ভাস্কর্যে বাংলার ইতিহাস

IMG_20190428_112041.jpg

—————–
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভাস্কর্য হল “স্বাধীনতা সংগ্রাম ভাস্কর্য”।
এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফুলার রোডে সলিমুল্লাহ হল, জগন্নাথ হল ও বুয়েটসংলগ্ন সড়ক দ্বীপে বাংলাদেশের ইতিহাসের ধারক স্বাধীনতা সংগ্রাম ভাস্কর্যটি স্থাপিত। এখানে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাসের গর্বিত সন্তানদের স্তম্ভ।স্বাধীনতা সংগ্রাম ভাস্কর্যটি বাঙালি জাতির গৌরবোজ্জ্বল সংগ্রামের ইতিহাসকে ধারণ করে নির্মিত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভাস্কর্য।এই ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেন শামীম শিকদার। ভাস্কর শামীম শিকদার ১৯৮৮ সালে ফুলার রোডে অবস্থিত সেকেলে বাংলো স্টাইলের বাড়ির সামনে পরিত্যক্ত জায়গায় ‘অমর একুশে’ নামে একটি বিশাল ভাস্কর্য নির্মাণ শুরু করেন। ১৯৯০ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক ঘরোয়া পরিবেশে মরহুম অধ্যাপক আহমদ শরীফ এটি উদ্বোধন করেন। ১৯৯৮ সালে ওই স্থানে উদয়ন স্কুলের নতুন ভবন নির্মাণ শুরু হলে ভাস্কর্যটি স্থানান্তরের প্রয়োজন হয়। ভাস্কর্যটি সড়কদ্বীপে এনে রাখা হয়। পরে ভাস্কর শামীম শিকদার ওই ভাস্কর্যটির অবয়ব পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’ নাম দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের আলোকে নতুনভাবে নির্মাণ করেন। একই সাথে সড়কদ্বীপটিকেও তিনি নিজের মনের মতো গড়ে তোলেন। ১৯৯৯ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটি উদ্বোধন করেন।
‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’ ভাস্কর্যটি বাঙালি জাতির গৌরবোজ্জ্বল সংগ্রামের ইতিহাসকে ধারণ করে নির্মিত। এ ভাস্কর্যটি মহান ভাষা অন্দোলন থেকে শুরু করে ’৬৬-র স্বাধিকার আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭১-এর ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা সংগ্রামের আহ্বান, ২৫ মার্চের কালরাত, ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বাধীনতা ঘোষণা, ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। বিভিন্ন আন্দোলনে নিহত হয়েছেন এমন ১৮ জন শহীদের মুখাবয়ব দিয়ে পুরো ভাস্কর্য নির্মিত। সবার নিচে ভাষা শহীদের ভাস্কর্য এবং সবার উপরে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য। এ ভাস্কর্যে তুলে ধরা হয়েছে লাখ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার প্রতীক আমাদের লাল সবুজের পতাকা।এছাড়াও
মূল ভাস্কর্য স্বাধীনতা সংগ্রামকে ঘিরে রয়েছে দেশ-বিদেশের শতাধিক কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক, বিপ্লবী, রাজনীতিক, বিজ্ঞানীর আবক্ষ মোট ১১৬টি ভাস্কর্য। এসব ভাস্কর্যের কোনোটি একক, কোনোটি যুক্ত। এর সবই শামীম সিকদারের গড়া। কারো কারো ভাস্কর্য অপূর্ব ভঙ্গিমায় উপস্থাপিত। এখানে বঙ্কিমচন্দ্র, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, জগদীশ চন্দ্র বসু, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, লালন, কাজী নজরুল ইসলাম, সুকান্ত ভট্টাচার্য, ড. মো: শহীদুল্লাহ, শিল্পী সুলতান, জিসি দেব, সুভাসচন্দ্র বসু, কামাল আতাতুর্ক, মহাত্মা গান্ধী, রাজা রামমোহন রায়, মাও সে তুং, ইয়াসির আরাফাত, কর্নেল ওসমানী, তাজউদ্দীন আহমদ, সিরাজ সিকদার প্রমুখের প্রতিকৃতি রয়েছে। ভাস্কর শামীম শিকদারেরও দুটি প্রতিকৃতি রয়েছে। আরো রয়েছে একটি হাতির চিত্তাকর্ষক ভাস্কর্য।যা একটি জাতীর ইতিহাসকে তুলে ধরে।সব ভাস্কর্যের রং শ্বেত শুভ্র। শ্বেত বর্ণের এ ভাস্কর্যের উচ্চতা ৭০ ফুট, পরিসীমা ৮৫.৭৫ ফুট। একটি গোলাকার ফোয়ারার মাঝখানে এটি উপস্থাপিত। মূল ভাস্কর্য ছাড়া অন্য ভাস্কর্যগুলোর গড় উচ্চতা ৩-৪ ফুট।নতুন প্রজন্মের কাছে সহজেই বাংলার ইতিহাস কে তুলে ধরার জন্য “স্বাধীনতা সংগ্রাম ভাস্কর্য”গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

———-
নুর হোসেন জুয়েল
শিক্ষার্থী
শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (২য় বর্ষ)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Top