তে হলে আমাদের মারামারি,হানাহানি, খুন,ধর্ষণ,জখম,ডাকাতি, রাহাজানি,ছিনতাই, গুম,পাচার,হত্যা,পতিতাবৃত্তি, ভিক্ষাবৃত্তি,
চুরি, সুদ খাওয়া,ঘুষ নেওয়া,বেহায়াপনা, বেলাল্লাপনা, ব্যভিচার, মিথ্যা বলা সহ যাবতীয় অনৈতিক এবং নৈতিকতাবিবর্জিত কাজ করা থেকে বেরিয়ে মানবিক চেতনা ধারণ করে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

একজন অন্ধ ব্যক্তি যিনি চোখে দেখেন না তাকে রাস্তা পার হওয়ার সময় আমরা একটু হাতটা ধরে এগিয়ে দিতে পারি। একজন মানুষ যিনি অভুক্ত অবস্থায় আছে তাকে আমরা একটু খাবারের ব্যবস্থা করে দিতে পারি, পথশিশু যারা পড়ালেখার সুযোগ পায় না তাদেরকে আমরা বিনামূল্যে পড়াশোনার ব্যবস্থা করতে পারি।

একজন অাঘাত পাওয়া ব্যক্তিকে আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে পাঠাতে পারি। একজন ভূমিহীন মানুষকে সরকারের খাস জমিতে আবাসনের ব্যবস্থা করে দিতে পারি। একজন মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচানোর জন্য আমরা রক্ত দিতে পারি। এভাবে আমরা সবাই আমাদের নিজ অবস্থান থেকে মানবিক হয়ে সহযোগিতা করতে পারি।

মানবিকতার দিক দিয়ে বাংলাদেশ অনন্য ভূমিকা পালন করে। মায়ানমারের প্রায় ১৪ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলিম শরনার্থীদের জায়গা দিয়ে মানবিকতার নজির গড়েছে বাংলাদেশ। তেমনিভাবে বিভিন্ন দেশ যেমন- সিরিয়া,আফগানিস্তানসহ অন্যান্য দেশের শরনার্থীদের জায়গা দিয়ে বিশ্বে নজির গড়েছে তুরস্ক। তুরস্ক সরকার শরনার্থীদের জায়গা দিয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে স্থপন করেছেন।

“লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প ” খ্যাত ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল সাররাত জেগে তার অসুস্থ রোগীদের সেবা-শুশ্রূষা করে পরবর্তীতে নিজেই তিনি ভয়াবহ রোগে অসুস্থ হয়ে মারা যান যেটি মানবতার চূড়ান্ত উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে ইতিহাসে জায়গা দখল করে আছে। মেসিডোনিয়ার স্কোপজে শহরের মাদার তেরেসা ভারতীয় উপমহাদেশে এসে মানুষের সেবা করে মানবিকতার ইতিহাস রচনা করে গেছেন। হাজী মুহম্মদ মহসীন তার সমস্ত সম্পদ এমনকি তাকে উপহার দেওয়া তার বোনের সম্পত্তিও তিনি বিক্রয় করে অসহায় গরীব-দুঃখী মানুষের মাঝে অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন। বর্তমান বিশ্বের উগ্র রাজনীতি এবং ধর্মীয় সংঘাতের ফলাফল ভোগ করছে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো। তাই আসুন,আমরা নিজেদের অবস্থান থেকে মানবিক হয়ে মানুষের সহযোগিতার করি এবং আধুনিক বিশ্ব গড়ে তুলি।
——————-
মোঃ ওসমান গনি শুভ
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Top